Advertisement
বিশ্বকাপে কোরিয়ার যুবক দেখলেই কেন জাপটে চুমু মেক্সিকোর সুন্দরীদের? চমকে দেবে নেপথ্য গল্প
বিশ্বকাপে মেক্সিকোর কাছে হেরেও আনন্দে দক্ষিণ কোরিয়ার সমর্থকরা!
বিশ্বকাপে একই গ্রুপে দক্ষিণ কোরিয়া ও মেক্সিকো। একে-অপরকে শত্রু হিসেবেই দেখা উচিত। কিন্তু হচ্ছে তার উলটো। অন্যতম আয়োজক মেক্সিকোতে অন্যরকমের অতিথি আপ্যায়ন চলছে। কোরিয়ান যুবক দেখলেই জড়িয়ে ধরে চুমু খাচ্ছেন মেক্সিকোর সুন্দরীরা। এমনকী কোরিয়ানদের 'মনের মানুষে'র মতো দেখছেন মেক্সিকোর সকলে। কিন্তু কেন?
'এ' গ্রুপে মুখোমুখি হয়েছিল দক্ষিণ কোরিয়া ও মেক্সিকো। সেই ম্যাচে জিতে পরের রাউন্ডে গিয়েছে উত্তর আমেরিকার দেশ। কিন্তু গ্যালারিতে বা স্টেডিয়ামের বাইরে কোনও 'শত্রুতা' নেই। বরং কোরিয়ানদের নিয়ে মাতামাতি চলছে। তাদের মাথায় তুলে নাচা হচ্ছে, বিনামূল্যে মদ খাওয়ানো হচ্ছে। আর চুমু? সে তো যখন তখন। যা নিয়ে শুরুতে বিতর্কও হয়।
এক কোরিয়ান পুরুষ সাংবাদিককে ক্যামেরার সামনেই জাপটে ধরে চুমু খান মেক্সিকোর এক লাস্যময়ী। তাতে নেটিজেনদের বক্তব্য ছিল, যদি এখানে বিপরীত লিঙ্গ একই কাজ করত, তাহলে সেটা যৌন হেনস্তা হিসেবে ধরা হত। কিন্তু পরে বোঝা যায়, এই 'ভালোবাসা'র শিকড় ছড়িয়ে অনেক গভীরে।
এছাড়া আছে 'পেপেরো' খেলা। দক্ষিণ আফ্রিকায় এমনিতে খুবই জনপ্রিয় এই খেলা। মূলত চকোলেটের একটি কাঠি একসঙ্গে খেতে হয়। শেষে যতটা সম্ভব কম অংশ রাখতে হয়। কিন্তু মেক্সিকোয় এই খেলার শেষে আছে চুমু। মেক্সিকান মহিলা ও কোরিয়ান যুবক একসঙ্গে সেই কাঠি চকোলেটটি খেয়ে আর কিছু রাখছেন না। শেষটা হচ্ছে ঠোঁটে ঠোঁট রেখে। গুয়াদালজারায় এরকম একটি 'পেপেরো খেলা'র মুহূর্ত ভাইরাল হয়েছে।
এমনিতে মেক্সিকোর মানুষজন খুবই বন্ধুবৎসল। অন্যকে আপন করে নিতে জুড়ি মেলা ভার। তার উপর দক্ষিণ কোরিয়ার হাতে আছে সাংস্কৃতিক অস্ত্র- কে-পপ ও কে-ড্রামা। কোরিয়ার গান ও সিনেমায় মজে মেক্সিকো। সেদেশে স্লোগান উঠছে, 'কোরিয়ানরা আমাদের ভাই। তোমরাও এখন মেক্সিকান।' কিন্তু শুধু সেটাই নয়। এই ভালোবাসার জন্য ইতিহাস ও ফুটবল মাঠ, দু'জায়গাতেই যেতে হবে।
মেক্সিকো ছিল স্পেনের উপনিবেশ। ১৯০৫ সালে কোরিয়া থেকে একটি জাহাজ এসে পৌঁছয় মেক্সিকোর দক্ষিণে। তাতে ছিলেন ১০০০-এর বেশি কোরিয়ান পরিযায়ী শ্রমিক। তাঁরা আর ফিরে যাননি। পরে তারা রাজধানী মেক্সিকো সিটি ও তিজুয়ানাতে ছড়িয়ে পড়েন। সংখ্যায় হয়তো খুব বেশি নয়। কিন্তু মিলেমিশে তাঁরা মেক্সিকোন হয়ে গিয়েছেন।
দ্বিতীয় দফার অভিবাসীদের ঢেউ এসে পৌঁছয় গত শতাব্দীর নয়ের দশকে। মেক্সিকোয় কোরিয়ানদের সংখ্যা নেহাত কম নয়। প্রায় ২০ হাজার। মেক্সিকো সিটিতে 'ছোট সিওল' নামে একটা জায়গাও আছে। সাংস্কৃতিক আদানপ্রদানও হয়। কোরিয়ার খাবারও খুব পছন্দের মেক্সিকানদের। ২০১৫-এ কোরিয়ান ব্যান্ড বিটিএস-কে নিয়ে উন্মাদনা আলাদা পর্যায়ে পৌঁছেছিল। সব মিলিয়ে কোরিয়ানদের প্রতি মেক্সিকানদের দুর্বলতা ক্রমশ বাড়ছে।
Published By: Arpan DasPosted: 09:14 PM Jun 22, 2026Updated: 09:16 PM Jun 22, 2026
Sangbad Pratidin News App
খবরের টাটকা আপডেট পেতে ডাউনলোড করুন সংবাদ প্রতিদিন অ্যাপ
