ফ্যাক্টর ইনভেস্টিং নিয়ে নানা মিথ ইতিমধ্যে চালু। বিভিন্ন ইনভেস্টমেন্ট মহলে এই নিয়ে আলোচনা চলছে, তবে ভারতে সাধারণ ইনভেস্টরের চোখে ফ্যাক্টর-ভিত্তিক স্ট্র্যাটেজি এখনও তেমন ভাবে ধরা পড়েনি। এই কৌশলকে কীভাবে মূলধারায় আনা যায়, কেনই বা আম লগ্নিকারী এর জন্য অ্যালোকেশন বাড়াবেন? এই সব প্রশ্নের উত্তর দিলেন NJ Asset Management-এর ট্রেনিং বিভাগের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার সিদ্ধার্থ গোয়েঙ্কা। সম্প্রতি ইনভেস্টিং নিয়ে এক ট্রেনিং সেশন পরিচালনা করেছেন উনি। কথা বললেন নীলাঞ্জন দে
ফ্যাক্টর ইনভেস্টিং কী?
এটা এমন এক বিনিয়োগ পদ্ধতি যেখানে পোর্টফোলিও তৈরি করা হয় নির্দিষ্ট কিছু ফ্যাক্টর বা বৈশিষ্ট্যের উপর ভিত্তি করে, যা অতীতে রিটার্নকে প্রভাবিত করেছে। সবচেয়ে প্রচলিত ফ্যাক্টরগুলোর মধ্যে আছে কোয়ালিটি, ভ্যালু, লো ভোলাটিলিটি এবং মোমেন্টাম। শুধুমাত্র স্টক সিলেকশন বা বাছাইয়ের উপর নির্ভর না করে বা কেবল মার্কেট ক্যাপিটালাইজেশন না দেখে, ফ্যাক্টর ইনভেস্টিং একটা প্রমাণ-ভিত্তিক পদ্ধতি অনুসরণ করে। সংক্ষেপে বলতে গেলে, বিনিয়োগের ‘অনুমান-নির্ভরতা’ দূর করে ‘যুক্তি-নির্ভরতা’ নিয়ে আসে।
সাম্প্রতিক কালে ফ্যাক্টর ইনভেস্টিং কেন গুরুত্ব পাচ্ছে?
দেখুন, বাজার ক্রমশ আরও এফিসিয়েন্ট ও কম্পিটিটিভ (প্রতিযোগিতামূলক) হয়ে উঠছে। এর ফলে শুধুমাত্র প্রচলিত কৌশল দিয়ে অতিরিক্ত রিটার্ন আনা খুব কঠিন হয়ে পড়ছে। ফ্যাক্টর ইনভেস্টিং দুটো বিষয়ের উপর গুরুত্ব দেয়:
* আলাদা ভাবে স্টক বাছাইয়ের উপর নির্ভরতা কমানো
* বিনিয়োগ প্রক্রিয়ায় আরও শৃঙ্খলা আনা।
এই দুইয়ের ফলে বিশ্বজুড়ে বিনিয়োগকারীরা ক্রমশ এই পদ্ধতি মেনে চলছেন, দেখা যাচ্ছে।
প্রচলিত বিনিয়োগের থেকে এই স্ট্র্যাটেজি কীভাবে আলাদা?
সোজা কথায় বলতে গেলে, প্রচলিত বিনিয়োগ প্রায়ই বাজারে এক্সপোজার বা ফান্ড ম্যানেজারের স্কিলের উপর নির্ভর করে। অন্যদিকে, ফ্যাক্টর ইনভেস্টিং নিয়ম মেনে চলে। এবং কিছু বৈশিষ্ট্যের উপর জোর দেওয়া হয়। ব্যক্তিগত মতামত কখনও কখনও পক্ষপাত আনতে পারে। কিন্ত ফ্যাক্টর-ভিত্তিক পদ্ধতি বিনিয়োগকারীদের শুধু কিসে বিনিয়োগ করছেন তা নয়, কেন করছেন–তাও পরিষ্কারভাবে বুঝতে সাহায্য করে।
সাধারণ বিনিয়োগকারীরা কীভাবে উপকৃত হতে পারেন?
বিনিয়োগকারীদের নিজে থেকে ফ্যাক্টর নিয়ে গভীর বিশ্লেষণ করার প্রয়োজন নেই। বর্তমানে এমন মিউচুয়াল ফান্ড ও ETF রয়েছে, যেগুলো ফ্যাক্টর-ভিত্তিক কৌশল মেনে চলে। এগুলোর মাধ্যমে সাধারণ বিনিয়োগকারীরাও সহজেই ফ্যাক্টর-ভিত্তিক বিনিয়োগ করতে পারেন। সামান্য হলেও পরিকল্পিতভাবে এই ধরনের ইনভেস্টমেন্ট করলে, তাঁদের পোর্টফোলিওর বৈচিত্র্য বাড়ে।
রিটেল বিনিয়োগকারীর পোর্টফোলিওতে এর ভূমিকা কী হতে পারে?
আমার মতে, ফ্যাক্টর ইনভেস্টিং প্রচলিত বিনিয়োগের পরিপূরক হিসেবে কাজ করতে পারে। যেমন ধরুন, কোনও বিনিয়োগকারীর কাছে যদি ইতিমধ্যেই লার্জ-ক্যাপ বা ফ্লেক্সি-ক্যাপ ফান্ড থাকে, তবে তিনি সেগুলোর সঙ্গে ফ্যাক্টর-ভিত্তিক ফান্ড জুড়তে পারেন। এতে “স্টাইল ডাইভার্সিফিকেশন” আসবে।
বিনিয়োগকারীদের কী ধরনের ঝুঁকি মাথায় রাখা উচিত?
ঐতিহাসিক তথ্য এখানে উল্লেখ করি। কোয়ালিটি, ভ্যালু, লো ভোলাটিলিটি এবং মোমেন্টাম -- এই প্রধান ফ্যাক্টরগুলো দীর্ঘমেয়াদে Nifty 500-কে ছাড়িয়ে গেছে। তবে মনে রাখতে হবে, কোনও একক ফ্যাক্টর সব সময় (বা সব বাজার পরিস্থিতিতে) ভাল ফল দেয় না। প্রতিটা ফ্যাক্টরেরই খারাপ পারফরম্যান্সের পর্যায় থাকে। তা কখনও দীর্ঘস্থায়ীও হতে পারে। তারপর আবার সেটা শক্তিশালী পারফরম্যান্স হিসাবে ফিরে আসে।
