Advertisement
এজবাস্টনের ইতিহাস থেকে ওভালে কামব্যাক, রইল ভারত-ইংল্যান্ড টেস্ট সিরিজের একরাশ স্মরণীয় মুহূর্ত
ভাঙা পায়ে পন্থের হাফসেঞ্চুরি যেমন আছে, তেমনই রয়েছে লর্ডসে স্বপ্নভঙ্গের মুহূর্ত।
লিডসে পন্থের জোড়া সেঞ্চুরিতেও হার: ঋষভ পন্থ। টেকনিক, টেস্টের মানসিকতা নিয়ে কথা শুনতে হয়। তাঁর ব্যাটিং স্টাইল নাকি ‘অদ্ভুত’, ‘অসুন্দর’, টেস্টের সঙ্গে মানানসই নয়। কিন্তু তাতে যদি সেঞ্চুরি আসে, লাভ তো দেশেরই। লিডসে মাত্র ১৩০ বলে সেঞ্চুরি হাঁকান। প্রথম ইনিংসেও সেঞ্চুরি হাঁকিয়েছিলেন। ওই টেস্টে পাঁচ ভারতীয় ব্যাটার সেঞ্চুরি করেও ভারতকে হারতে হয়েছিল।
এজবাস্টনে ইতিহাস: এজবাস্টন টেস্টে নতুন ইতিহাস লিখেছে শুভমান গিলের ‘নতুন ভারত'। এর আগে এজবাস্টনে কখনও টেস্ট জেতেনি। বোলিং-ব্যাটিংয়ে ইংরেজদের শাসন করে দ্বিতীয় টেস্ট ৩৩৬ রানে জেতে ভারত। আকাশ দীপ দুই ইনিংস মিলিয়ে নেন ১০ উইকেট।
দিদির জন্য লড়াই আকাশ দীপের: এজবাস্টনে দুই ইনিংস মিলিয়ে দশ উইকেট পেয়েছিলেন আকাশ দীপ। দেশকে জেতানোর পর নিজের অনবদ্য পারফরম্যান্স উৎসর্গ করলেন ক্যানসারে আক্রান্ত দিদিকে। বাংলার পেসার বলেছিলেন, "বহেন, ইয়ে তুমহারে লিয়ে (দিদি, এটা তোমার জন্য)। যখনই বল করতাম, তখনই তোমার মুখটা ভেসে উঠত। আমি তোমাকে শুধু একটু খুশি করতে চেয়েছিলাম। আমরা সবাই তোমার সঙ্গে আছি।"
বল বিতর্ক: ভারত বনাম ইংল্যান্ড সিরিজের উত্তাপের সঙ্গে সঙ্গে বেড়েছে ডিউক বল বিতর্ক। সময়ের অনেক আগেই ডিউক বলের আকৃতি খারাপ হয়ে যাচ্ছে, এই নিয়ে একাধিকবার সুর চড়িয়েছে ভারতীয় দল। কিংবদন্তি ক্রিকেটার সুনীল গাভাসকরও তুলোধোনা করেছেন ডিউক বলকে।
লর্ডসের সিরাজের দুর্ভাগ্য: লর্ডসে সোয়েব বশিরের বলটা ঠিকভাবেই ডিফেন্স করেছিলেন মহম্মদ সিরাজ। কিন্তু সেটাই যে ঘুরে গিয়ে বেল ভেঙে দেবে, তা বোধহয় নিয়তির লিখন ছিল। হতাশ-ক্লান্ত ভাবে মাটিতে বসে পড়েছিলেন সিরাজ। অন্যদিকে রবীন্দ্র জাদেজার চোখেমুখে একরাশ অবিশ্বাস। মাঠের অন্য প্রান্তে তখন চলছে ইংল্যান্ডের উদ্দাম সেলিব্রেশন। ওই সময় সিরাজ আউট না হলে ম্যাচ জিততেও পারত। কারণ, ভারতের জিততে আর ২২ রান দরকার ছিল।
ম্যাঞ্চেস্টারে ভাঙা পায়ে পন্থের লড়াই: ম্যাঞ্চেস্টার টেস্টের প্রথম দিন রিভার্স সুইপ মারতে গিয়ে পায়ে চোট পান ঋষভ পন্থ। দ্বিতীয় দিন শুরুর আগে জানা গেল, ইংল্যান্ড সিরিজ থেকেই ছিটকে গিয়েছেন। ছ’সপ্তাহ মাঠের বাইরে থাকতে হবে তাঁকে। কিন্তু দেশের দরকারে তিনি সবটুকু উজাড় করে দিলেন। হাফসেঞ্চুরি হাঁকানোর পরে অবশ্য থেমে যায় পন্থের অসমসাহসী লড়াই।
