ভারতীয় দাবায় নতুন ইতিহাস লিখলেন গ্র্যান্ডমাস্টার রমেশবাবু প্রজ্ঞানন্দ। নরওয়ে দাবায় প্রথম ভারতীয় হিসাবে খেতাব জিতে নজির গড়লেন ২০ বছরের এই দাবাড়ু। ২০১৩ সালে এই প্রতিযোগিতা শুরু হয়েছিল। কিংবদন্তি বিশ্বনাথন আনন্দ কিংবা বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ডি গুকেশও এই সাফল্য পাননি।
শুক্রবার শেষ রাউন্ডে জার্মান গ্র্যান্ডমাস্টার ভিনসেন্ট কেমারকে ক্লাসিক্যাল ফরম্যাটে হারিয়ে শিরোপা নিশ্চিত করেন প্রজ্ঞানন্দ। এই জয়ের ফলে ৩ পয়েন্ট পেয়ে মোট ১৮ পয়েন্টে পৌঁছে যান তিনি। প্রতিযোগিতার শুরুটা খুব একটা ভালো না হলেও দ্বিতীয়ার্ধে দুর্দান্ত প্রত্যাবর্তন করেন প্রজ্ঞানন্দ। শেষ দিনে ১৫ পয়েন্ট পেয়ে তিনি ছিলেন তৃতীয় স্থানে। কিন্তু শেষ মুহূর্তে স্নায়ুর চাপ সামলে কিস্তিমাত করেন ভারতীয় দাবাড়ু।
এবারের টুর্নামেন্টে প্রজ্ঞানন্দের সবচেয়ে বড় সাফল্য, বিশ্বের এক নম্বর দাবাড়ু ম্যাগনাস কার্লসেনকে দু’বার হারানো। সাতবারের নরওয়ে দাবা চ্যাম্পিয়নের বিরুদ্ধে এই বিরল কৃতিত্বই তাঁর শিরোপা জয়ের পথ অনেকটা সহজ করে দেয়। ম্যাচের পর নিজের সাফল্যের নেপথ্যের অনুপ্রেরণার কথা বলতে গিয়ে প্রজ্ঞানন্দ বলেন, “১ জুন আলিরেজার বিরুদ্ধে ম্যাচের আগে মায়ের সঙ্গে কথা হয়েছিল। মা বলেছিলেন, ‘নতুন মাস শুরু হয়েছে। তুমি ভালো খেলবে।’ মা প্রায়ই এমন বলেন। তারপর টানা চারটি ম্যাচ জিতলাম। মনে হয় মা আগে থেকেই কিছু বুঝতে পেরেছিলেন।”
অন্যদিকে, শিরোপা জয়ের দৌড় থেকে ছিটকে গেলেও প্রজ্ঞানন্দের সাফল্যে মুগ্ধ কার্লসেন। ভারতীয় দাবাড়ুর প্রশংসা করে তিনি বলেন, “এটা সত্যিই অবিশ্বাস্য। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সময়ে ও যেভাবে জিতেছে, তা অসাধারণ। ও দুর্দান্ত লড়াকু মানসিকতার দাবাড়ু। এমন সাফল্যের পুরস্কার ওর প্রাপ্য ছিল।” শেষ রাউন্ডে ১৫.৫ পয়েন্টি নিয়ে শীর্ষে থাকা মার্কিন গ্র্যান্ডমাস্টার ওয়েসলি সো জয় না পাওয়ায় প্রজ্ঞানন্দের সামনে শিরোপা জয়ের সুযোগ তৈরি হয়। সেই সুযোগই কাজে লাগিয়ে ভারতীয় দাবার ইতিহাসে নতুন মাইলফলক গড়ে ফেললেন চেন্নাইয়ের এই তরুণ গ্র্যান্ডমাস্টার।
