Advertisement
বিচারপতিদের বারবার আক্রমণ! 'শ্রীঘর যাত্রা' এড়াতে সেই আদালতই ভরসা অভিষেকের, ঝুলছে ক'টি মামলা?
অভিষেকের বিরুদ্ধে কার্যত মামলার পাহাড়!
অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তৃণমূলের সেকেন্ড ইন কম্যান্ড। রাজনীতিতে পা দিয়েই যুব তৃণমূলের দায়িত্ব। তারপর ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ, তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক। এই রকেটের গতিতে উত্থানের নেপথ্যে ছিল না বিন্দুমাত্র লড়াই। ২০১১ সালে হঠাৎ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সাজানো বাগানের দায়িত্ব পান তিনি। অল্পসময়েই তৃণমূলের সম্পূর্ণ রাশ চলে যায় তাঁর হাতে। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে বাড়তে থাকে তাঁর দম্ভ-অহংকার।
মা-মাটি-মানুষের কথা বলা তৃণমূল অভিষেকের হাত ধরে হয়ে যায় 'কর্পোরেট'। যে নেতারা বছরের পর বছর লড়েছেন, তাঁদের মতামতের তোয়াক্কা না করে আইপ্যাকের পরামর্শে নিজের মর্জিতে পরিচালনা করতে শুরু করেন সবটা। দলটাকে কার্যত ব্যক্তিগত সম্পত্তি বানিয়ে ফেলেছিলেন তিনি। ভেবেছিলেন, তিনি সব কিছুর উর্ধ্বে, এমনকী আইনেরও। আর তাই বারবার নিশানা করেছেন আদালতকে, বিচারপতিদের। কলকাতা হাই কোর্টের বিচারপতি রাজাশেখর মান্থাকে নাম করে আক্রমণ করেছিলেন তৃণমূল সেনাপতি।
কিন্তু ওই যে কথায় আছে, 'আজ যে রাজা, কাল সে ফকির!' মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ক্ষমতাচ্যুত হতেই অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের যাবতীয় জারিজুরি শেষ! ক্ষমতা, নিরাপত্তা-এসব তো গিয়েছে সেই সঙ্গে মাথার উপর অভিযোগের পাহাড়। প্রতিমুহূর্তে শুনতে হচ্ছে চুরির অপবাদ। যার ইশারায় গোটা রাজ্য চলত, তিনি এখন ঘরের কোণে, প্রতিমুহূর্তের সঙ্গী আতঙ্ক। বিভিন্ন ইস্যুতে বিচারপতিদের নিশানা করা যুবরাজ এখন 'শ্রীঘর যাত্রা' এড়াতে আদালতের ভরসায়।
কটি মামলায় জড়িয়েছে অভিষেকের নাম? ইস্টার্ন কোলফিল্ডস লিমিটেডের (ECL) খনি থেকে কয়লা চুরি ও কোটি কোটি টাকার দুর্নীতিতে বছর পাঁচেক আগেই নাম জড়িয়েছিল অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের। তাঁর ঘনিষ্ঠ একাধিক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। মামলার তদন্তভার এই মুহূর্তে রয়েছে ইডির হাতে। একাধিকবার সস্ত্রীক অভিষেককে তলবও করেছিলেন আধিকারিকরা। জল গড়িয়েছিল সুপ্রিম কোর্টে। যদিও অভিষেক বারবার দাবি করেছেন, তিনি কোনও অন্য়ায় করেননি। এখনও চলছে কয়লা পাচার মামলার তদন্ত।
নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই উত্তপ্ত বঙ্গ রাজনীতি। তাতেও নাম জড়িয়েছে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের। আগে একাধিকবার এই মামলায় তৃণমূল সেনাপতিকে তলব করেছিল ইডি। সম্প্রতি ফের তাঁকে সমন পাঠানো হয়। আগামিকাল অর্থাৎ ১৫ জুন তাঁর ইডি দপ্তরে হাজিরা দেওয়ার কথা। এই মামলায় এই মুহূর্তে কোনও রক্ষাকবচ নেই অভিষেকের।
ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনের পর বিরোধী দলনেতা বাছাইকে কেন্দ্র করে সই জাল কাণ্ডে নাম জড়িয়েছে অভিষেকের। তদন্তভার সিআইডি পাওয়ার পরই তিনবার তাঁকে তলব করা হয়। হাই কোর্টের রক্ষাকবচের অপেক্ষায় প্রতিবারই হাজিরা এড়িয়ে যান। সেই ঘটনায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়িতেও হানা দিয়েছিল সিআইডি। পরবর্তীতে বিচারপতির ধমকে ভবানীভবনে যান অভিষেক। যদিও রক্ষাকবচ পাওয়ার পরই অফিসারদের সম্মুখীন হন তিনি। যদিও তদন্তে সহযোগিতা করেননি বলেই খবর। আজ, রবিবার দ্বিতীয়বার হাজিরা দিয়েছেন তিনি।
এখানেই শেষ নয়, 'ফল ঘোষণার পর রবীন্দ্রসঙ্গীতের সঙ্গে ডিজে বাজবে' বলে মন্তব্য করেছিলেন অভিষেক। যার জেরেও আইনি জটিলতার মুখে অভিষেক। আগেই বিধাননগর থানা ও শিলিগুড়ি থানায় তাঁর বিরুদ্ধে এফআইআর হয়েছিল। সম্প্রতি এই ডিজে মন্তব্য মামলার তদন্তভার হাতে নিয়েছে সিআইডি। ১৬ তারিখ হাজিরার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে তৃণমূল সেনাপতিকে। এদিকে ২০১৮ সালের একটি মারধরের ঘটনায় ডায়মন্ড হারবার থানায় অভিষেকের বিরুদ্ধে এফআইআর করেছেন অভিজিৎ দাস।
কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকে উদ্দেশ্য করে উসকানিমূলক মন্তব্য করার অভিযোগে শিলিগুড়ি থানায় একটি মামলা হয়েছে অভিষেকের বিরুদ্ধে। এদিকে আমফানের ত্রাণ দুর্নীতির অভিযোগে বিষ্ণুপুর থানায় তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করেছেন বিজেপি নেতা অভিজিৎ দাস ওরফে ববি। ২৫০ কোটি টাকার দুর্নীতি করা হয়েছে বলে অভিযোগ অভিযোগকারীর। ত্রিপুরাতেও অভিষেকের বিরুদ্ধে দায়ের হয়েছে মামলা।
Published By: Tiyasha SarkarPosted: 05:31 PM Jun 14, 2026Updated: 06:51 PM Jun 14, 2026
Sangbad Pratidin News App
খবরের টাটকা আপডেট পেতে ডাউনলোড করুন সংবাদ প্রতিদিন অ্যাপ
