সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: ২ মাসের যুদ্ধবিরতি চুক্তি শেষ হতেই গাজায় ফের হামাসের বিরুদ্ধে দাঁত-নখ বের করল ইজরায়েল। মঙ্গলবার গাজার মাটিতে বেলাগাম বিমান হামলা চালাল ইজরায়েল। এই হামলায় ৩০০'র বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে বলে জানা যাচ্ছে। পাশাপাশি আহত হয়েছেন আরও অনেকে। সব মিলিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের তরফে মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ থামানোর উদ্যোগ আপাতত জলে গেল বলেই মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।

ট্রাম্পের উদ্যোগে গত জানুয়ারি মাসের মাঝামাঝি সময়ে হামাসের সঙ্গে সংঘর্ষবিরতি চুক্তি করে ইজরায়েল। কথা ছিল, এই যুদ্ধবিরতির বিনিময়ে হামাসের হাতে বন্দি নাগরিকদের মুক্তি দেবে হামাস। সেইমতো বহু পণবন্দিকে মুক্তিও দেওয়া হয়। তবে ইজরায়েলের অভিযোগ সকল পণবন্দিকে মুক্তি দেওয়া হয়নি। শুধু তাই নয় মার্কিন প্রস্তাবও প্রত্যাখ্যান করেছে হামাস। যার জেরেই এই হামলা। মঙ্গলবার কাকভোরে গাজায় বিমান হামলায় ৩৩০ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। ইজরায়েলের অবশ্য দাবি, গাজায় হামাসের ঘাঁটি লক্ষ্য করেই এই হামলা চালানো হয়েছে।
এই হামলার পর হামাসের তরফে জানানো হয়েছে, ইজরায়েল একতরফা ভাবে সংঘর্ষবিরতি চুক্তি ভেঙেছে। জানা যাচ্ছে, এই হামলায় হামাসের নিরাপত্তা আধিকারিক মেহমুদ আবু ওয়াতফার মৃত্যু হয়েছে। সংবাদ সংস্থা রয়টর্স সূত্রে জানা যাচ্ছে, এই হামলায় বহু শিশু-সহ অন্তত ৩৩০ জনের মৃত্যু হয়েছে। হামলা চলেছে মধ্য গাজার ডের আল-বালাহ, গাজা সিটি, খান ইউনুস ও রাফা-সহ আরও একাধিক জায়গায়।
প্রসঙ্গত, দীর্ঘ জটিলতার পর কাতার, মিশর ও আমেরিকার উদ্যোগে সম্পন্ন হয়েছিল গাজা ও ইজরায়েলের মধ্যে যুদ্ধবিরতি চুক্তি। যদিও একেবারে শেষ মুহূর্তে হামাসের তরফে বন্দিদের নামের তালিকা না দেওয়ায় বেঁকে বসেন নেতানিয়াহু। এরপর নামের তালিকা প্রকাশ করা হয় হামাসের তরফে। শেষপর্যন্ত দীর্ঘ ১৫ মাস ধরে চলতে থাকা রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের অবসান হয়েছিল সাম্প্রতিক ইজরায়েল-হামাস যুদ্ধবিরতির চুক্তিতে। কথা ছিল ধাপে ধাপে বাড়বে চুক্তির মেয়াদ। তবে তার আগেই গাজার মাটিতে হামলা চালিয়ে বসল ইজরায়েল। উল্লেখ্য, এই যুদ্ধে বেসরকারি মতে নিহতের সংখ্যা এক লক্ষ ছাড়িয়েছে। এর মধ্যে শিশুর সংখ্যা প্রায় ২০ হাজার। যদিও সরকারি হিসেবে তা ৬১ হাজারের কিছু বেশি। এর মধ্যে গাজাতে মৃত্যু হয়েছে ৪৮ হাজার। জখম ১ লক্ষেরও বেশি।