Advertisement
হাঁটলেই হাঁপিয়ে যাচ্ছেন, নখ ভাঙছে? এই ৭ লক্ষণ হতে পারে আয়রন কমার ইঙ্গিত
শরীরে আয়রন ঘাটতি বাসা বাঁধে নীরবে। শুরুতে হয়তো শুধু ক্লান্তি, একটু মাথা ঘোরা বা আগের মতো কাজ করতে ইচ্ছে না করা- বেশিরভাগ মানুষই এসবকে ব্যস্ততা, ঘুমের অভাব বা মানসিক চাপ ভেবে এড়িয়ে যান। কিন্তু শরীরে আয়রন কমে গেলে রক্তে অক্সিজেন সরবরাহে সমস্যা হয়, আর তখন ধীরে ধীরে পুরো শরীরে তার প্রভাব পড়তে শুরু করে। তাই কিছু সাধারণ উপসর্গ কখনও অবহেলা করা উচিত নয়।
অতিরিক্ত ক্লান্তি আয়রনের অভাবের সবচেয়ে বড় সতর্কবার্তা। সকালে ঘুম থেকে ওঠার পরও শরীর ভারী লাগা, কাজে মন না বসা বা সামান্য হাঁটাহাঁটিতেই হাঁপিয়ে ওঠা। মনে হয় শরীরের সমস্ত শক্তি যেন নিঃশেষ হয়ে যাচ্ছে। কারণ আয়রন কমে গেলে শরীরে পর্যাপ্ত হিমোগ্লোবিন তৈরি হয় না। ফলে কোষগুলো প্রয়োজনীয় অক্সিজেন পায় না এবং শরীর ক্রমশ দুর্বল হয়ে পড়ে। দীর্ঘদিন এমন চললে দৈনন্দিন কাজকর্ম কঠিন হয়ে ওঠে।
ত্বক হঠাৎ ফ্যাকাশে হয়ে যাওয়া অনেক সময় বড় সংকেত দেয়। মুখের স্বাভাবিক উজ্জ্বলতা কমে যায়, ঠোঁট ফ্যাকাশে দেখায়, এমনকী চোখের ভেতরের অংশও অস্বাভাবিক সাদা হয়ে যেতে পারে। রক্তে হিমোগ্লোবিন কমে গেলে এই পরিবর্তন স্পষ্ট হয়। অনেকেই বিষয়টি খেয়াল করেন না, কারণ এটি ধীরে ধীরে ঘটে। তবে দুর্বলতা বা ক্লান্তির সঙ্গে ফ্যাকাশে ভাব দেখা দিলে অবশ্যই রক্তপরীক্ষা করা প্রয়োজন।
হাঁটতে গিয়ে দম ফুরিয়ে যাওয়া বা অল্প পরিশ্রমেই বুক ধড়ফড় করা শরীরে অক্সিজেন ঘাটতির ইঙ্গিত হতে পারে। সিঁড়ি ভাঙা, দ্রুত হাঁটা বা সামান্য ব্যাগ বহন করতেও কষ্ট অনুভব হয়। অনেকের বুকে চাপ বা শ্বাস নিতে সমস্যা হয়। শরীর তখন অক্সিজেনের ঘাটতি পূরণে বেশি পরিশ্রম করে। যদি এই সমস্যা বারবার হয় বা হঠাৎ বেড়ে যায়, তাহলে তা অবহেলা না করে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।
ঘন ঘন মাথাব্যথা বা মাথা ঘোরা আয়রনের ঘাটতির আরেকটি সাধারণ লক্ষণ। অনেকেই দাঁড়ানোর সময় ভারসাম্য হারান বা চোখে ঝাপসা দেখেন। মস্তিষ্কে পর্যাপ্ত অক্সিজেন না পৌঁছালে এমন সমস্যা দেখা দেয়। কারও কারও ক্ষেত্রে মনোযোগ কমে যায়, কাজের প্রতি আগ্রহ হারিয়ে যায় বা সারাক্ষণ ঝিমঝিম ভাব থাকে। যদিও এই উপসর্গের আরও অনেক কারণ থাকতে পারে, তবে অন্য লক্ষণের সঙ্গে মিললে আয়রন ঘাটতির সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যায় না।
