শুধু স্কুল বাড়ানো নয়, লক্ষ্য এখন গুণগত মান এবং আধুনিক প্রযুক্তিতে শিক্ষা দান। শুক্রবার উত্তরপ্রদেশ বিধানসভায় ২০২৬-২৭ অর্থবর্ষের বাজেট আলোচনার সময় এই বার্তাই দিলেন মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ। রাজ্যের শিক্ষা ব্যবস্থার আমূল সংস্কারে একগুচ্ছ নতুন প্রকল্পের পাশাপাশি শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মীদের কল্যাণে বড় ঘোষণা করলেন তিনি। আগামী এপ্রিল মাস থেকেই রাজ্যের শিক্ষামিত্রদের সাম্মানিক বেড়ে হচ্ছে ১৮ হাজার টাকা। ইনস্ট্রাক্টররা পাবেন ১৭ হাজার টাকা।
এদিন মুখ্যমন্ত্রী জানান, শিক্ষামিত্রদের সাম্মানিক এক সময় ছিল মাত্র ৩ হাজার টাকা। তাঁর সরকার তা ধাপে ধাপে বাড়িয়েছে। সাম্মানিক বৃদ্ধির পাশাপাশি শিক্ষক ও তাঁদের পরিবারের জন্য ৫ লক্ষ টাকা পর্যন্ত ক্যাশলেস চিকিৎসার সুবিধাও ঘোষণা করা হয়েছে। নারীশিক্ষায় জোর দিতে যে সব ব্লকে এখনও ‘কস্তুরবা গান্ধী বালিকা বিদ্যালয়’ নেই, সেখানে নতুন স্কুল গড়তে ৫৮০ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে। ছাত্রীদের জন্য স্যানিটারি ন্যাপকিন বিলিতে খরচ হবে ৩০০ কোটি টাকা। এ ছাড়াও মেধাবী ছাত্রীদের স্কুটি দেওয়ার জন্য ‘রানি লক্ষ্মীবাই স্কুটি যোজনা’র অধীনেও বিশেষ তহবিল রাখা হয়েছে।
উচ্চশিক্ষার প্রসারে সাহারানপুর, আলিগড়, আজমগড়-সহ একাধিক বিভাগে নতুন বিশ্ববিদ্যালয় গড়া হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী দাবি করেন, তাঁদের আমলেই রাজ্যে পেটেন্ট ফাইলিংয়ের সংখ্যা কয়েক গুণ বেড়েছে। উচ্চশিক্ষায় গবেষণার জন্য প্রতিটি বিশ্ববিদ্যালয়কে আলাদা করে টাকা দেওয়া হবে। পাশাপাশি গ্রেটার নয়ডায় বিদেশের ‘ওয়েস্টার্ন সিডনি ইউনিভার্সিটি’র ক্যাম্পাস গড়ার কাজও অনেকটা এগিয়েছে বলে তিনি জানান। ডিজিটাল ক্ষমতায়নে জোর দিতে প্রাথমিক স্কুলগুলিতে স্মার্ট ক্লাস তৈরির জন্য ৩০০ কোটি টাকা বরাদ্দ করেছে যোগী সরকার। মুখ্যমন্ত্রীর কথায়, এই বাজেট উত্তরপ্রদেশকে আগামী দিনে জ্ঞান ও উদ্ভাবনের পীঠস্থান হিসেবে গড়ে তুলবে।
