Advertisement
ডোভালের প্রাক্তন ডেপুটি, কেন্দ্রের 'অনুগত', রাজ্যপাল হয়ে মোদির বহু 'কার্যসিদ্ধি'র পর এবার বঙ্গে রবি
নতুন রাজ্যপাল হিসাবে ঘোষণা করা হয়েছে আরএন রবির নাম। বাংলার আগে তিনি তামিলনাড়ুর রাজ্যপাল ছিলেন।
বিধানসভা নির্বাচনের আগেই আচমকা পদত্যাগ করেছেন বাংলার রাজ্যপাল সিভি আনন্দ বোস। নতুন রাজ্যপাল হিসাবে ঘোষণা করা হয়েছে আরএন রবির নাম। বাংলার আগে তিনি তামিলনাড়ুর রাজ্যপাল ছিলেন। এবং সেই সময়ে রবি এবং অসহযোগিতা কার্যত সমার্থক হয়ে ওঠে।
রবির জীবন এবং কেরিয়ার একেবারে ফিল্মি ধাঁচের। বিহারের পাটনায় জন্ম। পদার্থবিদ্যায় স্নাতকোত্তর হয়ে কর্মজীবনের শুরুতে কিছুদিন সাংবাদিক হিসাবে কাজ করেছেন। তারপর ১৯৭৬ সালে ইউপিএসসি পাস করে আইপিএস হিসাবে নতুন কর্মজীবন শুরু করেন। বছর দশেক কাজ করেন আইপিএস হিসাবে।
সেখান থেকে সিবিআইয়ে যোগ দেন। কাজ করেছেন আইবিতেও। সরকারি চাকরি থেকে অবসর নেওয়ার পর থেকেই মোদি প্রশাসনের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ হয়ে ওঠেন। ২০১৪ সালে তাঁকে জয়েন্ট ইন্টেলিজেন্স কমিটির চেয়ারম্যান নিযুক্ত করা হয়। ২০১৮ সালে জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত ডোভালের ডেপুটিও হন।
আইবিতে থাকাকালীন নাগাল্যান্ডে অশান্তি রুখতে কেন্দ্রের মধ্যস্থতাকারী হিসাবে লাগাতার কাজ করেছেন রবি। অভিযোগ ওঠে, সেনাকে ব্যবহার করে বিরোধী আন্দোলন দমিয়ে দিতে চাইছেন তিনি। নাগা চুক্তি নিয়ে ভুল বোঝানো এবং প্রভাব খাটানোর অভিযোগও রয়েছে রবির বিরুদ্ধে।
২০১৯ সাল থেকে রাজ্যপাল হিসাবে রবির যাত্রা শুরু। বরাবরই নিজের কাজেকর্মে কেন্দ্রের 'আনুগত্যের' প্রমাণ দিয়েছেন তিনি, এমনটাই অভিযোগ বিরোধীদের। আইবিতে থাকাকালীন উত্তর-পূর্ব ভারতে কাজ করেছিলেন। রাজ্যপাল হিসাবে প্রথমে মেঘালয়ের দায়িত্ব পেয়েছিলেন।
পরে রাজ্যপাল হিসাবে নাগাল্যান্ডে সরকারের কার্যকলাপে বারবার হস্তক্ষেপের অভিযোগ উঠেছে রবির বিরুদ্ধে। এমনকি সংবাদমাধ্যমকেও এড়িয়ে যেতেন। তবে রাজনৈতিক মহল মনে করে, রবির পারফরম্যান্সে 'খুশি' হয় কেন্দ্র। ফলে নাগাল্যান্ড থেকে 'প্রমোশন' হয় রবির।
২০২১ সালের সেপ্টেম্বরে বিজেপির 'শক্ত গাঁট' তামিলনাড়ুতে রাজ্যপাল হিসাবে দায়িত্ব নেন রবি। গত পাঁচবছর ধরে সেরাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী এম কে স্ট্যালিনের সঙ্গে বারবার সংঘাতে জড়িয়েছেন। দুপক্ষের দ্বন্দ্ব এতটাই চরমে পৌঁছয় যে সুপ্রিম কোর্ট, রাষ্ট্রপতি প্রত্যেকের ক্ষমতা-এক্তিয়ার নিয়েও প্রশ্ন উঠতে শুরু করে।
দ্বন্দ্বের সূত্রপাত তামিলনাড়ু বিধানসভায় পাশ হয়ে যাওয়া বিল থেকে। দীর্ঘদিন ওই বিলে সম্মতি দেননি রবি। বিলের জটিলতা কাটাতে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয় স্ট্যালিন সরকার। আবেদনের প্রেক্ষিতে শীর্ষ আদালত রায় দেয়, নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে বিল প্রসঙ্গে সিদ্ধান্ত নিতে হবে রাজ্যপালকে।
এই রায়ের বিরুদ্ধে প্রশ্ন ওঠে, আপত্তি জানান খোদ রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু। ১৪টি প্রশ্ন তুলে ধরে জবাব তলব করেন সুপ্রিম কোর্টের কাছে। নিজের অবস্থান কিছুটা বজায় রেখে শীর্ষ আদালত জানিয়ে দেয়, রাজ্যপালরা যদি বিল আটকে রাখেন তাহলে সেটা যুক্তরাষ্ট্রীয় কাঠামোকে ভঙ্গ করে। তবে বিল পাশের জন্য কোনও সময়সীমাও বেঁধে দেওয়া যায় না।
২০২৫ সালের প্রায় পুরোটা জুড়েই তামিলনাড়ু সরকারের সঙ্গে সংঘাতে জড়িয়েছেন রবি। তামিলনাড়ুর রাজ্যপাল থাকাকালীন স্বাধীনতা দিবস এবং সাধারণতন্ত্র দিবসের ভাষণে ডিএমকে'কে নিশানা করেছেন। উপাচার্য নিয়োগ ঘিরেও সরকারের সঙ্গে সংঘাতে জড়িয়েছেন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, তামিলনাড়ুতে রবি যেভাবে কাজ করেছেন তারপর তিনিই কেন্দ্রের সেরা অস্ত্র। সেকারণেই ভোটমুখী বাংলায় মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে কোনও আলোচনা না করেই রবিকে বসিয়ে দেওয়া হল রাজ্যপালের আসনে। যুক্তরাষ্ট্রীয় কাঠামোয় আঘাত হেনেছে কেন্দ্র, ইতিমধ্যেই এই অভিযোগ তুলেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
Published By: Anwesha AdhikaryPosted: 04:51 PM Mar 06, 2026Updated: 04:51 PM Mar 06, 2026
Sangbad Pratidin News App
খবরের টাটকা আপডেট পেতে ডাউনলোড করুন সংবাদ প্রতিদিন অ্যাপ