নখের পরিবর্তনও শরীরের ভেতরের সমস্যার বার্তা দেয়। নখ সহজেই ভেঙে যাওয়া, পাতলা হয়ে যাওয়া বা মাঝখানে বসে গিয়ে চামচের মতো আকৃতি নেওয়া আয়রনের ঘাটতির লক্ষণ হতে পারে। চিকিৎসাবিজ্ঞানে একে কোয়েলোনাইকিয়া বলা হয়। দীর্ঘদিন শরীরে পর্যাপ্ত আয়রন না থাকলে সুস্থ টিস্যু তৈরি বাধাপ্রাপ্ত হয়, যার প্রভাব নখের উপর স্পষ্টভাবে দেখা যায়। তাই নখের অস্বাভাবিক পরিবর্তন কখনও হালকাভাবে নেওয়া উচিত নয়।
হাত-পা ঠান্ডা থাকা অনেকের কাছেই স্বাভাবিক মনে হলেও এটি আয়রন ঘাটতির ইঙ্গিত হতে পারে। শরীর তখন গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গগুলোতে বেশি রক্ত পৌঁছে দিতে চায়, ফলে হাত-পায়ের দিকে রক্ত চলাচল কমে যায়। এর ফলে গরম আবহাওয়াতেও আঙুল ঠান্ডা হয়ে থাকে। যদি এর সঙ্গে ক্লান্তি, দুর্বলতা বা মাথা ঘোরার সমস্যা থাকে, তাহলে শরীরে আয়রনের মাত্রা পরীক্ষা করানো প্রয়োজন।
আয়রনের অভাবে খাবারের প্রতি তীব্র আকর্ষণ তৈরি হতে পারে। কেউ বরফ চিবোতে ভালোবাসেন, কেউ আবার মাটি, চক বা কাগজের মতো অখাদ্য জিনিস খেতে ইচ্ছা অনুভব করেন। চিকিৎসাবিজ্ঞানে এই অবস্থাকে পিকা বলা হয়। এটি শুনতে অস্বাভাবিক লাগলেও আয়রনের ঘাটতির একটি পরিচিত লক্ষণ। বিশেষজ্ঞরা বলেন, এমন প্রবণতা দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত, কারণ অখাদ্য জিনিস খাওয়া শরীরের জন্য বিপজ্জনক হতে পারে।
নারীদের মধ্যে আয়রন ঘাটতি তুলনামূলক বেশি দেখা যায়। মাসিকে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ, গর্ভাবস্থা, অপুষ্টিকর খাদ্যাভ্যাস বা দীর্ঘদিন অনিয়মিত খাওয়াদাওয়া এর বড় কারণ। শুধু ওষুধ নয়, সঠিক খাবারও এই সমস্যার সমাধানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেয়। পালং শাক, ডিম, মাছ, মাংস, ডাল, বিট ও বাদামের মতো আয়রনসমৃদ্ধ খাবার নিয়মিত খাওয়া উপকারী। তবে চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া আয়রন ট্যাবলেট খাওয়া উচিত নয়।
শরীরের ছোট ছোট সংকেত অনেক সময় বড় সমস্যার আগাম বার্তা দেয়। তাই দীর্ঘদিন ক্লান্তি, শ্বাসকষ্ট, ফ্যাকাশে ভাব বা মাথা ঘোরার মতো উপসর্গ থাকলে তা অবহেলা করবেন না। সময়মতো রক্তপরীক্ষা ও সঠিক চিকিৎসায় আয়রনের ঘাটতি সহজেই নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব। সচেতনতা, সুষম খাদ্যাভ্যাস এবং নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা শরীরকে সুস্থ ও প্রাণবন্ত রাখতে সবচেয়ে বড় ভূমিকা পালন করে।
Published By: Pritimoy Roy BurmanPosted: 09:01 PM May 13, 2026Updated: 09:01 PM May 13, 2026
Sangbad Pratidin News App
খবরের টাটকা আপডেট পেতে ডাউনলোড করুন সংবাদ প্রতিদিন অ্যাপ
