বিয়ে হয়েছিল মহা সমারোহে। কে জানত বাসর রাত হয়ে উঠবে এমন বিষময়! নববধূ মুখ ধোওয়ার পর ঘটে গেল নাটকীয় ঘটনা। ‘কনে বদল’-এর চাঞ্চল্যকর অভিযোগ তুললেন পাত্র। পালটা অভিযোগ আনল কনেপক্ষও। বিষয় গড়াল মামলা পর্যন্ত। এমনই অদ্ভুত এক ঘটনার সাক্ষী বাংলাদেশের ঠাকুরগাঁও।
বাংলাদেশের এক সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা যাচ্ছে, ২০২৫ সালের ১ আগস্ট বিয়ে হয় চণ্ডীপুরের রায়হান কবীর ও ভাণ্ডারের জিয়ারুল হকের মেজো মেয়ের। কিন্তু বিয়ের রাতেই বর ও তাঁর পরিবার অভিযোগ তোলে বউ পালটে গিয়েছে। যে মেয়েকে দেখানো হয়েছিল, ইনি সেই মেয়ে নন। স্বাভাবিক ভাবেই এমন দাবি ঘিরে গোলমাল তুঙ্গে ওঠে। শেষপর্যন্ত ২৭ আগস্ট মামলা করেন কনের বাবা। পালটা ২ সেপ্টেম্বর আদালতের দ্বারস্থ হন রায়হান কবীর। কিন্তু গত সোমবার, ১৯ জানুয়ারি আদালত কবীরকে কারাবাসের নির্দেশ দেন।
বরের অভিযোগ, বিয়ের সময় প্রচুর মেকআপ থাকায় বোঝা যায়নি। কিন্তু বাসরের আগে কনে মুখ ধুতেই পরিষ্কার হয়ে যায় কনে বদলে দেওয়া হয়েছে।
রায়হান কবীরের অভিযোগ, ঘটকের মাধ্যমে যখন সম্বন্ধ হচ্ছিল তখন যে মেয়ের ছবি দেখানো হয়েছিল, এই মেয়েটি সেই ছবির মেয়ে নন। বিয়ের সময় প্রচুর মেকআপ থাকায় সেটা বোঝা যায়নি। কিন্তু বাসরের আগে কনে মুখ ধুতেই পরিষ্কার হয়ে যায় কনে বদলে দেওয়া হয়েছে। ২ আগস্টই নববধূকে বাপের বাড়ি পাঠিয়ে দেওয়া হয় বলেও দাবি করেছেন তিনি।
এদিকে কনের বাবার পালটা অভিযোগ, পাত্রপক্ষ ১০ লক্ষ টাকা পণ চেয়েছিল। সেই টাকা না দেওয়াতেই এমন মিথ্যে অভিযোগ করা হচ্ছে। বিয়েতে প্রায় ৭০ জন বরযাত্রী এসেছিলেন। এখন এমন অভিযোগ কোনওভাবেই ধোপে টেকে না। ঘটকও বলছেন, মেয়েকে দেখতে পাত্রপক্ষই এসেছিল। কাজেই এমন অভিযোগ ভিত্তিহীন। উভয়পক্ষই দাবি করছেন সত্যের জয় হবে। এতদিন কবীর জামিন পেলেও এবার তাঁকে কারাবন্দি করা হয়েছে। এমতাবস্থায় পরবর্তী শুনানির দিকেই মজর সকলের।
