shono
Advertisement
Himanta Sarma Biswa

মিয়াঁদের ভোটদান আটকেছেন, অসমে SIR হলে ৪ লক্ষ মিয়াঁ বাদ যাবে, হিমন্তের মন্তব্যে বিতর্ক

Assam SIR: অসমে এসআর-এ ইতিমধ্যে বাদ পড়েছে ১০ লক্ষের বেশি মানুষ। এর পরেও মিয়াঁদের নিয়ে হিমন্তের বক্তব্য তাৎপর্যপূর্ণ।
Published By: Kishore GhoshPosted: 06:30 PM Jan 28, 2026Updated: 07:06 PM Jan 28, 2026

বিহারে হয়েছে। পশ্চিমবঙ্গে চলছে বিশেষ নিবিড় সংশোধনী বা SIR। হিমন্ত বিশ্ব শর্মার দাবি, অসমে এসআইআর হলে কমপক্ষে ৪ লক্ষ মিয়াঁ ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়বে। উল্লেখ্য, অসমে এসআইআর না হলেও বিশেষ সংশোদন বা এসআর শুরু করেছে কমিশন। ইতিমধ্যে তাতে বাদ পড়েছে ১০ লক্ষের বেশি মানুষ। এর পরেও হিমন্তের (Himanta Sarma Biswa) বক্তব্য তাৎপর্যপূর্ণ।

Advertisement

এক মাস বাদেই অসমে ভোট। দ্বিতীয়বার ক্ষমতায় আসার জন্য প্রস্তুত হচ্ছেন হিমন্ত। এদিন তিনি বলেন, "মিয়াঁরা যাতে ভোট দিতে না পারে, তার জন্য ব্যবস্থা নিয়েছি আমার। তবে এটা ছিল প্রাথমিক পর্যায়ের কাজ। যখন অসমে এসআইআর হবে তখন ৪-৫ লক্ষ মিয়াঁ ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়বে।" যোগ করেন, "কংগ্রেস আমাকে যতই হেনস্তা করুক। আমার কাজ হল মিয়াঁদের সমস্যায় ফেলা। ওরা সমস্যায় না পড়লে দুলিয়াজান, তিনসুকিয়ায় চলে আসবে। ক'দিন আগে তিনসুকিয়ার একটি জমি হস্তান্তরের তালিকা হাতে এসেছে। হিন্দুর সম্পত্তি বিক্রি করছে, মিয়াঁ মুসলিমরা কিনে নিচ্ছে। এখনই যদিও খেয়াল না করি, কখন করব।"

অসমে বাংলাদেশি শরণার্থীর সমস্যা দীর্ঘদিনের। দেশের সীমান্ত রাজ্য হওয়ায় কয়েক দশক ধরে অনুপ্রবেশ ঘটে চলেছে সে রাজ্যে। অসমিয়া-বাংলাভাষি দ্বন্দ্ব, মুসলিমদের নিয়ে কোন্দল নতুন নয়। ইদানীংকালে বাংলাদেশের অস্থিরতায় নতুন করে অনুপ্রবেশের সম্ভাবনা বাড়ছে। এই অবস্থায় সীমান্তে বিশেষ নজরদারি চালানো হচ্ছে বলেও জানিয়েছেন হিমন্ত বিশ্ব শর্মা।

এক মাস বাদেই অসমে ভোট। দ্বিতীয়বার ক্ষমতায় আসার জন্য প্রস্তুত হচ্ছেন হিমন্ত।

প্রসঙ্গত, SIR এবং SR-এর মূল পার্থক্য হল প্রথম ক্ষেত্রে প্রত্যেক ভোটারের সশরীরে শনাক্তকরণ প্রয়োজন হয়। দ্বিতীয় ক্ষেত্রে সেটার প্রয়োজন নেই। এটা অনেকটা ঐচ্ছিক। কোনও ভোটার নিজে থেকে তালিকায় নাম সংযোজন বা বিয়োজনের আবেদন করলে সেটাই যাচাই করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল কমিশন। সব মিলিয়ে অসমের ৬১,০৩,১০৩টি বাড়িতে ২২ নভেম্বর থেকে ২০ ডিসেম্বর পর্যন্ত বিশেষ সংশোধন প্রক্রিয়া ও নাম যাচাই পর্ব চলেছে। এই প্রক্রিয়ায় ৩৫টি জেলার নির্বাচন আধিকারিক, ১২৬টি বিধানসভা কেন্দ্রের ইআরও, ২৯,৬৫৬ বুথ লেভেল অফিসার এবং ২,৫৭৮ বিএলও সুপারভাইজার অংশ নিয়েছেন।

শেষ পর্যন্ত ভোটমুখী রাজ্যটিতে বিশেষ সংশোধনে বাদ পড়েছে ১০ লক্ষ ৫৬ হাজার ২৯১ জন ভোটারের নাম। নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, এদের মধ্যে ৪,৭৮,৯৯২ জন মারা যাওয়ায় নাম বাদ গিয়েছে। ৫,২৩,৬৮০ জনের নাম ঠিকানা পরিবর্তনের কারণে এবং ৫৩,৬১৯ জনকে একাধিক স্থানে নাম থাকা বা একাধিক বার নাম এন্ট্রি হওয়ার ফলে তালিকা থেকে সরানো হয়েছে। খসড়া তালিকা অনুযায়ী, রাজ্যে মোট ভোটার সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২,৫১,০৯,৭৫৪ জনে। তবে এর মধ্যে ৯৩,০২১ জন সন্দেহভাজন বা ডি-ভোটারের নাম অন্তর্ভুক্ত নয়। যদিও মূল খসড়ায় ওই ডি-ভোটারদের নাম রাখা হয়েছে। কারণ নাগরিকত্ব নিয়ে তাঁদের মামলাগুলির শুনানি চলছে ফরেনার্স ট্রাইব্যুনালে। তাই রায় না আসা পর্যন্ত তাঁদের নাম সংশোধন, সংযোজন, বিয়োজন কিছুই করতে পারবে না কমিশন।

বিরোধীদের আশঙ্কা, সরকারি তন্ত্রকে কাজে লাগিয়ে বিরোধী শিবিরের ভোটে কাঁচি করার চেষ্টা করছেন হিমন্ত। তাছাড়া সদ্যই লোকসভা ও বিধানসভা ভিত্তিক সীমানা পুনর্বিন্যাস হয়েছে অসমে। তাতে অনেক ভোটারের নাম একাধিক কেন্দ্রে থাকার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছিল। বহু ভোটারের নাম দু’জায়গা থেকেই কাটা পড়েছে। যদিও কমিশন বলছে, এই তালিকা পুরোপুরি স্বচ্ছ্ব। সরকারিভাবে কোনও অভিযোগ জমা পড়েনি।

Sangbad Pratidin News App

খবরের টাটকা আপডেট পেতে ডাউনলোড করুন সংবাদ প্রতিদিন অ্যাপ

হাইলাইটস

Highlights Heading
Advertisement