সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: হুমায়ুন আহমেদের 'লিলুয়া বাতাস' উপন্যাসটির কথা মনে আছে? উপন্যাসের প্রধান চরিত্র মরুর বাবার এক বিচিত্র স্বভাবের বর্ণনা আছে। পরিশ্রম ছাড়া কাউকে টাকা দেওয়া অনুচিত বলে মনে করতেন মরুর বাবা। তাই সন্তানদের দিয়ে পিঠে সুড়সুড়ি দেওয়াতেন। বিনিময়ে পারিশ্রমিক হিসেবে তাদেরকে টাকা দিতেন। মরু এভাবেই ছোটবেলায় হাতখরচ জোগাড় করত। গল্প-উপন্যাসে এমন ঘটনা পড়ে আমরা কিছুটা মজা পাই বটে। তবে বাস্তবে চোখের সামনে এমনটা ঘটতে দেখা গেলে বেশ অবাক হই বইকি!
হ্যাঁ, ঠিকই শুনছেন। সম্প্রতি টাকার বিনিময়ে পিঠে সুড়সুড়ি দেওয়ার মতো পেশার দারুণ জনপ্রিয়তা বেড়েছে। না, কোনও ইয়ার্কি ঠাট্টা নয়। সোশাল মিডিয়ায় ভাইরাল হওয়া এই পেশার পোশাকি নাম ‘স্ক্র্র্যাচ থেরাপিস্ট'। আপনার আঙুল কতটা মোলায়েম, তার উপরই নির্ভর করবে আপনার আয়। এই পেশাতে আয় কিন্তু মারাত্মক। কী অবাক হচ্ছেন?স্ক্র্যাচ থেরাপি করে প্রতি ঘণ্টায় ৯ হাজার টাকা উপার্জন করা যায়।
বিদেশে এই পেশার ছড়াছড়ি রয়েছে। নিউ ইয়র্কে বিউটি স্টুডিও, সেলুন বা স্পা-তে গ্রাহকের পিঠ চুলকে দেওয়ার সেশন পরিচালনা করা হয়। হাতের নখ আলতো করে পিঠে বুলিয়ে দেওয়াই এই পেশার বিশেষত্ব। তবে যেনতেন করে দিলেই হল না। যেভাবে মাসাজ বা ফেসিয়াল করা হয়, সেভাবেই হালকা নখের স্পর্শে সুড়সুড়ি দিয়ে গ্রাহককে ঘুম পাড়িয়ে দেওয়া হয়। আসলে স্নায়ুতন্ত্রকে শিথিল করে দিয়ে চোখে ঘুম এনে দেয় এই পদ্ধতি। হালকা চুলকানি বা সুড়সুড়ি মস্তিষ্ককে আনন্দের সংকেত পাঠায়। আর তখনি নিঃসৃত হয় এন্ডরফিন ও সেরোটোনিনের মতো হরমোন। এতে মেজাজ মুহূর্তেই ভালো হয়ে যায়। মানসিক চাপ কমে। ঘুমের আমেজ তৈরি হয়।
নিউ ইয়র্কে অফলাইন বা অনলাইন কোর্সে বহু শিক্ষার্থী স্ক্র্যাচ থেরাপি শিখছেন। কোর্সগুলির জন্য গাঁটের কড়ি ফেলতে হয় প্রায় ২০ থেকে ২১ হাজার টাকা। এই থেরাপিতে স্বাস্থ্য বিধিকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়। জীবাণুমুক্ত সরঞ্জাম, পরিষ্কার নখ ও ত্বকের সুরক্ষা প্রভৃতি বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। মানসিক চাপ কমানোয় বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়। শুধু পিঠে নয়, প্রয়োজনে গোটা শরীরেও করতে পারেন স্ক্র্যাচ থেরাপি।
