শঙ্করাচার্য স্বামী অভিমুক্তেশ্বরানন্দ সরস্বতীর সঙ্গে বিজেপির শীর্ষ নেতাদের গোলমাল নতুন নয়। পহেলগাঁওয়ে জঙ্গি হামলা নিয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে কাঠগড়ায় তুলছিলেন উত্তরাখণ্ডের জ্যোতির্মঠের আধ্যাত্মিক প্রধান। এবার উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথের সঙ্গে টানাপোড়েন চরমে পৌঁছাল। এর জেরে ইস্তফা দিলেন অযোধ্যার এক আমলা প্রশান্তকুমার সিং। তাঁর দাবি, মুখ্যমন্ত্রী, প্রধানমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, সংবিধান এবং গণতন্ত্রের সমর্থনে ইস্তফা দিয়েছেন। ব্যাপারটা কী?
যোগীর সঙ্গে গোলমালের সূত্রপাত মাঘমেলায় প্রয়াগরাজ সঙ্গমে স্নান নিয়ে। শঙ্করাচার্য এবং তাঁর অনুগামীদের অভিযোগ, শঙ্করাচার্য রথে চেপে স্নানে যেতে গেল রথযাত্রায় বাধা দেওয়া হয়। যোগীর নির্দেশে বাকি পুণ্যার্থীদের মতো শঙ্করাচার্যকেও হেঁটে যেতে বলা হয়। এই 'অপমান' মেনে নিতে পারেননি আধ্যাত্মিক গুরু। শুরু হয় যোগীর সঙ্গে বিতণ্ডা। এর পরেই শঙ্করাচার্যকে একটি নোটিস ধরায় প্রয়াগরাজ মেলা কর্তৃপক্ষ। সেখানে সুপ্রিম কোর্টের একটি মামলা উল্লেখ করে বলা হয়, যত দিন না ওই মামলার নিষ্পত্তি হচ্ছে, তত দিন কোনও ধর্মীয় নেতাকে জ্যোতিষ পীঠের শঙ্করাচার্য হিসেবে ঘোষণা করা যাবে না।
যোগীর সঙ্গে গোলমালের সূত্রপাত মাঘমেলায় প্রয়াগরাজ সঙ্গমে স্নান নিয়ে।
কোন্দল বড় আকার ধারণ করে, যখন ইউজিসি (বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন)-এর নতুন নীতির সমালোচনা করেন শঙ্করাচার্য সরস্বতী। ইউজিসি-র নতুন নীতি অনুসারে, তফসিলি জাতি, উপজাতি, অনগ্রসর শ্রেণির পড়ুয়াদের অভিযোগ খতিয়ে দেখার জন্য নতুন কমিটি গঠন করতে হবে। থাকবে হেল্পলাইনও। শঙ্করাচার্য দাবি করেন, এই নীতি আসলে এক জাতিকে আরেক জাতির বিরুদ্ধে লড়িয়ে দিচ্ছে। নতুন নীতি প্রত্যাহারের দাবি জানান তিনি। এখানেই না থেমে শঙ্করাচার্য বলেন, এই নীতির কারণে হিন্দুধর্মের ‘ক্ষতি’ হবে।
শঙ্করাচার্য গেরুয়া লাইনে হেঁটেই যোগীর বিরুদ্ধাচারণ করার পরেই যোগীকে সমর্থন করে মঙ্গলবার ইস্তফা দিলেন অযোধ্যার জিএসটি কমিশনার প্রশান্তকুমার সিং। তিনি বলেন, "মুখ্যমন্ত্রী, প্রধানমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, সংবিধান, গণতন্ত্রের সমর্থনে আমি ইস্তফা দিলাম।" তিনি দাবি করেন, মুখ্যমন্ত্রীর উদ্দেশেই এই মন্তব্য করেছেন শঙ্করাচার্য। অভিমুক্তেশ্বরানন্দের মন্তব্যে তিনি 'ব্যথিত'। অন্যদিকে যোগী সরকার তাঁর 'অন্নদাতা'। ইউজিসির নীতি নিয়ে রাজনীত হচ্ছে বলেও মন্তব্য করেন প্রশান্তকুমার।
