'আপনারা যদি নিজের কাজ না করেন, তাহলে দল রাখবে না।’ বিএলএ২ বৈঠকে এমনই কড়া বার্তা দিলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। বাংলায় এসআইআর প্রক্রিয়া শুরুর পরপরই প্রতি বুথে সহায়তা ক্যাম্প করেছে তৃণমূল কংগ্রেস। কেন্দ্রভিত্তিক 'ওয়ার রুম'ও তৈরি করা হয়েছে। কিন্তু কিছু কিছু জায়গার কাজ নিয়ে সন্তুষ্ট নন তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক। এমনই তৃণমূলের অন্দরের খবর। এই আবহে আজ, শনিবার বিএলএ২-দের নিয়ে ভারচুয়াল বৈঠক করেন ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ।
বাংলায় এসআইআর প্রক্রিয়া শুরুর সঙ্গে সঙ্গেই পথে নেমে পড়েছে রাজ্যের শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেস। সাধারণ মানুষের যাতে এসআইআরের ফর্ম ফিলআপ-সহ অন্যান্য বিষয়ে কোনও সমস্যা না হয়, সেজন্য প্রতি বুথে সহায়তা ক্যাম্প করা হয়েছে। এছাড়াও কেন্দ্রভিত্তিক 'ওয়ার রুম'ও তৈরি করা হয়েছে। কিছু ওয়ার রুমের কাজকর্ম নিয়ে কি সন্তুষ্ট নন অভিষেক? সেই প্রশ্ন এদিন উঠেছে। কিছু সাংসদ, বিধায়ক ও তৃণমূল নেতারা সেখানে সময় ঠিকমতো দিচ্ছেন না বলে অভিযোগ উঠেছিল। এদিনের বৈঠকে সেই বিষয়টিও সামনে আনেন অভিষেক। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, "আপনারা যদি নিজের কাজ না করেন, দল আপনাদের পাশে থাকবে না।"
"সংসদের অধিবেশনে এক-দু’দিন যান, বাকি সময়টা নিজের এলাকায় কাটান। আত্মতুষ্টি আর অতিরিক্ত আত্মবিশ্বাসের কোনও জায়গা নেই।"
ক্ষুব্ধ অভিষেকের কথায়, "আপনাকে যদি কোনও দায়িত্ব দেওয়া হয়, আর আপনি ভাবেন কাজ করবেন না, তিনি এমএলএ হোন বা এমপি, যেই হোন না কেন, আপনি যদি নিজের দায়িত্ব পালন না করেন, দল আপনার পাশে দাঁড়াবে না। সংসদের অধিবেশনে এক-দু’দিন যান, বাকি সময়টা নিজের এলাকায় কাটান। আত্মতুষ্টি আর অতিরিক্ত আত্মবিশ্বাসের কোনও জায়গা নেই।" তিনি আরও বলেন, "যাঁরা ‘ধীরে চলো’ নীতিতে বিশ্বাস করেন, তাঁদের বলছি, জেগে উঠুন। দিল্লি ও হরিয়ানায় যা করেছে, এখানেও তাই করবে।" অভিষেকের কথায়, "আমাদের ওয়ার রুমগুলি যদি ঠিকমতো কাজ না করে, বিজেপি এই কাজ পুরোমাত্রায় চালিয়ে যাবে।"
ভারচুয়াল বৈঠকে এদিন দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক আরও বলেন, "ফর্ম ৭-এর মাধ্যমে আমরা তাঁদের ধরেছি। অনেক জায়গায় বিজেপি গুচ্ছ ফর্ম ৭ জমা দিয়ে সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেসকে ভোট দেওয়া মানুষদের নাম বাদ দেওয়ার চেষ্টা করেছে। হরিয়ানা ও মহারাষ্ট্রেও তারা একই কাজ করেছে। আমরা সতর্ক ছিলাম বলেই ধরতে পেরেছি। আমাদের কর্মীরা বহু জায়গায় তাঁদের ধরে প্রতিরোধ করেছেন।" অভিষেকের বার্তা, "দলের জন্যই আপনি এমএলএ বা এমপি হয়েছেন। যাঁরা এমপি, তাঁদের প্রয়োজনে নিজের পকেটের টাকা খরচ করতে হবে। মানুষের জন্য লড়াই করতে হবে। অন্যান্য দলের মতো আমরা আপনাদের কাছ থেকে দলের তহবিলে ৫০ শতাংশ দিতে বলি না।"
