shono
Advertisement
WB Election 2026

বিধানসভা ভোটের আবহে টাকা-অস্ত্র যেন না ঢোকে! চিকেনস নেকে কড়া নিরাপত্তা, আধাসেনার টহল

বিধানসভা ভোটের দিনক্ষণ ঘোষণার পর প্রচারও শুরু করে দিয়েছে রাজনৈতিক দলগুলি। সীমান্ত এলাকাগুলির উপর নজরদারিও বাড়ানো হয়েছে। চিকেনস নেক অর্থাৎ 'শিলিগুড়ি করিডর' জুড়েও নিরাপত্তার কড়াকড়ি। নির্বিঘ্নে ভোট সম্পন্ন করতে চূড়ান্ত পর্যায়ের প্রস্তুতি নিয়েছে নির্বাচন কমিশন এবং জেলা প্রশাসন।
Published By: Suhrid DasPosted: 06:49 PM Mar 20, 2026Updated: 08:22 PM Mar 20, 2026

বিধানসভা ভোটের দিনক্ষণ ঘোষণার পর প্রচারও শুরু করে দিয়েছে রাজনৈতিক দলগুলি। সীমান্ত এলাকাগুলির উপর নজরদারিও বাড়ানো হয়েছে। চিকেনস নেক অর্থাৎ 'শিলিগুড়ি করিডর' জুড়েও নিরাপত্তার কড়াকড়ি। নির্বিঘ্নে ভোট সম্পন্ন করতে চূড়ান্ত পর্যায়ের প্রস্তুতি নিয়েছে নির্বাচন কমিশন এবং জেলা প্রশাসন। জেলার ‘স্পর্শকাতর’, ‘শ্যাডো জ়োন’, ‘ক্রিটিক‍্যাল বুথ’ নিয়ে বিশেষ প্রস্তুতি শুরু করেছে প্রশাসন। ইতিমধ্যে দার্জিলিং জেলায় ৫০ কোম্পানি আধাসেনা মোতায়েন করা হয়েছে। শুরু হয়েছে টহল, নাকা তল্লাশি। আরও সাত থেকে আট কোম্পানি আধাসেনা আসার কথা এখানে।

Advertisement

কালিম্পংয়ে ইতিমধ্যে সাত কোম্পানি আধাসেনা পৌঁছে গিয়েছে। আরও তিন কোম্পানি সেনা সেখানে দেওয়া হবে। ২২ কিলোমিটার প্রশস্ত চিকেনস নেক নামে পরিচিত শিলিগুড়ি করিডোর ঘিরে রয়েছে নেপাল, ভুটান, বাংলাদেশ ও চিন। ভৌগোলিক অবস্থানগত কারণে এলাকাটি অত্যন্ত সংবেদনশীল। ভারতকে দুর্বল করতে শিলিগুড়ি করিডরকেই পাখির চোখ করেছে বিভিন্ন জঙ্গি সংগঠন। তিনটি দেশের সীমান্ত এক জায়গায় মেশায় এই পথে বারবার অস্ত্রশস্ত্র, মাদক ও জাল নোট ভারতে পাচার করার ছক কষেছে জঙ্গিরা। পাশাপাশি সীমান্তের ছিদ্রপথে সন্ত্রাসবাদীদের এদেশে প্রবেশের রাস্তা তৈরি করারও পরিকল্পনা রয়েছে। এই চিকেন নেক টার্গেট পাকিস্তানেরও। 

এলাকার চলছে রুটমার্চ, টহলদারি। নিজস্ব চিত্র

এই অঞ্চলকে ভারতের থেকে আলাদা করে দিতে চায় চিনও! স্বভাবতই নিরাপত্তার প্রয়োজনে এখানে সামরিক বাহিনীর তৎপরতা বেড়েছে। এই এলাকার নিরাপত্তার দায়িত্বে রয়েছে ভারতীয় সেনার ত্রিশক্তি কর্পস। সামনে বিধানসভা ভোট। তাই নির্বাচন কমিশনও ঝুঁকি নিতে নারাজ। দার্জিলিং ও কালিম্পং জেলার উত্তরে রয়েছে সিকিম, দক্ষিণে বিহারের কিশানগঞ্জ, পূবে জলপাইগুড়ির ফুলবাড়ি বাংলাদেশ ও পশ্চিমে নেপাল সীমান্ত। মেচি নদী সেতুর ওপারে রয়েছে নেপালের কাঁকড়ভিটা সীমান্ত। পানিট্যাঙ্কি-কাঁকড়ভিটা মতো ভারত-নেপাল সীমান্ত এলাকার পরিধি দেড় হাজার কিলোমিটারের কিছু বেশি। এর মধ্যে পশ্চিমবঙ্গের সঙ্গে নেপালের প্রায় একশো কিলোমিটার সীমান্ত রয়েছে। সেখানে কোনও কাঁটাতারের বেড়া নেই। দুই দেশের মধ্যে যাতায়াত অবাধ। পাসপোর্ট-ভিসার প্রয়োজন হয় না।

অন্যদিকে দার্জিলিং জেলা লাগোয়া উত্তর দিনাজপুরে রয়েছে ২২৭ কিলোমিটার এবং জলপাইগুড়ি ও কোচবিহারের প্রায় ছয়শো কিলোমিটার বাংলাদেশ সীমান্ত এলাকা। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে দার্জিলিং জেলা সংলগ্ন ভারত-নেপাল, ভারত-বাংলাদেশ সীমান্ত, পশ্চিমবঙ্গ-বিহার, পশ্চিমবঙ্গ-সিকিম সীমানা এলাকায় নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। পাশাপাশি বিএসএফ এবং এসএসবি-কে সতর্ক করা হয়েছে। দার্জিলিং পাহাড়ের নেপাল সীমান্তের মানেভঞ্জন, সুখিয়াপোখরি, পশুপতি মোড়, সান্দাকফুতেও নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গিয়েছে, দার্জিলিং জেলায় ভোটারের সংখ্যা ১১ লক্ষ ৪৮ হাজার ২০৯ জন। তাদের জন্য ১৪৬৫টি বুথ এবং ৫২টি সহায়ক ভোটগ্রহণ কেন্দ্র রাখা হবে। কালিম্পং জেলায় ভোটার সংখ্যা ২ লক্ষ ১ হাজার ৯৩১ জন। ওই জেলায় মোট ভোটগ্রহণ কেন্দ্র হবে ২৯৩টি।

Sangbad Pratidin News App

খবরের টাটকা আপডেট পেতে ডাউনলোড করুন সংবাদ প্রতিদিন অ্যাপ

হাইলাইটস

Highlights Heading
Advertisement