Advertisement
মুখ ঢেকে যায় বিজ্ঞাপনে! স্পনসরে বোঝাই, অতি রংচঙে হয়েই 'সৌন্দর্য' হারাচ্ছে আইপিএল জার্সি
কেন নিজস্ব পরিচিতি তৈরি করতে পারছে না আইপিএল ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলোর জার্সি?
আপনি কেকেআর সমর্থক। বেগুনি-সোনালি জার্সি আপনার প্রাণ। বা হয়তো 'থালা' ধোনির হলুদ জার্সিতেই আপনাকে চেনা যায়। কিংবা আরসিবি'র লাল-নীল জার্সিতে পিঠে বিরাট কোহলির নাম দেওয়া ছাড়া জার্সি আপনি পরেন না। কিন্তু এটাও অনেকে মনে করছেন, আইপিএল জার্সিগুলোর সৌন্দর্য আর আগের মতো নেই।
কোনও টিমের নিজস্ব পরিচিতি তৈরি হয় লোগো, ফ্ল্যাগ বা জার্সির মাধ্যমে। সাধারণত তিনটের রংই এক রকম হয়। অর্থাৎ লোগো বা ফ্ল্যাগের রঙেই জার্সি বানানো হয়। অ্যাওয়ে জার্সিতেও সেই ছাপ রাখার চেষ্টা থাকে। যেমন বাংলার ইস্টবেঙ্গল মানেই লাল-হলুদ। কিংবা মোহনবাগান মানেই সবুজ-মেরুন।
সেখানে আইপিএলের জার্সিগুলোতে যেন আগের আবেদনটা কমে গিয়েছে। দলের নিজস্ব পরিচিতিতে কোনও ভাবেই আর খাপ খাওয়ানো যাচ্ছে না। রঙের খেলা আছে, প্রতিবছর নতুন নতুন ডিজাইনও তৈরি করা হচ্ছে। যত্রতত্র বিজ্ঞাপনে ভর্তি। সেই 'মুখ ঢেকে যায় বিজ্ঞাপনের' মতো অবস্থা। ছবি: এআই দ্বারা নির্মিত
একটা কথা সবাই মানবে, কিছু জার্সি মানুষের মনের কোনায় গেঁথে থাকে। যেমন ভারতের নীল জার্সিতে তেরঙ্গা পতাকার ছাপ মানে অনেকের মনে পড়বে সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়ের আমল। বা টকটকে হলুদ রঙের ফুটবল জার্সি মানেই প্রত্যাশা থাকে ব্রাজিলের 'জোগো বোনিতো' দেখতে পাওয়া যাবে। ২০০৮ সালে শুরু হওয়া আইপিএলের শুরুর দিকে ছবিটা সেরকম ছিল।
কালো-সোনালী জার্সিতে 'নোকিয়া' লেখা মানে যে কারও মনে পড়বে কেকেআরের হয়ে ব্রেন্ডন ম্যাকালামের সেই আইকনিক ইনিংস। কিন্তু এখন আর অধিকাংশ দলের জার্সি আর স্মরণীয় থাকছে না। কোথায় সমস্যা হচ্ছে? শুধুই কি যত্রতত্র বিজ্ঞাপন? নাকি ডিজাইনেও সমস্যা?
সম্প্রতি সর্বভারতীয় এক সংবাদমাধ্যমে আইপিএলের জার্সির সৌন্দর্যের 'অধঃপতন' নিয়ে মুখ খুলেছেন আকিব আয়ানির। তিনি রাজস্থান রয়্যালসের মতো আইপিএল ফ্র্যাঞ্চাইজির সঙ্গে কাজ করেছেন এবং প্যারিস অলিম্পিকে ভারতীয় দলের জন্যও ডিজাইন করেছেন।
তিনি ভারতের জার্সিতে ড্রিম ১১ স্পনসর থাকার সময়ের একটি ঘটনা বলেছেন। টেস্ট জার্সিতে লাল রঙে ড্রিম ১১ থাকায় অনেকেই ক্ষুব্ধ হয়েছিলেন। তখন জয় শাহর সঙ্গে এক সাক্ষাতে আকিব বলেন, লালের বদলে নীল থাকলে ভারতের জার্সির সঙ্গে মিশে যাবে। পরে সেই সিদ্ধান্তই নেওয়া হয়।
ওয়ানির মতে আইপিএলের জার্সিগুলোর বর্তমানে একাধিক সমস্যা রয়েছে। এক- বিজ্ঞাপনের ছড়াছড়ি। দুই- বারবার ডিজাইন বদলানো, তিন- একঘেয়ে রঙের ব্যবহার। এর ফলে জার্সির সঙ্গে সমর্থকরা একাত্ম হতে পারেন না।
আসলে এখন আগে জার্সি তৈরি হয়। তারপর বিজ্ঞাপনী সংস্থা ঠিক হয়। ফলে জার্সির সৌন্দর্য বিচার না করে যেখানে সেখানে ব্র্যান্ডের নাম বসিয়ে দেওয়া হয়। কোনও সঙ্গতি থাকে না। জার্সিকে যেন বিল বোর্ড মনে হয়। অথচ ফর্মুলা ওয়ানের জার্সিতেও প্রচুর লোগো থাকে। কিন্তু সেগুলো যেন জার্সির সঙ্গে মিশে যায়। ছবি: এআই দ্বারা নির্মিত
যেমন ২০২৪ সালের লখনউ সুপার জায়ান্টসের জার্সি। তার মাঝখানে যেন কেউ 'ড্রিম ১১ সার্কেল' লোগোটি আলাদা করে বসিয়ে দিয়েছে। তার উপরে ডানদিকে বড় করে আরেকটি লোগো। পিঠেও ঠিক তাই। প্রত্যেকটার রং আলাদা। যা জার্সির রঙের সঙ্গে কোনও ভাবে খাপ খায় না। সেই তুলনায় এবার অনেক ভালো।
গত বছর অনেক দলের স্পনসর ছিল ড্রিম ১১। ফলে অনেক জার্সিকে একরকম দেখতে লাগত। কিন্তু ফুটবলের বিষয়টা অন্য রকম। লাল-নীল জার্সিতে 'ইউনিসেফ' মানেই লোকের মনে পড়বে বার্সেলোনার কথা। কিংবা 'ফ্লাই এমিরেটসে'র লোগো একাধিক ক্লাবের জার্সিতে থাকলেও কোনটা কার বুঝতে অসুবিধা হয় না। প্রত্যেকটি দলের জার্সির ডিজাইনের নিজস্ব পরিচিতি আছে।
Published By: Arpan DasPosted: 04:34 PM Apr 04, 2026Updated: 04:34 PM Apr 04, 2026
Sangbad Pratidin News App
খবরের টাটকা আপডেট পেতে ডাউনলোড করুন সংবাদ প্রতিদিন অ্যাপ
