Advertisement
গ্যাস সংকটের অবসান! হরমুজের বিকল্প পথ পেল ভারত, ইরানের নজর এড়িয়ে কোন পথে আসবে জ্বালানি?
আমেরিকা এবং ইজরায়েলি হানার প্রতিবাদে হরমুজ প্রণালী বন্ধ করে রেখেছে ইরান। এবার অন্য পথ ধরে ওই এলাকা পেরল ভারতীয় জাহাজ।
ইরানের দখলে থাকা হরমুজ প্রণালী নয়, মধ্যপ্রাচ্য পেরতে বিকল্প পথ পেয়ে গেল জাহাজগুলি! এমনটাই মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল। জানা গিয়েছে, হরমুজ প্রণালী বা ওই এলাকা সংলগ্ন জলপথ নয়, একেবারে অন্য পথ দিয়ে চলাচল করছে জাহাজগুলি।
শনিবারই সেই পথ পেরিয়েছে একটি ভারতীয় জাহাজ। তেল এবং গ্যাসবাহী আরও তিনটি জাহাজ এই বিকল্প পথ দিয়ে ওই এলাকা পার করেছে বলে সূত্রের খবর। ইরানের হামলাও হয়নি এই জাহাজগুলির উপরে। আপাতত নিজেদের গন্তব্যের দিকে এগোচ্ছে তারা।
আমেরিকা এবং ইজরায়েলি হানার প্রতিবাদে হরমুজ প্রণালী বন্ধ করে রেখেছে ইরান। ওই এলাকা দিয়ে চলাচল করা একাধিক জাহাজের উপর হামলাও করেছে ইরানি সেনা। তারপর থেকে ওই ছোট্ট জলপথে জাহাজ চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।
ফলে গোটা বিশ্বের তেল এবং গ্যাস সরবরাহ থমকে যায়। নানা দেশে হু হু করে তেল এবং গ্যাসের দাম বাড়তে থাকে। এহেন পরিস্থিতিতে ইরানের বিদেশমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি জানান, হরমুজ পুরোপুরি বন্ধ নেই। শর্তসাপেক্ষে খোলা হচ্ছে জলপথ।
আরাঘচি বলেন ইরানের সঙ্গে যে কয়েকটি দেশের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক রয়েছে তাদের জাহাজগুলিকে যাতায়াতের অনুমতি দেওয়া হয়েছে। সেই বন্ধু দেশের তালিকায় চিন, রাশিয়া, পাকিস্তানের পাশাপাশি রয়েছে ভারতও।
আরাঘচির এই ঘোষণার পর হরমুজ পার করে বেশ কয়েকটি জাহাজ ভারতে এসেছে। গত সপ্তাহেই BW ELM এবং BW TYR নামে দু’টি জাহাজ একসঙ্গেই হরমুজ পেরিয়েছে। সবমিলিয়ে ৯০ হাজার টনেরও বেশি এলপিজি ছিল সেখানে।
তবে সূত্র মারফত জানা গিয়েছে, ইরানের 'বন্ধু' তালিকায় থাকা দেশগুলির জাহাজের জন্য একটি নির্দিষ্ট রুট বেঁধে দেওয়া হয়েছিল। সাধারণত জাহাজগুলি যে পথে চলে, তার চেয়ে খানিকটা ঘুরপথে যেতে হচ্ছিল যুদ্ধের আবহে। কারণ জাহাজগুলি যে ইরানের 'বন্ধু' দেশের, সেটা নিশ্চিত করতে চাইছিল তেহরানের প্রশাসন।
সেকারণেই জাহাজগুলি আন্তর্জাতিক জলসীমা ছেড়ে ইরানের জলসীমায় প্রবেশ করত কিছুক্ষণের জন্য। কারণ প্রত্যেকটি জাহাজ আলাদা করে খতিয়ে দেখে চলাচলের অনুমতি দিচ্ছে তেহরান। এতদিন পর্যন্ত ওই ঘুরপথেই ভারতে এসেছে জাহাজগুলি।
জানা গিয়েছে, ইরানের কেশম এবং লারাক দ্বীপের মধ্যবর্তী অঞ্চল দিয়ে চলাচল করতে হয়েছে জাহাজগুলিকে। ওই অঞ্চলটি ইরানের অন্তর্গত। সেখানে দুই দ্বীপের তরফ থেকে জাহাজগুলির পরিচয় পরীক্ষা করে তবেই পার হওয়ার অনুমতি দেওয়া হয়েছে।
Published By: Anwesha AdhikaryPosted: 02:34 PM Apr 04, 2026Updated: 02:34 PM Apr 04, 2026
Sangbad Pratidin News App
খবরের টাটকা আপডেট পেতে ডাউনলোড করুন সংবাদ প্রতিদিন অ্যাপ
