নেতাজি স্মরণ মঞ্চ থেকে ফের এসআইআর নিয়ে কেন্দ্র ও কমিশনকে তোপ দাগলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর প্রশ্ন, "নেতাজি বেঁচে থাকলে তাঁকেও কি নাগরিকত্বের প্রমাণ দিতে হত?" নেতাজির প্রপৌত্র চন্দ্র বসুকে এসআইআর শুনানিতে তলব নিয়ে একরাশ ক্ষোভ উগরে দিলেন তিনি। সোচ্চার হলেন আমজনতার হেনস্তা নিয়েও।
আজ ২৩ জানুয়ারি, নেতাজি সুভাষচন্দ্র বোসের জন্মদিন। প্রতিবছরের মতোই বিভিন্ন প্রান্তে উদযাপন করা হচ্ছে দিনটি। এদিন রাজ্য সরকারের তরফেও তাঁকে সম্মানজ্ঞাপন করতে অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছিল। রেড রোডের সুভাষ স্মরণের মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেখানে নেতাজির ফাইল প্রকাশ-সহ একাধিক ইস্যুতে সুর চড়ান তিনি। বলেন, "আজ নেতাজির জন্মদিন। এখনও দিনটাকে জাতীয় ছুটি হিসেবে ঘোষণা করা হয়নি। তিনি দেশ থেকে বেরিয়ে গেলেন, আর ফিরে এলেন না। আমরা তাঁর জন্মদিনটা জানি। মৃত্যুদিনটা বলতে পারি না। কেন এখনও নেতাজির অন্তর্ধান রহস্যের কোনও কিনারা হল না?" এরপরই এসআইআর প্রসঙ্গ তোলেন মুখ্যমন্ত্রী। বলেন, "নেতাজি বেঁচে থাকলে কি তাঁকেও নাগরিকত্বের প্রমাণ দিতে হত? হিয়ারিংয়ে তাঁকেও ডাকা হত? কৈফিয়ত চাওয়া হত আপনি ভারতীয় কি না?" এরপরই তিনি বলেন, "চন্দ্রকেও (নেতাজির প্রপৌত্র) তো ডেকেছে।"
বলেন, "নেতাজি বেঁচে থাকলে কি তাঁকেও নাগরিকত্বের প্রমাণ দিতে হত? হিয়ারিংয়ে তাঁকেও ডাকা হত? কৈফিয়ত চাওয়া হত আপনি ভারতীয় কি না?"
এরপরই মমতা বলেন, "বাংলার ১ কোটি ৩৮ লক্ষ মানুষকে ডেকেছে। তার আগে একতরফা ভাবে ৫৮ লক্ষ নাম বাদ দিয়েছে। মোট সংখ্যাটা প্রায় ২ কোটি। ৭ কোটি মানুষের মধ্যে ২ কোটি বাদ গেলে কত বাকি থাকে?" প্রসঙ্গত, এসআইআরের নামে ভোটারদের নাম বাদ দেওয়ার জন্য বিজেপি ও কমিশন চক্রান্ত করেছে বলে বারবার সরব হয়েছে তৃণমূল। পরবর্তীতে শুনানির নামে বৃদ্ধ-বৃদ্ধা ও অসুস্থদের হেনস্তা করার অভিযোগও তোলা হয়েছে। সমস্যার সমাধানের আর্জি জানিয়ে একাধিকবার মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে চিঠি লিখেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
