Advertisement
৬০-এ প্রেম, আলাপের ৭৫ দিনেই বিয়ে! কাকে মন দিলেন সত্যজিতের সহকারী সুহাসিনী?
'লোকে কী বলবে' না ভেবে বরাবরই ছকভাঙায় বিশ্বাসী মৃণাল সেনের নায়িকা, সত্যজিৎ রায়ের সহকারী সুহাসিনী মুলে।
সুহাসিনী মুলে, বলিউডের অনেক ছবিতে মায়ের চরিত্রে অভিনয় করতে দেখা গিয়েছে তাঁকে। শুধু বড়পর্দায় নয়, ছোটপর্দার বিভিন্ন ধারাবাহিকেও মা-ঠাকুমার ভূমিকায় অভিনয় করেছেন তিনি। কেরিয়ারের শুরুতে মৃণাল সেন এবং সত্যজিৎ রায়ের মতো পরিচালকের সঙ্গে কাজ করেছিলেন। কিন্তু তারপরই হঠাৎ বিরতি!
কেরিয়ারে প্রথমেই মৃণাল সেনের মতো খ্যাতনামা পরিচালকের ছবিতে অভিনয়। সত্যজিৎ রায়ের মতো বিশ্বমানের পরিচালকের ছবিতে ক্যামেরার নেপথ্যে কাজ করার সুযোগ। কিন্তু মাঝপথেই সিনেদুনিয়াকে বিদায় জানিয়ে বিদেশ পাড়ি দেন সুহাসিনী মুলে। স্বেচ্ছায় চলে যান বিদেশের নামী প্রতিষ্ঠানে উচ্চশিক্ষার জন্য। জীবনভর উজান-স্রোতে পাড়ি দিয়েছেন সুহাসিনী মুলে।
১৯৬৫ সালে মডেলিং শুরু সুহাসিনীর। পিয়ার্স সাবানের বিজ্ঞাপনে নজর কাড়েন। ওই বিজ্ঞাপন দেখেই 'ভুবন সোম' ছবির নায়িকা হিসেবে ডাক পান মৃণাল সেনের তরফে। প্রশংসিত হয় নবাগতা সুহাসিনীর অভিনয়। এরপরই বিদেশে চলে যান। পরে সাতের দশকে ফেরেন দেশে। তবে এবার অভিনয় নয়, বরং এলেন ক্যামেরার নেপথ্যে। 'জনঅরণ্য' ছবিতে সত্যজিৎ রায়ের সহকারী ছিলেন সুহাসিনী। মৃণালকেও সাহায্য করেছিলেন 'মৃগয়া' ছবির ইউনিটে।
ব্যক্তিগত জীবনেও ছকভাঙা সুহাসিনী। প্রচারের আলো থেকে দূরেই রেখেছেন প্রেম-বিয়ে। দীর্ঘদিনের লিভ-ইন সম্পর্ক ভাঙে ১৯৯০ সালে। এরপর ২১ বছর একাই কাটান। জীবনের ছয় দশক পার করে তিনি যখন মনের মতো কাউকে খুঁজে পাননি, তখন অনেকেই ভেবেছিলেন আর হয়তো বিয়ে করবেন না। কিন্তু অদৃষ্টের ছিল অন্য পরিকল্পনা! ২০১১ সালে ৬০ বছর বয়সে ফের প্রেম উঁকি দেয় অভিনেত্রীর জীবনে। এবার দেরি করেননি!
খ্যাতনামা বিজ্ঞানী তথা পদার্থবিদ অতুল গুর্তুর সঙ্গে সুহাসিনীর আলাপ ফেসবুকে। মন বিনিময় করতে বেশি লাগেনি। কীভাবে প্রেমের শুরুয়াত? একদিন হঠাৎ তাঁর নজরে পড়ে বিজ্ঞানী অতুল গুর্তুর প্রোফাইল। অতুল তখন আন্তর্জাতিক মানের বৈজ্ঞানিক গবেষণায় যুক্ত। বিজ্ঞান আগ্রহ থাকায় কৌতূহলবশত তাঁকে একটি মেসেজ পাঠান সুহাসিনী। সেখান থেকেই শুরু কথোপকথন। তারপর ৭৫ দিনের মাথায় বিয়ে।
কিন্তু কেন সংসার পাততে ৬০ বছর পর্যন্ত অপেক্ষা করলেন? 'লগান', 'যোধা আকবর'-সহ একাধিক জনপ্রিয় ছবিতে অভিনয় করা সুহাসিনী মুলে দীর্ঘদিন অবিবাহিত থাকার কারণ নিয়েও অকপট। তাঁর কথায়, "শুধুমাত্র সমাজের চাপে বিয়ে করতে চাইনি। বরং এমন একজন সঙ্গীর খোঁজে ছিলাম, যাঁর সঙ্গে পারস্পরিক শ্রদ্ধা-সম্মান এবং মানসিক বোঝাপড়া থাকবে। অতুলের মধ্যে সেটা দেখতে পাই।"
সুহাসিনী জানান, তাঁদের দু’জনের কাজের ক্ষেত্র সম্পূর্ণ আলাদা। পদার্থবিদ অতুল সিনেমা নিয়ে আগ্রহীই নন। বিপরীত মেরুর মানসিকতাই কাছাকাছি এনেছে তাঁদের। প্রথমে বিজ্ঞান নিয়ে আলোচনা হলেও ধীরে ধীরে দু'জনের মধ্যে তৈরি হয় এক বিশেষ বন্ধুত্ব। ই-মেল, ভাবনার আদানপ্রদানে পরস্পরকে চিনতে শুরু করেন। তবে এত সহজে বিশ্বাস করতে রাজি ছিলেন না সুহাসিনী। পরে বন্ধুদের পরামর্শে ষাটে সাতপাকে বাঁধা পড়েন সুহাসিনী মুলে।
Published By: Sandipta BhanjaPosted: 04:27 PM Jun 18, 2026Updated: 04:27 PM Jun 18, 2026
Sangbad Pratidin News App
খবরের টাটকা আপডেট পেতে ডাউনলোড করুন সংবাদ প্রতিদিন অ্যাপ