ম্যাঞ্চেস্টারে অদম্য জাদেজা-ওয়াশিংটন: ম্যাঞ্চেস্টারে রবীন্দ্র জাডেজা এবং ওয়াশিংটন সুন্দর অদম্য লড়াই করেন। ১৪৩ ওভার ব্যাট করে ইংল্যান্ডের মুখের গ্রাস ছিনিয়ে নিয়ে ড্র করেন শুভমন গিলরা। দ্বিতীয় ইনিংসে ছক্কা মেরে শতরান করেন জাডেজা (১০৭)। অন্যদিকে জীবনের প্রথম সেঞ্চুরি করেন ওয়াশিংটন (১০১)।
হ্যান্ডশেক বিতর্ক: যত কাণ্ড ম্যাঞ্চেস্টারে। ভারত তখন ৭৫ রানে এগিয়ে। সেই সময় ইংল্যান্ড অধিনায়ক বেন স্টোকস পারস্পরিক সম্মতিতে খেলা বন্ধ করতে চাইলেন। রাজি হননি জাদেজারা। যার জেরে ম্যাচের পর জাদেজা এবং সুন্দরের সঙ্গে হাত মেলাতে চাননি স্টোকস।
ওভালে সিরাজের কামব্যাক: প্রসিদ্ধ কৃষ্ণের বলেই ফাইন লেগে বড় শট মারেন ব্রুক। বল সোজা চলে আসে সিরাজের হাতে। ক্যাচ ধরেও ফেলেন তিনি। কিন্তু ভারসাম্য রাখতে গিয়ে বাউন্ডারি লাইনে পা দিয়ে ফেলেন তিনি। তারপর মাঠের বাইরেই চলে যান। আউটের বদলে ছয় রান পান ব্রুক। তিনি ১১১ রান করে যান। কিন্তু ওভালে ভারতের জয় নায়ক সিরাজই। শেষ উইকেটটাও তিনিই নেন।
রেকর্ড গড়ার নায়ক অধিনায়ক গিল: ইংল্যান্ড সিরিজে পাঁচ টেস্টে তাঁর রান সংখ্যা ৭৫৪। গড় ৮৩.৭৮। যার মধ্যে আছে চারটে সেঞ্চুরি। সর্বোচ্চ রান ২৬৯। যার সৌজন্যে স্যর ডন ব্র্যাডম্যান (দু’বার), স্যর গারফিল্ড সোবার্স, গ্রেগ চ্যাপেল, সুনীল গাভাসকর (দু’বার), গ্রেম স্মিথদের মতো তারকাদের পাশে বসেছে তাঁর নাম। ১৯৭১ সালের ক্যারিবিয়ান সফরে ৭৭৪ রান করেছিলেন সুনীল গাভাসকর। কোনও সিরিজে ভারতীয় হিসেবে করা সেটাই সর্বোচ্চ রানের রেকর্ড। গিল সেই নজির অল্পের জন্য ভাঙতে পারেননি।
রুটের কীর্তি: সোনালি ফর্ম অব্যাহত জো রুটের। আর তাঁর শাসনে ফের বেকায়দায় ভারত। ম্যাঞ্চেস্টারে সেঞ্চুরিও করেন তিনি। সেই সঙ্গে টেস্টে সর্বাধিক রানের তালিকায় টপকে যান রিকি পন্টিং, জ্যাক কালিস, রাহুল দ্রাবিড়দের। টেস্টে সর্বাধিক রানের তালিকায় রুট এখন দ্বিতীয় স্থানে। তাঁর সামনে শুধু ‘ক্রিকেট ঈশ্বর’ শচীন তেণ্ডুলকর। ওভালেও সেঞ্চুরি করেন ইংরেজ ব্যাটার।
Published By: Arpan DasPosted: 07:04 PM Aug 04, 2025Updated: 07:55 PM Aug 04, 2025
Sangbad Pratidin News App
খবরের টাটকা আপডেট পেতে ডাউনলোড করুন সংবাদ প্রতিদিন অ্যাপ
