দলের বরাবরের একনিষ্ঠ কর্মী। বাংলাজুড়ে 'শূন্য' মার্কশিটে হতাশ না হয়ে দ্বিগুণ উদ্যমে কাজ করে গিয়েছেন 'গাঁয়ের ছেলে'। কিন্তু সম্প্রতি যে দলকে ছাতার মতো ভেবে কাজকর্ম চালাচ্ছিলেন, সেই ছাতা আর তেমন ভরসাযোগ্য নেই বলে মনে হচ্ছে তাঁর। তাই দলের সদস্যপদ ছাড়তে চেয়ে সোজা শীর্ষ নেতৃত্বকেই চিঠি পাঠিয়েছেন লালপার্টির তরুণ নেতা প্রতীক উর রহমান। ছাড়ছেন জেলা ও রাজ্য কমিটির দায়িত্বও। ছাব্বিশের ভোটের মুখে ডায়মন্ড হারবারের নেতার এই সিদ্ধান্ত নিয়ে যথেষ্ট আলোচনা শুরু হয়েছে বঙ্গ রাজনীতিতে। আর এই পরিস্থিতিতে প্রতীকের নাম না করে ইঙ্গিতপূর্ণ পোস্ট করলেন বামমনোভাবাপন্ন অভিনেত্রী উষশী চক্রবর্তী। তাঁর পোস্টে লেখা - 'জয় পরাজয় এর থেকে মেরুদন্ড সোজা রাখা টা অনেক বেশি important এখনও। আমরা যাদের কে অ্যাসেট ভাবি আশা করব তাদের কাছেও।'
প্রতীক উর রহমান। ফাইল ছবি
প্রতীক উর সিপিএমের সদস্যপদ ছাড়তে চেয়ে আলিমুদ্দিনে চিঠি পাঠানোর পরপরই প্রয়াত সিটু নেতা শ্যামল চক্রবর্তীর মেয়ের ফেসবুক পোস্ট যথেষ্ট সংকেতবাহী। পোস্টে উষসী মাও সেতুং, নেপালদেব ভট্টাচার্যের নাম উল্লেখ করার পাশাপাশি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কাব্যনাটক 'কর্ণকুন্তী সংবাদ' প্রসঙ্গও তুলেছেন। লিখেছেন, 'অনেক দিন আগে নেপাল দা (নেপাল দেব ভট্টাচার্য) পার্টি থেকে এক্সপেল্ড হয়ে নাকি বলেছিলেন “বাবা ছেলে কে ত্যাজ্য করলে ই বা ছেলে কি বাবা কে ত্যাজ্য করে? জাস্ট মনে পড়ে গেল। শুনেছি স্বয়ং মাও সেতুং বহুবার চীনা কমিউনিস্ট পার্টি থেকে এক্সপেল্ড হয়ে গেছিলেন। আর প্রতিবারই এক্সপেল্ড অবস্থায় পার্টির মিছিলের শেষে ওনাকে হাঁটতে দেখা গেছিল।'
এরপরই তিনি 'কর্ণকুন্তী সংবাদ'-এর কথা লিখেছেন। পোস্টে লেখা - 'বাবা কর্ণকুন্তী সংবাদ পড়াতে পড়াতে শিখিয়েছিলেন - “জয়লোভে জয়লোভে রাজ্যলোভে অয়ি/বীরের সদগতি থেকে ভ্রষ্ট নাহি হই'' - রবীন্দ্রনাথের এই বিখ্যাত উক্তি না ভুলে যেতে! আমদের মত কিছু বোকা লোকের কাছে জয় পরাজয় এর থেকে মেরুদন্ড সোজা রাখা টা অনেক বেশি important এখনও। আমরা যাদের কে অ্যাসেট ভাবি আশা করব তাদের কাছেও।' আর উষশীর পোস্টের শেষাংশেই স্পষ্ট সমালোচনার সুর।
বামপন্থী মিছিলে উষশী চক্রবর্তী। ছবি: ফেসবুক।
প্রতীক উর রহমান, সৃজন ভট্টাচার্য, দীপ্সিতা ধররা আসলে বঙ্গ সিপিএমের নবপ্রজন্ম। দলের নানা কাজের সঙ্গে যুক্ত থাকার পাশাপাশি সংসদীয় গণতন্ত্রের ময়দানে লড়াইয়ের অভিজ্ঞতাও রয়েছে তাঁদের সকলের। আদর্শ থেকে পক্ককেশ কমরেডরা বেশ খানিকটা তফাৎ গেলেও তরুণরা এখনও নীতি আঁকড়ে কাজে বিশ্বাসী। বিশেষত প্রতীক উরের মতো গাঁয়ের ছেলে মাঠে-ময়দানে যেভাবে কাজ করে এসেছেন, তা কমরেডকুলের 'অ্যাসেট'ই বটে! তাঁর সিপিএম ত্যাগের সিদ্ধান্তের পর যেভাবে অন্য রাজনৈতিক দলে যোগদানের জল্পনা তৈরি হয়েছে, তার পরিপ্রেক্ষিতেই হয়তো উষশীর এই পোস্ট। প্রতীককে তিনি মনে করিয়ে দিয়েছেন যে জয়-পরাজয়ের থেকে মেরুদণ্ড সোজা রাখা এখনও অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ। আসলে পারিবারিক সূত্রে উষশী নিজেও বামপন্থী, রাজনৈতিক সচেতন মানুষ। এনিয়ে তাঁর নিজস্ব ভাবনাচিন্তা রয়েছে। আর তাই প্রতীক উর রহমানের এহেন সিদ্ধান্তে উষশী নিজের হতাশাই প্রকাশ করলেন।
