জীবনের মূল স্রোতে ফিরতে চেয়ে আত্মসমর্পন করলেন এক মাওবাদী। তাঁর নাম মাধাই পাত্র। রাজ্যের পুলিশ প্রশাসনের কাছে আত্মসমর্পণ করেন তিনি। যদিও তাঁর কাছ থেকে কোনও আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে কি না তা জানা যায়নি। মাধাই জানান, তাঁর শারীরিক অবস্থা ভালো নয়। সেই কারণে ইনচার্জের অনুমতি নিয়ে আত্মসমর্পণ করেছেন তিনি। মাধাই তাঁর সহযোদ্ধাদেরও সমাজের মূল স্রোতে ফেরার অনুরোধ জানিয়েছেন।
মাধাইয়ের বাড়ি হুগলির জাঙ্গিপাড়ায়। তিনি জানান, এতদিন ধরে তিনি একাধিক মাও সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। কিন্তু শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় তিনি আত্মসমর্পণের কথা ভাবতে শুরু করেন। এই বিষয়ে ইনচার্জ মিহির বেসরার সঙ্গে কথা হয় তাঁর। তারপর পুলিশ প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ করে আত্মসমর্পণ করেন। জানা গিয়েছে বিহার, ওড়িশা, ঝাড়খণ্ড ও বাংলার মাওবাদী সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন মাধাই। আত্মসমর্পণের পরে কাজ করে জীবন কাটাতে চান তিনি।
প্রসঙ্গত, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ আগেই ঘোষণা করেছিলেন, ২০২৬ সালের ৩১ মার্চের মধ্যে দেশ থেকে মাওবাদী নিশ্চিহ্ন করে হয়ে যাবে। সেই সময়সীমা ইতিমধ্যেই পেরিয়ে গিয়েছে। এর মধ্যে দেশের বিভিন্ন এলাকায় মাওবাদীরা আত্মসমর্পণ করেছেনন। মাধাই জানান, অমিত শাহের এই বার্তার আগেই তিনি সমাজের মূল স্রোতে ফিরতে চাইছিলেন। এবিষয়ে তিনি ইনচার্জের সঙ্গে কথাও বলেছিলেন। ইনচার্জ মিহির বেসরা তাঁদের বলেন, ৩১ মার্চের পর কেউ চাইলে আত্মসমর্পণ করতে পারেন। এরপর তাঁর অনুমতি নিয়েই কলকাতা পুলিশের কাছে আত্মসমর্পণ করলেন তিনি। সহযোদ্ধা বা কমরেডদের কাছে মাধাইয়ের আবেদন, তাঁরা যেন সমাজের মূল স্রোতে ফিরে আসার সিদ্ধান্ত নিয়ে সরকারি সুবিধা গ্রহণ করেন।
উল্লেখ্য, মঙ্গলবার উত্তর কাশিপুর থানা এলাকা থেকে এক মাওনেত্রীকে গ্রেপ্তার করেছে কলকাতা পুলিশ। শ্রদ্ধা বিশ্বাস ওরফে বেলা নামের ওই নেত্রীর নামে ঝাড়খণ্ডে একাধিক মামলা রয়েছে। তাঁর মাথার দাম ১৫ লক্ষ টাকা রাখা হয়েছিল। গোপন সূত্রে খবর পেয়ে তাঁকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
