স্টাফ রিপোর্টার: উচ্চ রক্তচাপ, গ্যাসের ওষুধের পর ড্রাগ কন্ট্রোল বোর্ডের সন্দেহের তালিকায় যৌন ক্ষমতাবর্ধক ওষুধও। ইতিমধ্যেই শহর কলকাতা থেকে যৌন ক্ষমতাবর্ধক আয়ুর্বেদিক ক্যাপসুল বাজেয়াপ্ত করেছে সেন্ট্রাল ড্রাগ স্ট্যান্ডার্ড কন্ট্রোল অর্গানাইজেশন। হোলশিল্ড রিফায়ার প্রিমিয়াম হারবাল ব্লেন্ড ক্যাপসুলের পরীক্ষা চলছে কলকাতার সেন্ট্রাল ড্রাগ ল্যাবরেটরিতে।

আলাদা আলাদা দু'টি ব্যাচ নম্বরের (EAHC24021, EAHC24020) হোলশিল্ড রিফায়ার প্রিমিয়াম হারবাল ব্লেন্ড ক্যাপসুল বাজেয়াপ্ত করেছেন ড্রাগ কন্ট্রোল বোর্ডের ইন্সপেক্টররা। এতদিন মডার্ন মেডিসিনের একের পর এক ওষুধ মান উত্তীর্ণ হওয়ার পরীক্ষায় ফেল করছিল। এবার সে তালিকায় যুক্ত হল আয়ুর্বেদিক ওষুধও। গুজরাটের আহমেদাবাদে এই ওষুধ তৈরি হয়েছে। ইন্ডিয়ান সিস্টেম অফ মেডিসিন অ্যান্ড ড্রাগ কন্ট্রোলের ডিরেক্টর শ্যামলেন্দু মুখোপাধ্যায় জানিয়েছেন, বাংলায় যতগুলি আয়ুর্বেদিক ওষুধের দোকান রয়েছে সেখানে তল্লাশি চালানো হয়েছে। বেশ কিছু ওষুধ বাজেয়াপ্তও করা হয়েছে। যদি কেউ জাল আয়ুর্বেদিক ওষুধ বিক্রি করে থাকেন আইন অনুযায়ী যা শাস্তি হওয়া উচিত সেই ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
জানা যাচ্ছে, যৌন ক্ষমতাবর্ধক এই ওষুধ ভিন রাজ্য থেকে এসেছে কলকাতায়। গুজরাটের আহমেদাবাদের কাঠওয়াড়া এলাকায় তৈরি হয়েছে এই যৌনতা বর্ধক আয়ুর্বেদিক ক্যাপসুল। শ্যামলেন্দুবাবুর বক্তব্য, "যেহেতু ম্যানুফাকচারিং ইউনিট গুজরাটে, আমরা গুজরাটের স্টেট লাইসেন্সিং অথরিটিকে চিঠি দিয়ে জানাবো যে শহর কলকাতায় এই আয়ুর্বেদিক ওষুধ পাওয়া গিয়েছে যা নট স্ট্যান্ডার্ড কোয়ালিটি। গুজরাতের লাইসেন্সিং অথরিটিকে বলব এই সংস্থার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য।" মডার্ন মেডিসিনের পর আয়ুর্বেদিক ওষুধ নিয়ে প্রশ্ন ওঠায় চিন্তিত শহরের আয়ুর্বেদিক চিকিৎসকরা। আয়ুর্বেদিক চিকিৎসক প্রদ্যোৎবিকাশ কর মহাপাত্র জানিয়েছেন, বেশ কিছু আয়ুর্বেদিক ক্যাপসুল দাবি করে তারা যৌন ক্ষমতা বাড়িয়ে দেবে। বাস্তবে দেখা যায়, অনেক ওষুধই কোনও কাজের নয়। ডা. করমহাপাত্রর বক্তব্য, এই এই যৌন ক্ষমতার নেপথ্যে সাইকো নিউরোটিক বিষয় যুক্ত আছে। অনেকের দামি লিঙ্গবর্ধক ক্যাপসুল খেয়েও কোনও কাজ করছে না। 'ডিপ্রেশন' গভীরে থাকলে এই ধরনের কাজও করে না।
এদিকে ঘর জীবাণুমুক্ত করার তরলও এবার সেন্ট্রাল ড্রাগ স্ট্যান্ডার্ড কন্ট্রোল অর্গানাইজেশন 'নট স্ট্যান্ডার্ড কোয়ালিটি' ওষুধের তালিকায়। ল্যাবরেটরিতে পরীক্ষা করে দেখা গিয়েছে ফিনাইলে জীবাণুমুক্ত করার কোনও উপাদানই নেই। কোনারক সুপার ফিনাইলের (ব্যাচ নম্বর কেএসপি-৩৫৫) শয়ে শয়ে বাক্স ইতিমধ্যেই বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। সে শিশি শহরের আর কোথায় কোথায় বিক্রি হচ্ছে, খুঁজতে শুরু করেছে ড্রাগ কন্ট্রোল বোর্ড। সেন্ট্রাল ড্রাগ স্ট্যান্ডার্ড কন্ট্রোল অর্গানাইজেশন সূত্রে জানা গিয়েছে, গুণমানে নিকৃষ্ট এই ফিনাইল কলকাতায় ঢুকেছে পড়শি রাজ্য ওড়িশা থেকে। এই ফিনাইলের নির্মাণ কারখানা ওড়িশার ঝাড়সুখদা জেলার বেঙ্গলি পাড়ায়। ভেজাল ওষুধ প্রসঙ্গে এসইউসিআই রাজ্য সম্পাদক চণ্ডীদাস ভট্টাচার্য জানিয়েছেন, প্রশাসনের নাকের ডগায় ভেজাল ওষুধের এই রমরমা ব্যবসার দায় প্রশাসন এড়িয়ে যেতে পারে না।