Advertisement
বোফোর্স, ২জি পর আবগারি দুর্নীতি! শাসকের গদি ওলটায়, প্রমাণ হয় না অভিযোগ
শুধুমাত্র অভিযোগের ভিত্তিতে রাজার আসন থেকে পথের ধুলোয় মিশে গিয়েছেন একদা দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়াল। গায়ে লেগেছে কলঙ্কের দাগ।
'যা রটে তার কিছু তো ঘটে।' একবিংশ শতাব্দীর প্রযুক্তি জমানায় দাঁড়িয়ে এই প্রবাদের অস্তিত্ব এখন রীতিমতো সংকটে। অভিযোগ ও অপরাধ, এই দুইয়ের মধ্যে ফারক বিস্তর। যা রটে কখনও কখনও যে তার কণামাত্রও যে ঘটে না সে কথা সম্প্রতি আরও একবার প্রমাণ করে দিয়েছে দিল্লির রাউজ এভিনিউ কোর্ট।
শুধুমাত্র অভিযোগের ভিত্তিতে রাজার আসন থেকে পথের ধুলোয় মিশে গিয়েছেন একদা দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়াল। দিল্লি থেকে ক্ষমতাচ্যুত হয়েছেন তিনি, গায়ে লেগেছে কলঙ্কের দাগ। দুর্নীতির অভিযোগে সরকার পড়ে যাওয়ার এই ছবি দেশে কিন্তু নতুন নয়, বোফোর্স থেকে ২জি স্পেকট্রাম বারবার ভুয়ো দুর্নীতির অভিযোগে রক্তাক্ত হতে হয়েছে শাসককে।
অতীতে চোখ ফেরালে দেশে দুর্নীতির অভিযোগে সরকার পতনের প্রথম উদাহরণ চোখে পড়বে ১৯৮৯ সালে রাজীব গান্ধীর জমানায়। সুইডেন থেকে বোফর্স কামান কেনায় বিরাট দুর্নীতির অভিযোগ ওঠে ইউপিএ সরকারের বিরুদ্ধে। কংগ্রেস সরকারেরই প্রতিরক্ষামন্ত্রী ভিপি সিং এই অভিযোগ তুলে সরব হন প্রধানমন্ত্রী রাজীবের বিরুদ্ধে।
পরিস্থিতি এতটাই গুরুতর আকার নেয় যে প্রধানমন্ত্রী পদ থেকে ইস্তফা দেন রাজীব। দায়ের হয় মামলা। তবে দীর্ঘ আইনি লড়াইয়ের পরও কোনও দুর্নীতির অভিযোগ প্রমাণ হয়নি। যদিও অভিযোগের কলঙ্কের দাগ সহজে ওঠে না। মোদি জমানায় ২০১৮ সালে সিবিআই নতুন করে ফের এই মামলা শুরুর আবেদন জানায়। তবে সুপ্রিম কোর্টে সেই আবেদন মান্যতা পায়নি।
একইভাবে অভিযোগের সারিতে পড়েছিলেন আর এক প্রয়াত প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিং। সালটা ২০১৪। লোকসভা নির্বাচনের প্রচারে ইউপিএ সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করতে নরেন্দ্র মোদি-সহ বিজেপির প্রধান অস্ত্র ছিল টুজি স্পেকট্রাম কেলেঙ্কারি। মনমোহন সরকারের গায়ে কার্যত কালি ছিটিয়ে সরকারে আসে বিজেপি। প্রধানমন্ত্রী হন নরেন্দ্র মোদি।
কিন্তু মনমোহন সরকারের গায়ে কালি ছেটানো সেই দুর্নীতির মামলার কোনও বাস্তব ভিত্তি খুঁজে পাওয়া যায়নি। মোদি সরকারের বিপুল তৎপরতা সত্ত্বেও ২০১৭ সালে মামলা খারিজ করে সিবিআইয়ের বিশেষ আদালত জানিয়ে দেয়, স্পেকট্রাম বণ্টনে কোনও দুর্নীতি হয়নি। মনমোহন সরকারের নীতিতেও কোনও ভুল ছিল না। বেকসুর খালাস পান প্রাক্তন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী আন্দিমুথু রাজা, করুণানিধির কন্যা কানিমোঝির মতো নেতৃত্বরা।
অভিযোগ বনাম অপরাধের লড়াইয়ের শেষতম নিদর্শন দিল্লির প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়াল। গত বছর দিল্লির বিধানসভা নির্বাচনে সবচেয়ে বড় ইস্যু ছিল আম আদমি পার্টির আবগারি দুর্নীতি। বিজেপির দাবি ছিল, এই দুর্নীতির জেরে কম করে ২হাজার ২৬ কোটি টাকার দুর্নীতি করেছে দিল্লির সরকার। বেনজিরভাবে জেলবন্দি করা হয় মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়াল, মণীশ সিসোদিয়াকে। ছাড় পাননি আপের বহু শীর্ষ নেতা।
মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে জেলে বন্দি থাকলেও জামিনে মুক্তি পেয়েই পদ থেকে ইস্তফা দেন কেজরি। মামলা জারি থাকে। সম্প্রতি এই মামলায় আদালতের পর্যবেক্ষণ, তদন্ত চলাকালীন সিবিআই কারও বিরুদ্ধেই পোক্ত প্রমাণ দিতে পারেনি। আদালতের পর্যবেক্ষণ, মণীশ সিসোদিয়ার বিরুদ্ধে প্রাথমিক প্রমাণও জোগাড় করা যায়নি।
কেজরিওয়ালের প্রসঙ্গে আদালতের মত, তাঁর বিরুদ্ধে সিবিআই-ইডির মামলা সাজানো হয়েছিল স্রেফ ধারণার ভিত্তিতে। রাউজ এভিনিউ কোর্টের বিশেষ বিচারক জিতেন্দ্র সিং বলেন, এই মামলার বেশিরভাগটাই সাজানো হয়েছে রাজসাক্ষীর বয়ানের ভিত্তিতে। সেটা করা যায় না। সিবিআইয়ের তদন্তকারী আধিকারিক কূলদীপ সিংয়ের বিরুদ্ধে বিভাগীয় তদন্ত হওয়া উচিত বলেও মন্তব্য করেন বিচারপতি।
অভিযোগের বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই দেখা গিয়েছে, বাছাই করা কিছু তথ্যে রং চড়িয়ে অভিযোগকে আকাশছোঁয়া বানানো হয়েছে। তাতে, গুজব, মিথ্যা ও জল্পনাকে মিশিয়ে জনগণের মনে পরিকল্পিত ভাবে ভাবমূর্তী নষ্টের চেষ্টা হয়েছে। অতীতে এই ষড়যন্ত্রের কোপে পড়েছেন রাজীব গান্ধী, মনমোহন সিং। সেই কালো অতীতের প্রত্যাবর্তন দেখা গেল দিল্লির আবগারি দুর্নীতির অভিযোগেও।
Published By: Amit Kumar DasPosted: 06:18 PM Feb 27, 2026Updated: 06:18 PM Feb 27, 2026
Sangbad Pratidin News App
খবরের টাটকা আপডেট পেতে ডাউনলোড করুন সংবাদ প্রতিদিন অ্যাপ
