Advertisement
সবজি দিয়েই তৈরি দেশের এই সব নামী মিষ্টি, রসনাপ্রেমীরা জানতেন তো?
ভারতেই রয়েছে এমন জনপ্রিয় কিছু মিষ্টি, যা তৈরি করতে দুধ, চিনি, গুড়ের মতো উপাদানের পাশাপাশি ব্যবহার হয় সবজির!
ছোট হোক বা বড়, খাবারে সবজি শুনলে মুখ বাংলার পাঁচ হয়ে যায় অনেকেরই। আবার শেষপাতে মিষ্টি রয়েছে জানলে, সে মুখেই ফুটে ওঠে হাসি। কিন্তু জানেন কি, ভারতেই রয়েছে এমন জনপ্রিয় কিছু মিষ্টি, যা তৈরি করতে দুধ, চিনি, গুড়ের মতো উপাদানের পাশাপাশি ব্যবহার হয় সবজির! তবে কি খেতে খারাপ লাগে? একেবারেই না! বরং রীতিমত আয়েশ করে খায় মিষ্টিপ্রেমীরা।
পটল সন্দেশ - তৈরির পরেও হুবহু পটলের মতোই দেখতে লাগে এই সন্দেশ। শুকনো দুধের খোলসের ভিতর খোয়া, চিনি, পেস্তা ও কাঠবাদামের পুর দেওয়া হয়। তবে অনেক সময় আবার পটলের নির্যাসও ব্যবহার হয় তৈরিতে। যদিও বাকি উপাদানের সঙ্গে মিশে তার স্বাদ আর আলাদা করে বোঝা যায় না। এই মিষ্টি মুখে দিলেই গলে যায় এবং স্বাদে যেমন অনন্য, তেমনই দেখতে আকর্ষণীয়।
পেঠা - উত্তর ভারতের অন্যতম জনপ্রিয় মিষ্টি পেঠা তৈরি হয় চালকুমড়ো দিয়ে। চালকুমড়োর টুকরো প্রথমে চুনের জলে ভিজিয়ে রাখা হয়, তারপর সেদ্ধ করে চিনির রসে ডুবিয়ে রাখা হয় যতক্ষণ না তা স্বচ্ছ ও মিষ্টি হয়ে ওঠে। বাংলায় এই পেঠারই এক রকমফের হল মোরব্বা। বর্তমানে কেশর পেঠা, আঙুরি পেঠা ও স্টাফড পেঠার মতো নানা ধরনের পেঠা পাওয়া যায়।
লাউয়ের হালুয়া - লাউ কুরিয়ে তা ঘিতে ভেজে নেওয়া হয়। তার সঙ্গে দুধ, চিনি, এলাচ গুঁড়ো ও বিভিন্ন ড্রাই ফ্রুট মিশিয়ে তৈরি করা হয় এই সুস্বাদু হালুয়া। এটি নরম, সুগন্ধি এবং পুষ্টিকর ও ঐতিহ্যবাহী। এমনিতে এর রঙ ফ্যাকাসে লাগে, তবে কেউ চাইলে ফুড কালারিং মেশাতে পারে এর সঙ্গে। একইভাবে বানানো যায় বিট এবং কুমড়োর হালুয়া।
টমেটোর বরফি - বরফি বললে উপাদান হিসেবে কেবল কাজুর কথাই মাথায় আসে আমাদের। তবে এই বরফি এক্কেবারে আলাদা। তৈরিতে ব্যবহার হয় পাকা টমেটো, খোয়া ক্ষীর, চিনি ও ঘি। রঙেও থাকে লালচে আভা। টমেটোর হালকা টক স্বাদ খোয়া ও চিনির মিষ্টতার সঙ্গে দারুণ জমে ওঠে। প্রাথমিকভাবে এই স্বাদ বাঙালি মুখে অচেনা লাগতে পারে। এবং একবার ভালোবেসে ফেললে, নেশা কাটানো মুশকিল!
পিঁয়াজের ক্ষীর - পিঁয়াজের আবার ক্ষীর হয় নাকি! শুনলে অবাক হবেন ঠিকই, তবে ইতিহাস বলে এই ক্ষীর মুঘল ও আওধি রান্নাঘরের একটি ঐতিহ্যবাহী মিষ্টান্ন। বিশেষ পদ্ধতিতে পিঁয়াজের ঝাঁজ দূর করা হয়। তারপর তা দুধ, চিনি ও চালের সঙ্গে মিশিয়ে প্রস্তুত করা হয় এই অতি উপাদেয় খীর। রান্নার শেষ পর্যায়ে এলাচ, জাফরান ও ড্রাই ফ্রুট দিয়ে সাজানো হয় তা।
রসুনের ক্ষীর - হ্যাঁ মশাই, সত্যিই হয়! রাজস্থান ও উত্তর প্রদেশের অত্যন্ত ব্যতিক্রমী মিষ্টি এই রসুনের ক্ষীর। রসুন সেদ্ধ করে ঘিতে হালকা ভেজে নেওয়ার পর তার গন্ধ অনেকখানি দূর হয়। তারপর দুধ, চিনি, এলাচ ও ড্রাই ফ্রুটের সঙ্গে দীর্ঘক্ষণ করে রান্না করা হয়। সঠিক পদ্ধতি মেনে তৈরি করলে তাতে রসুনের তীব্র গন্ধের একরত্তিও আর থাকে না!
Published By: Utsa TarafdarPosted: 08:06 PM Jun 27, 2026Updated: 08:18 PM Jun 27, 2026
Sangbad Pratidin News App
খবরের টাটকা আপডেট পেতে ডাউনলোড করুন সংবাদ প্রতিদিন অ্যাপ
