Advertisement

ইনসিওরেন্স ক্লেম করেও পাননি? জেনে নিন কী করবেন

03:44 PM Aug 25, 2021 |
Advertisement
Advertisement

একগাদা আশ্বাস, অথচ কাজের বেলায় লবডঙ্কা। হেলথ ইনসিওরেন্স কিনে আপনারও কি এই অবস্থা হয়েছে? যা ভেবেছিলেন, তার কোনওটাই মনোমত হয়নি? পরিষেবা যথাযথ না পেলে কী করা উচিত, জেনে নিন শোহিনী চক্রবর্তীর লেখায়

Advertisement

(adsbygoogle = window.adsbygoogle || []).push({});

 

কোভিড-জনিত প‌্যানডেমিক আবার বুঝিয়ে দিল মেডিক‌্যাল ইমার্জেন্সি আচম্বিতে আসতে পারে এবং ঘোর আর্থিক আঘাত দিতে পারে। চিকিৎসার খরচ, এবং সঙ্গে আনুষঙ্গিক খরচাপাতি, যে দ্রুত হারে বেড়ে চলেছে, নতুন করে তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না। ফলে হেলথ ইনসিওরেন্সের দিকে নজর আরও বেশি রকম ঘুরে গিয়েছে। ইনসিওরেন্স কোম্পানির যেমন অনেক দায়দায়িত্ব থাকে, ক্রেতা হিসাবে আপনারও তেমন নির্দিষ্ট কিছু করণীয় আছে। পরিষেবা যথাযথ না পেলে কী কী করতে পারেন, তা নিয়ে অন্তত প্রাথমিক জ্ঞানটুকু অর্জন করা – সেও করণীয়গুলির মধ্যেই পড়ে।

googletag.cmd.push(function() { googletag.display('div-gpt-ad-1628750382106-0'); });
googletag.cmd.push(function() { googletag.display('div-gpt-ad-1628750799038-0'); });

[আরও পড়ুন: বেশি লাভের আশায় ফাঁদে পা দিলেই বিপদ, জেনে নিন কীভাবে নিরাপদে লগ্নি করবেন]

প্রথমেই একটি জানা কথা বলি। যখন পলিসি কিনবেন, অবশ‌্যই খুব ভাল করে ‘টার্মস অ‌্যান্ড কনডিশনস’গুলি পড়বেন। এতেই বহু প্রশ্নের উত্তর পেয়ে যাবেন, পাশাপাশি অনেক নতুন প্রশ্নও করতে পারবেন। কী ধরনের ট্রিটমেন্টের জন‌্য পরিষেবা পাবেন, তাও জেনে নিতে পারবেন। এরই সঙ্গে দেখে নিতে পারবেন কোন হাসপাতালগুলিতে এই সমস্ত ট্রিটমেন্টের ক্ষেত্রে কভারেজ থাকবে। আমরা মাঝে মাঝে শুনতে পাই কোনও কোনও ক্ষেত্রে বিমা কোম্পানি ক্লেম দেয়নি। ‘ডিনায়াল’ যাকে বলে, সেই ‘ডিনায়াল’ কেন হয়েছে, কোম্পানির উচিত লিখিতভাবে সেই কারণ জানানো।

ক্লেম খারিজ হয়ে গেল কী ধরনের পদক্ষেপ নিতে পারবেন, তা জানতে নিচের পয়েন্টগুলি দেখুন:–
(ক) মনে করুন বিমা কোম্পানি, ক্লেম প্রোসেসিং-এর ক্ষেত্রে গাফিলতি দেখিয়েছে বা ক্লেম আদৌ সেটল করেনি। এক্ষেত্রে লিখিতভাবে ‘কমপ্লেন্ট’ তথা অভিযোগ করুন, সমস্ত জরুরি ডকুমেন্ট-সহ ‘গ্রিভান্স রিড্রেসাল অফিসার’-এর কাছে পাঠান। অভিযোগ জমা পড়ার রসিদ (acknowledgement) সংগ্রহ করুন।

(খ) সংশ্লিষ্ট অফিসারের যোগাযোগের তথ‌্য আপনার পলিসি ডকুমেন্টে পাবেন। সমস্ত ইনসিওরেন্স কোম্পানিকে ১৫ দিনের মধ্যে এ ধরনের অভিযোগের উত্তর দিতে হবে। এটি বাধ‌্যতামূলক।

(গ) যদি উত্তর না পান, বা উত্তরে অখুশি থাকেন, তাহলে IRDA (Insurance Regulatory and Development Authority) বা বিমা নিয়ন্ত্রক-এর সঙ্গে যোগাযোগ করুন। IRDA-র ওয়েবসাইট www.irdai.gov.in এ ব‌্যাপারে প্রয়োজনীয় তথ‌্য পাবেন।

(ঘ) IRDA-র একটি (IGMS) ‘ইন্টিগ্রেটেড গ্রিভান্স ম‌্যানেজমেন্ট সিস্টেম’ আছে। যদি বিমা কোম্পানির নিজস্ব গ্রিভান্স রিড্রেসাল পদ্ধতি অবলম্বনে উপযুক্ত সাহ‌ায‌্য না পান, তাহলে সরাসরি IGMS-এ নিজের অভিযোগ রেজিস্টার করুন। এজন‌্য www.igms.irda.gov.in-থেকে বিস্তারিত জেনে রাখুন।

(ঙ) এখানে রেজিস্টার করলে ইনসিওরেন্স কোম্পানি সুরাহা করবে নিয়মমাফিক সময়সীমার মধ্যে। যদি সেই সুরাহা আশানুরূপ না হয়, তাহলে ওমবাডসম‌্যান (ombudsman)-এর কাছে অ্যাপিল তথা আবেদন করতে হবে। কোথায় অ‌্যাপিল করা দরকার সেই তথ‌্য ইনসিওরেন্স কোম্পানির কাছে পাবেন।

(চ) ওমবাডসম্যান গ্রাহকের স্বার্থের কথা মনে রেখে মিডিয়েটর (মধ্যস্থতাকারী) বা কাউন্সিলর হিসাবে কাজ করেন। সবক’টি দিক আলোচনা করে, সব পক্ষের কথা শুনেই তিনি ‘অ‌্যাওয়ার্ড’ জারি করবেন। সংশ্লিষ্ট বিমা কোম্পানিটি অ‌্যাওয়ার্ডের ৩০ দিনের মধ্যে সুরাহা করবে, এটাই নিয়ম।

(ছ) এছাড়াও, কনজিউমার কোর্টে যেতে পারেন গ্রাহক। মোট ক্লেমের পরিমাণ কত, তা ঠিক করবে আপনি কোন স্তরে যেতে পারেন – ডিস্ট্রিক্ট-ফোরাম, স্টেট কমিশন না ন‌্যাশনাল কনজিউমার ডিসপিউট রিড্রেসাল কমিশন। সবশেষে বলি, এই সমস্ত পদক্ষেপ নেওয়ার আগে সঠিক আইনি পরামর্শ নিন। ভাল উপদেষ্টার সাহায্য নিলে আপনারই লাভ।

(লেখিকা কলকাতা হাইকোর্টের আইনজীবী)

[আরও পড়ুন: ISIS in Afghanistan: ইসলামিক স্টেটের নিশানায় কাবুল বিমানবন্দর, হামলা ঠেকাতে তৎপর আমেরিকা]

(adsbygoogle = window.adsbygoogle || []).push({});

Advertisement
Next