Advertisement
৩৩ বছরে প্রথমবার, কেন 'জওয়ান'-এর জন্যই জাতীয় পুরস্কার পেলেন শাহরুখ খান?
'কিসি চিজ কো সিদ্ধত সে চাহো তো...', তাঁর তুলনা তিনি নিজেই।
তিনি বলিউডের বাদশা। তাঁর তুলনা তিনি নিজেই। ৩৩ বছরের অভিনয় জীবনে দর্শক ও ইন্ডাস্ট্রিকে উপহার দিয়েছেন অসংখ্য কালজয়ী ছবি। ১ আগস্ট, শুক্রবার তাঁর অভিনয় জীবনের এক পরমপ্রাপ্তি ঘটল তাঁর। ৭১তম জাতীয় পুরস্কার পেলেন কিং খান। অ্যাটলি পরিচালিত 'জওয়ান' ছবির জন্য সেরা অভিনেতার সম্মানপ্রাপ্তি হল তাঁর। এ এমন এক চরিত্র ছিল যা নাড়া দিয়েছিল আপামর সিনেপ্রেমী থেকে সবস্তরের মানুষকে।
জীবনে চলার পথে যেভাবে নানা বিষয় অন্তরায় হয়ে দাঁড়ায় তা থেকে ব্যতিক্রম নন শাহরুখ নিজেও। মুখ থুবড়ে পড়েছে অনেক ছবি। তারপর একটা ছোট্ট বিরতি আর তার শেষে, পাঁচ- পাঁচটা বছর পর অ্যাটলির এই থ্রিলার ঘরানার ছবি 'জওয়ান'-এর হাত ধরে। যা রীতিমতো ম্যাজিক তৈরি করেছিল।
খারাপ সময় কাটিয়ে উঠে ঘুরে দাঁড়ানোর নামই বাদশা। তিনিই শাহরুখ খান। তাই কাজে ইতি না টেনে খানিক বিরতি নিয়ে আবার নিজেকে আগের জায়গায় নিয়ে গিয়ে এক দৃষ্টান্ত তৈরি করার জন্যই তিনি বলিউডের বাদশা শাহরুখ খান। 'জওয়ান'-এর হাত ধরে নতুন উদ্যমে ফিরে এসে তিনি বুঝিয়ে দিয়েছিলেন এভাবেও ফিরে আসা যায়।
'জওয়ান' মুক্তির পর কানায় কানায় প্রেক্ষাগৃহে উপচে পড়েছিল ফের চেনা ছন্দে শাহরুখকে দেখার উন্মাদনা। সেই চেনা ছবি ধরা পড়েছিল সিঙ্গল স্ক্রিন থেকে মাল্টিপ্লেক্স সর্বত্র। বাদশার অভিনয় দেখে বরাবরের মতোই উন্মাদনায় ডুবেছিলেন অনুরাগীরা।
অনেকেই প্রশ্ন তুলতে পারেন যে অতীতে শাহরুখ 'চক দে ইন্ডিয়া' বা 'স্বদেশ'-এর মতো ছবি উপহার দিলেও তাঁকে এমন এক কমার্শিয়াল ছবির জন্য কেন জাতীয় পুরস্কারে পুরস্কৃত করা হল? সেক্ষেত্রে বলা যায় তাঁর এই 'জওয়ান' ছবিটি শুধুই বিনোদনে ভরপুর একটি ছবিই ছিল না। তুলে ধরেছিল সমাজের বিভিন্ন দিক।
সমাজ ও রাজনীতির বিভিন্ন দিক বিনোদনের মোড়কে ফুটিয়ে তোলা হয়েছিল এই ছবিতে। কাজেই বলা যায় এই ছবি শুধুই একটি বিনোদনে ভরপুর ছবি নয় বরং এই ছবির মাধ্যমে অনেক বার্তা পৌঁছে দেওয়া হয়েছে সমাজের সবস্তরের মানুষের মধ্যে।
একথা বললে অত্যুক্তি হবে না যে শাহরুখকে বলিউডের বাদশা বলা হয় একটা কারণেই, কারন তাঁর পর এই ইন্ডাস্ট্রিতে রাজার মতো বিরাজ করতে পারে এমন দৃষ্টান্ত কেউ তৈরি করেননি। একটা চরিত্রে নিজেকে ফুটিয়ে তোলা ও দর্শকের মনে সেই চরিত্রের ছাপ ফেলা দু'দিকেই শাহরুখের জুড়ি মেলা ভার। আর সেজন্যই তাঁর তুলনা তিনি।
ছবিতে যখন শাহরুখ অভিনীত বিক্রম রাঠোর চরিত্রটি বলে ওঠে, 'বেটে কো হাত লাগানে সে পেহলে বাপ সে বাত কর', তখন কানায় কানায় পূর্ণ প্রেক্ষাগৃহ হাততালিতে ফেটে পড়েছে। এই সংলাপ তুমুল জনপ্রিয় হয় আরা দেশের শাহরুখ অনুরাগীদের কাছেও। যা ধন্য ধন্য করেছিল সকলে। শুধু তাইই নয়।
তাই সবশেষে তাঁর ছবির সংলাপ অনুসরণ করেই বলতে হয় 'কিসি চিজ কো সিদ্ধত সে চাহো তো পুরী দুনিয়া উসে তুমসে মিলানে কি কোশিশ মে লগ জাতি হ্যায়', দীর্ঘ ৩৩ বছরের ফিল্মি কেরিয়ারে নানা উত্থানপতন, ওঠাপড়া কোনও কিছুই তাঁকে তাঁর লক্ষ্য থেকে টলাতে পারেনি। লক্ষ্য স্থির থাকলে সফলতা যে আসবেই তা যেন আর একবার প্রমাণ করে দিলেন 'জওয়ান' কিং খান শাহরুখ। (ছবি: সংগৃহীত)
Published By: Arani BhattacharyaPosted: 05:24 PM Aug 02, 2025Updated: 05:30 PM Aug 02, 2025
Sangbad Pratidin News App
খবরের টাটকা আপডেট পেতে ডাউনলোড করুন সংবাদ প্রতিদিন অ্যাপ
