লম্বা লাইন। বৃদ্ধ, বৃদ্ধা থেকে মাঝবয়সি। সবার হাতে দস্তা দস্তা নথি। লক্ষ্য ট্রাইব্যুনালে আবেদন। তাঁদের অনেকে অনলাইনে আবেদন করেছেন (SIR Tribunal Application)। কিন্তু অফলাইনে নথি রিসিভ করাতে এসেছেন! রাজ্যের একাধিক মহকুমাশাসক অফিসে তা রিসিভও করা হচ্ছে! প্রশ্ন উঠছে, তাহলে অনলাইন আবেদনের অর্থ কী দাঁড়াল? তাহলে অনলাইনে আবেদনের গ্রহণযোগ্যতা নেই? মহকুমাশাসক অফিস থেকে তা রিসিভ করাতে হবে? তবে কমিশন জানিয়েছে, অফলাইন বা অফলাইনে আবেদন করলেই হবে।
সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে ট্রাইব্যুনাল তৈরি হয়েছে। সাপ্লিমেন্টারি তালিকা থেকে বাদ যাওয়া ভোটাদের নাম নিষ্পত্তি হবে এখানে। ১৯টি ট্রাইবুনাল তৈরি হয়েছে। অফলাইন ও অনলাইনে আবেদন করা যাচ্ছে। ব্যস! এই টুকুই। কোনও এসওপি তৈরি হয়নি। কীভাবে কাজ হবে? শুধু কি কলকাতাতেই ট্রাইবুনাল কাজ করবে? নাকি অন্য কোথাও আবেদন করা যাবে? সাধারণ মানুষের হাজার প্রশ্ন।
নিজেদের নাম ভোটার তালিকায় তুলতে মরিয়া সাধারণ নাগরিকরা। কার্যত ভয়েই অনলাইনে আবেদনের পরও মহকুমাশাসক দপ্তরে ভিড় জমাছেন নাম বাদ যাওয়া ভোটররা। অনলাইনে আবেদনের পর আবেদনপত্রের প্রিন্ট আউট রিসিভ করিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন। রিসিভ করছে মহকুমা শাসকের দপ্তরও।
এখানেই প্রশ্ন উঠছে তাহলে কি অনলাইনে আবেদনের পর অফলাইনে তা রিসিভ করাতে হবে? উত্তর হ্যাঁ হলে, অনলাইনে আবেদনের মানে কী দাঁড়াল। উত্তর 'না' হলে, কেন মহকুমাশাসক দপ্তরগুলি সেগুলি রিসিভ করছে। তাহলে কী প্রশাসনের কর্তাদের কাছেও কোনও স্পষ্ট নির্দেশিকা নেই! অনলাইনে আবেদনের পরও সেই আবেদনপত্র রিসিভ করাতে লাইনে দাঁড়ানো রানাঘাটের এক ভোটার বলেন, "অনলাইনে আবেদন করেছি। অনেকে বলছেন অফলাইনে রিসিভ করাতে হবে। তাই লাইনে দাঁড়িয়েছি।" একই অবস্থা দক্ষিণ ২৪ পরগনাতেও।
