Advertisement
সাহারা থেকে ড্রিম ১১, ভারতীয় ক্রিকেট দলের স্পনসর মানেই কোম্পানিতে 'লালবাতি'!
ভারতীয় ক্রিকেট দলের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন হয়েছে প্রধান স্পনসর ড্রিম ১১-র।
ভারতীয় ক্রিকেট দলের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন হয়েছে প্রধান স্পনসর ড্রিম ১১-র। তবে শুধু ড্রিম ১১ নয়, ভারতীয় ক্রিকেট দলের সঙ্গে যে সংস্থারই চুক্তি হয়েছে, তাদের অগ্নিপরীক্ষার মুখে পড়তে হয়েছে। এমনকী অনেক সংস্থায় তো কার্যত 'লালবাতি' জ্বলেছে। নেটদুনিয়ায় অনেকেই প্রশ্ন তুলতে শুরু করেছে, তাহলে কি বিসিসিআইয়ের সঙ্গে চুক্তি 'অভিশপ্ত'?
২০০১ সালে সাহারা ইন্ডিয়া জাতীয় দলের শার্ট স্পনসর হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে। এক দশকেরও বেশি সময় ধরে ভারতীয় ক্রিকেটের সঙ্গে সমার্থক ছিল সাহারা। ২০১৩-এ সাহারার সাম্রাজ্য তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়ার পর দু'পক্ষের সম্পর্ক ছিন্ন হয়।
সাহারা গ্রুপ বন্ডের মাধ্যমে বিনিয়োগকারীদের থেকে কয়েক হাজার কোটি টাকা তুলেছিল। কিন্তু সেবি (SEBI ভারতীয় সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ বোর্ড)-র দাবি ছিল, এই টাকা অবৈধভাবে তোলা হয়েছে। ২০১২ সালে সুপ্রিম কোর্ট থেকে সাহারাকে বিনিয়োগকারীদের টাকা ফেরত দিতে বলা হয়। কিন্তু সেই নির্দেশ পালন করতে পারেনি তারা। ২০১৪ সালে সাহারা গ্রুপের চেয়ারম্যান সুব্রত রায়কে গ্রেপ্তার করা হয়। ২০২৩-এ তিনি মারা যান।
২০১৪-য় সাহারার জায়গায় স্পনসর হিসেবে আসে স্টার। সেই সময় ভারতের ম্যাচের সম্প্রচারের স্বত্বও ছিল স্টারের কাছে। জার্সির স্পনসর হিসেবে ম্যাচ প্রতি বিসিসিআইকে প্রায় দু'কোটি টাকা দিত ওই সংস্থা। সব মিলিয়ে ২০১৭ পর্যন্ত প্রায় একচেটিয়া রাজত্ব ছিল স্টারের।
সবই ঠিকঠাক চলছিল। কিন্তু ২০১৭-য় স্টারের স্ট্রিমিং প্লাটফর্ম হটস্টার আইপিএলের স্বত্ব কিনতে গিয়ে বিরাট ঋণের বোঝা ঘাড়ে চাপে। এর সঙ্গে নিজেদের সম্প্রচার স্বত্ব বজায় রাখার জন্য বাজারে অনৈতিকভাবে প্রভাব খাটানোর অভিযোগও ওঠে। হটস্টার ডিজনির সঙ্গে মিশে যাওয়ায় বিসিসিআইয়ের সঙ্গে চুক্তিও শেষ হয়ে যায় স্টারের।
২০১৭-য় স্পনসর হিসেবে আসে চিনের কোম্পানি ওপ্পো। পাঁচবছরের জন্য বিসিসিআইয়ের সঙ্গে ১০৭৯ কোটি টাকার চুক্তি হয়। কিন্তু ভারতের বাজারে ওপ্পোর ব্যবসা বিরাট ধাক্কা খায়। তার উপর চিনের সঙ্গে ক্রমশ সম্পর্ক খারাপ হতে থাকে ভারতের। নোকিয়া ও ইন্টারডিজিটালের সঙ্গে পেটেন্ট নিয়ে ঝামেলাতেও আর্থিক ক্ষতি হয় ওপ্পোর। দু'বছরের মধ্যে চুক্তি ছিন্ন করে কোম্পানিটি।
ভারতের বহুজাতিক এডটেক কোম্পানি বাইজু'স ২০১৯-এ ভারতীয় ক্রিকেট দলের জার্সির মূল স্পনসর হয়। শিক্ষাব্যবস্থার টেকনোলজির প্রসারে দ্রুত নামও করে তারা। স্পনসর হিসেবে ম্যাচ প্রতি ৫ কোটি টাকার চুক্তি ছিল। কিন্তু কোভিডের ধাক্কায় কার্যত দেউলিয়া হয়ে যায় বাইজু'স। ১৫৮ কোটি টাকা বকেয়ার দাবিতে ভারতীয় বোর্ড মামলাও করে। ২০২৩-এ দু'পক্ষের সব চুক্তি শেষ হয়।
ড্রিম ১১-এর সঙ্গে ২০২৩ থেকে আগামী বছরের মার্চ পর্যন্ত বিসিসিআইয়ের চুক্তি ছিল। প্রধান স্পনসর হিসাবে তিন বছরে ৩৫৮ কোটি টাকার চুক্তি ছিল দু’পক্ষে। ভারতের পুরুষ এবং মহিলা ক্রিকেট দলের পাশাপাশি অনূর্ধ্ব ১৯ দলের জার্সিতেও থাকে ড্রিম ১১-এর লোগো।
কিন্তু সদ্যসমাপ্ত বাদল অধিবেশনে পাশ হওয়া ‘দ্য প্রমোশন অ্যান্ড রেগুলেশন অব অনলাইন গেমিং বিল’-এর সুবাদে বন্ধ হতে পারে ড্রিম ১১, মাই ১১ সার্কেলের মতো ফ্যান্টাসি অ্যাপগুলি। যে কারণে ভারতীয় দলের স্পনসর থেকে সরে যেতে হবে ড্রিম ১১-কে। এশিয়া কাপেও সম্ভবত সূর্যকুমার যাদবদের জার্সিতে হয়তো থাকবে না কোনও স্পনসরের নাম।
Published By: Arpan DasPosted: 05:06 PM Aug 25, 2025Updated: 05:06 PM Aug 25, 2025
Sangbad Pratidin News App
খবরের টাটকা আপডেট পেতে ডাউনলোড করুন সংবাদ প্রতিদিন অ্যাপ
