শুরুর দুদিনের মধ্যেই প্রকল্পে ব্যাপক সাড়া। ‘স্বনির্ভর বাংলা’ শিবিরে আবেদন জমা পড়ল ১৬ লক্ষেরও বেশি। যার মধ্যে সব থেকে বেশি আবেদন করা হয়েছে ‘যুবসাথী’ (Yuva Sathi) প্রকল্পের আর্থিক সুবিধা পেতে। অন্যদিকে, রবিবার রাত ১২টা থেকে ‘যুবসাথী’ প্রকল্পের আবেদন অনলাইনে করার সুবিধাও চালু করে দেওয়া হয়েছে। অফলাইনের পাশাপাশি অনলাইনেও আবেদন করা যাচ্ছে। দু'জায়গাতেই লাফিয়ে বাড়ছে আবেদনের সংখ্যা। রবি এবং সোমবার, দু’দিনে প্রকল্পের সুবিধা নিতে যে উৎসাহ চোখে পড়েছে, প্রশাসন মনে করছে, বাকি দিনগুলিতেও একইভাবে আমজনতা শিবিরে এসে লাইন দেবেন প্রকল্পের সুবিধা নিতে। আর এই ভিড় আগামী বিধানসভা নির্বাচনে আগে নয়া অঙ্কের ইঙ্গিত দিচ্ছে বলে মত ওয়াকিবহালমহলের। তাঁদের কথায়, প্রকল্পের সুবিধা নিতে যেভাবে মানুষের উৎসাহ দেখা যাচ্ছে তাতে স্পষ্ট 'দিদি'র উপরেই ভরসা রাখছেন বাংলার মানুষ।
শুধু যুবসাথী (Yuva Sathi) নয়, লক্ষ্মীর ভাণ্ডারেও আবেদন করা যাচ্ছে। ফলে তাতেও নতুন করে আবেদন করতে শিবিরে ভিড় করেছেন মহিলারা। আর্থিক সাহায্য প্রকল্পে আবেদন করেছেন ভূমিহীন কৃষকরাও। এছাড়াও টিউবওয়েল ও আরএলআই প্রকল্পে সেচের জলে ছাড়ের সুবিধা পেতেও জেলায় জেলায় শিবিরগুলিতে বহু আবেদন জমা পড়েছে বলে নবান্ন সূত্রে খবর।
প্রথম দিনে ‘যুবসাথী’ প্রকল্পে মোট আবেদনকারীর সংখ্যা ছিল ৬ লক্ষ ৫৫ হাজার ৮৯৩ জন। সোমবার তা এক লাফে বেড়ে হয়েছে ৮ লক্ষ ৮০ হাজার ৫৫৭। সব মিলিয়ে সোমবার বিকেল পর্যন্ত রাজ্যের সব জেলায় ১৬০৪ টি শিবিরে আবেদন জমা হয়েছে ১৫ লক্ষ ৩৬ হাজার ৪৫০। যার মধ্যে শুধু যুবসাথী প্রকল্পেই আবেদন করেছেন ১৩ লক্ষ ৪৪ হাজার ৮১২ জন। তার সঙ্গে অনলাইনে যুবসাথীর আবেদন ধরলে এই সংখ্যা মোট আবেদনের সংখ্যা দাঁড়াচ্ছে ১৬ লক্ষ ৫৬ হাজার ৪৫০টি। গতকাল রাত ১২টা থেকে এদিন সন্ধ্যা ছটা পর্যন্ত অনলাইনের মাধ্যমে যুবসাথীর আবেদন জমা করেছেন ১ লক্ষ ২০ হাজার মানুষ। অর্থাৎ, শুধু যুবসাথীতেই মোট আবেদন হয়েছে ১৪ লক্ষ ৬৪ হাজার ৮১২। মোট আবেদন মধ্যে প্রায় দু’ লক্ষের বেশি আবেদন করা হয়েছে লক্ষ্মীর ভাণ্ডার-সহ বাকি প্রকল্পগুলির সহায়তা পেতে।
সোমবার বিকেল পর্যন্ত রাজ্যের সব জেলায় ১৬০৪ টি শিবিরে আবেদন জমা হয়েছে ১৫ লক্ষ ৩৬ হাজার ৪৫০। যার মধ্যে শুধু যুবসাথী প্রকল্পেই আবেদন করেছেন ১৩ লক্ষ ৪৪ হাজার ৮১২ জন। তার সঙ্গে অনলাইনে যুবসাথীর আবেদন ধরলে এই সংখ্যা মোট আবেদনের সংখ্যা দাঁড়াচ্ছে ১৬ লক্ষ ৫৬ হাজার ৪৫০টি।
নবান্ন সূত্রে খবর, সবথেকে বেশি আবেদন জমা পড়েছে মুর্শিদাবাদ জেলায়। সব থেকে কম আবেদন মিলেছে কালিম্পংয়ে। আবেদন জমা পড়ার সংখ্যায় দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে দক্ষিণ ২৪ পরগনা। তারপর বাঁকুড়া ও পুরুলিয়া। যুবসাথী প্রকল্পের আওতায় ২১ থেকে ৪০ বছর বয়সি মাধ্যমিক পাশ যুবক-যুবতীরা আবেদন করতে পারবেন। কর্মসংস্থান না পাওয়া পর্যন্ত অথবা সর্বাধিক পাঁচ বছর ধরে মাসে ১৫০০ টাকা করে আর্থিক সহায়তা দেওয়া হবে।
নবান্ন সূত্রে খবর, সবথেকে বেশি আবেদন জমা পড়েছে মুর্শিদাবাদ জেলায়। সব থেকে কম আবেদন মিলেছে কালিম্পংয়ে। আবেদন জমা পড়ার সংখ্যায় দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে দক্ষিণ ২৪ পরগনা। তারপর বাঁকুড়া ও পুরুলিয়া।
শিবিরে এসে আবেদনের চাপ কমাতে যুবসাথীর জন্য অনলাইনে আবেদনের ব্যবস্থাও চালু হয়ে গিয়েছে। apas.wb.gov.in-এ প্রবেশ করে নাম নথিভুক্ত করা যাচ্ছে। যুবসাথীর ‘ক্লিক টু অ্যাপ্লাই’-তে ক্লিক করলে বাঁদিকে তিনটি বিকল্পের মাঝের অংশে দেখা যাবে ‘অ্যাপ্লাই অনলাইন’। সেখানে ক্লিক করে আবেদনের পরবর্তী পদক্ষেপে যাওয়া যাবে। যুবসাথীতে আবেদন করতে গেলে কী কী নথির প্রয়োজন, তার তালিকাও দেওয়া রয়েছে।
সেখানে নিজের মোবাইল নম্বর দিলে ওটিপি যাবে সংশ্লিষ্ট মোবাইলে। সেই ওটিপি দিলেই যুবসাথী প্রকল্পে আবেদন করার প্রক্রিয়া শুরু হয়ে যাবে। আবেদন সঠিকভাবে জমা পড়লে আবেদনপত্রের প্রতিলিপি ডাউনলোড করার সুবিধাও রাখা হয়েছে। সেই কপি সংরক্ষণ করে রাখার পরামর্শ দিয়েছে প্রশাসন। কোনও সমস্যা হলে প্রয়োজনে নির্দিষ্ট হেল্পডেস্ক নম্বরে যোগাযোগ করা যেতে পারে।
