সিস্টেম্যাটিক ইনভেস্টমেন্ট প্ল্যান। সংক্ষেপে এসআইপি তথা সিপ। এর কার্যকারিতা নিয়ে প্রশংসায় পঞ্চমুখ বহু বাজার বিশেষজ্ঞই। অথচ ইদানীং দেখা যাচ্ছে, অনেকেই সরে আসছেন এসআইপি থেকে। কেন এই প্রবণতা?
দেখা যাচ্ছে, গত ১১ মাসে এই প্রথম যতজন এসআইপি করা বন্ধ করেছেন, শুরু করেছেন তার থেকে বেশি। পরিসংখ্যান বলছে, ৫৩.৩৮ লক্ষ মানুষ এসআইপি ছেড়েছেন। সেখানে ৫২.৮২ লক্ষ মানুষ নতুন করে শুরু করেছেন। এই সংখ্যাই বুঝিয়ে দেয়, বিনিয়োগকারীদের মধ্যে কেমন চাঞ্চল্য দেখা যাচ্ছে। আসলে বাজারের ওঠানামা নতুন কিছু নয়। কিন্তু সাম্প্রতিক যে টানাপোড়েন তা যেন সব কিছুকেই ছাপিয়ে যাচ্ছে। আর এতেই ঘাবড়ে যাচ্ছেন অনেকে। বলতে গেলে, বেশ কিছু ফান্ডের ক্ষেত্রে এক বছর, এমনকী দু'বছরের SIP থেকে প্রাপ্ত রিটার্নও নেতিবাচক হয়ে দাঁড়িয়েছে, যা বেশ হতাশাজনক মনে হতে পারে। অনেকেরই মতে, পোর্টফোলিও লাল রং হয়ে যাওয়ার কারণেই বহু মানুষ আর ভরসা রাখতে পারছেন না।
আসলে বাজারের ওঠানামা নতুন কিছু নয়। কিন্তু সাম্প্রতিক যে টানাপোড়েন তা যেন সব কিছুকেই ছাপিয়ে যাচ্ছে। আর এতেই ঘাবড়ে যাচ্ছেন অনেকে।
কিন্তু মিউচুয়াল ফান্ডে আস্থা হারানোর কোনও যুক্তি নেই বলেই দাবি করছেন বিনিয়োগ বিশেষজ্ঞরা। তাঁরা বলছেন, বাজার যখন অনিশ্চিত থাকে, তখন SIP-গুলোই সবচেয়ে কার্যকর হয়। একে বলে ‘রুপি কস্ট অ্যাভারেজিং’। তাঁদের মতে, যখন বাজারের দর পড়ে যায়, তখন আপনার ১০,০০০ টাকার এসআইপির মাধ্যমে আগের তুলনায় বেশি সংখ্যক ইউনিট কেনা সম্ভব হয়। অর্থাৎ বাজারের মন্দার সময় SIP বন্ধ করে দেওয়াটা এমন— যেন ঠিক সেই মুহূর্তে আপনি সরে এলেন, যখন এটা কাজ করা শুরু করে!
ওয়ারেন বাফেট বলেছিলেন, “অন্যদের থেকে বেশি চতুর আমাদের হতে হবে না। বেশি শৃঙ্খলাবদ্ধ হলেই চলবে।” বাফেটের এই উক্তি বিনিয়োগের দুনিয়াতেও একইভাবে প্রযোজ্য। আর এক্ষেত্রে প্রথমেই যে নামটা মনে আসে, সেটা এসআইপি। নিয়মিত ব্যবধানে লগ্নি করা যেতে পারে এর মাধ্যমে। মাসে মাত্র ৫০০ টাকা থেকেই শুরু করতে পারেন। নিয়মানুগভাবে নিজের আর্থিক লক্ষ্যপূরণে ব্রতী হলে একাধারে ঝুঁকিও কমবে আবার দীর্ঘমেয়াদী স্তরে সম্পদ সৃষ্টিতেও সুবিধা হবে।
