Advertisement
দু'বছর আগেই বিজেপির সঙ্গে 'ডিল' রাঘবের, মধ্যস্থতায় বলি অভিনেতা! কবে গেরুয়া শিবিরে আপ সাংসদ?
রাজ্যসভার ডেপুটি লিডার পদ থেকে রাঘব চাড্ডাকে সরিয়ে দিয়েছে আপ। যা নিয়ে তোলপাড় জাতীয় রাজনীতি।
রাজ্যসভার ডেপুটি লিডার পদ থেকে রাঘব চাড্ডাকে সরিয়ে দিয়েছে আপ। যা নিয়ে তোলপাড় জাতীয় রাজনীতি। কিন্তু কেন সরানো হল রাঘবকে? ঠিক কী ঘটেছে পর্দার আড়ালে? যা নিয়ে জোরালো জল্পনা দিল্লির রাজনীতিতে। দুই তরফেই চলছে দায় ঠেলাঠেলির খেলা।
আপের অন্যতম শীর্ষ নেতা অতিশী এবং সৌরভ ভরদ্বাজের অভিযোগ, রাঘব নাকি BJP-কে ভয় পাচ্ছেন। গেরুয়া শিবিরের বিরুদ্ধে মুখ খুলতে ভয় পাচ্ছেন। আবার শাসক দলের সঙ্গে রাঘব আপস করে নিয়েছেন, এমন ইঙ্গিতও জোরালো ভাবে দেওয়া হচ্ছে আপ দলের পক্ষ থেকে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, রাঘবের সঙ্গে দলের দূরত্বের সূত্রপাত আজ থেকে অন্তত বছর চারেক আগে। ২০২২ সালে বিপুল ভোটে জিতে পাঞ্জাবে ক্ষমতায় এসেছিল আপ। সেবার ভগবন্ত মান মুখ্যমন্ত্রী হলেও রাঘবের অনুগামীরা তাঁকেই পাঞ্জাবের ‘সুপার সিএম’ বলা শুরু করে। যা নিয়ে দলের অন্দরে ক্ষোভ তৈরি হয়েছিল।
রাঘবের ঘনিষ্ঠ সূত্রের দাবি, তখনও দল ছাড়ার কথা ভাবেননি তিনি। কিন্তু রাঘব বুঝতে পারেন আম আদমি পার্টির সুপ্রিমো কেজরিওয়াল তাঁর জনপ্রিয়তা মানতে পারছেন না। দলে আরও একটা পাওয়ার সেন্টার তৈরি হয়ে যেতে পারে সেই আশঙ্কা করছিলেন। তখন থেকেই তিনি দলের শীর্ষ নেতৃত্বের থেকে দূরত্ব বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেন।
এরপর ২০২৪ সালের জানুয়ারি মাস। তখন মণীশ সিশোদিয়া, সত্যেন্দ্র জৈন থেকে শুরু করে একের পর এক আপ শীর্ষ নেতা আবগারি কেলেঙ্কারিতে জেলে। অন্য আপ নেতাদের বিরুদ্ধে তদন্ত করছে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা। আচমকা দিল্লি জল বোর্ডে তল্লাশি চালায় ইডি। জল বোর্ডের এক আধিকারিককে গ্রেপ্তার করা হয়। সেসময় রাঘব দিল্লি জল বোর্ডের ভাইস চেয়ারম্যান ছিলেন।
আপের সূত্রের দাবি, সেসময় রাঘব ভয় পেয়ে যান। তাঁর আশঙ্কা ছিল কেজরিওয়ালের অন্য সঙ্গীদের মতো এবার তাঁকেও জেলে যেতে হবে। সেই আশঙ্কা থেকে দলের কাউকে না জানিয়েই তিনি চলে যান লন্ডন। বেশ কয়েক মাস ফেরেননি। দলের সমর্থনে একটি টুইট পর্যন্ত করেননি। তাতে দলের অনেকের গোঁসা হয়েছিল। যদিও রাঘব শিবির দাবি করে, নিজের চোখের চিকিৎসা করাতে গিয়েছিলেন তিনি।
রাঘব দেশে ফিরলে তাঁকে আবারও সুযোগ দিতে চেয়েছিলেন কেজরিওয়াল। অন্তত আপ সূত্রের তেমনটাই দাবি। গ্রেপ্তার হওয়ার পর কেজরিওয়াল যে গুটিকয়েক লোকের সঙ্গে জেলে দেখা করার অনুমতি চেয়েছিলেন, সেই তালিকায় রাঘবের নাম ছিল ৩ নম্বরে। কিন্তু তাতে সম্পর্ক শুধরোয়নি।
আপের দাবি, ২০২৫ নির্বাচনে রাঘবকে কেজরিওয়ালের নির্বাচনী এজেন্ট হওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু তিনি সেটা প্রত্যাখ্যান করেন। এখানেই শেষ নয়। তিনি পঁচিশের নির্বাচনে দিল্লিতে কোনও জনসভা করতে রাজি হননি। শুধু রোড শো এবং শোভাযাত্রা করেন। সাংগঠনিক বৈঠক করেন। বস্তুত সেই ২০২৪ নির্বাচন থেকেই সরাসরি বিজেপিকে কোনওভাবেই আক্রমণ করেননি রাঘব।
কিন্তু কেন? আপ সূত্রের দাবি, রাঘব জল বোর্ডের সেই তল্লাশিতে এত ভীত হয়ে যান যে বিজেপির সঙ্গে ডিল করে নেন। সেসময় তাঁর সঙ্গে কথা বলেন এক প্রাক্তন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী তথে বিজেপির শীর্ষ নেতা। চমকপ্রদভাবে আপের ওই শীর্ষনেতার সঙ্গে রাঘবের যোগাযোগ করিয়ে দেন, এক বলিউড অভিনেতা। তাঁর মধ্যস্থতাতেই আপে থেকে এতদিন বিজেপির হয়ে কাজ করছিলেন রাঘব। অন্তত এমনটাই দাবি আপ সূত্রের।
Published By: Subhajit MandalPosted: 04:21 PM Apr 04, 2026Updated: 04:21 PM Apr 04, 2026
Sangbad Pratidin News App
খবরের টাটকা আপডেট পেতে ডাউনলোড করুন সংবাদ প্রতিদিন অ্যাপ
