Advertisement
ভুটান থেকে ধেয়ে আসা নদীর জলে ব্যাপক ভাঙন আলিপুরদুয়ারে, তলিয়ে যাচ্ছে বাড়িঘর-সহ ফসলি জমি
দেখে নিন ভাঙনের ছবি।
মালদহ-মুর্শিদাবাদের বিস্তীর্ণ এলাকাজুড়ে নদী ভাঙন রোধ প্রশাসনের কাছে বড় চ্যালেঞ্জ। যা নিয়ে বারবার কেন্দ্রকে তোপ দেগেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। যথাযথ সাহায্য পাওয়া যাচ্ছে না বলে অভিযোগ তাঁর। এবার বর্ষায় আলিপুরদুয়ারের বিস্তীর্ণ এলাকাজুড়ে শুরু হয়েছে ভাঙন। তাও আবার ভুটান থেকে ধেয়ে আসা নদীর জলে। ভাঙনের কবলে পড়েছে কুমারগ্রামের সঙ্কোশ চা বাগান, কালচিনির মেচপাড়া চাবাগান-সহ একাধিক বাগান।
এমনকী নদীর ভাঙনে তলিয়ে যাচ্ছে বাড়িঘর-সহ ফসলি জমি। যা নিয়ে ক্ষোভ বাড়ছে স্থানীয়দের মধ্যে। যদিও ঘটনার খবর পেয়েই এদিন এলাকায় ছুটে যান তৃণমূলের রাজ্যসভার সাংসদ প্রকাশ চিক বরাইক। গোটা এলাকা পরিদর্শনের পাশাপাশি স্থানীয় মানুষজনকেও পাশে থাকার আশ্বাস দেন।
অন্যদিকে বোল্ডার ফেলে পাকাপাকিভাবে বাঁধের দাবি স্থানীয় মানুষজনের। গত কয়েকদিনে লাগাতার উত্তরবঙ্গে বৃষ্টিপাত হয়েছে। পরিস্থিতি যদিও এখন স্বাভাবিক। উত্তরের নদীগুলিতে জম কমতেও শুরু করেছে। এর মধ্যেই নয়া বিপদ উত্তরে! ভুটান থেকে ধেয়ে আসা নদীর জলে ব্যাপক ভাঙন শুরু হয়েছে। ভুটান থেকে আসা বাসরা নদীতে ক্ষতিগ্রস্ত সেন্ট্রাল ডুয়ার্স চা বাগান এলাকা। কার্যত একই অবস্থা বাসরা সঙ্কোশ, রায়ডাক, তোর্সা-সহ বিভিন্ন নদী। এই সমস্ত নদীর পাড়েও ভাঙন অব্যাহত।
ফলে আলিপুরদুয়ারের সব ব্লকেই কম বেশি নদী ভাঙনের সমস্যা শুরু হয়েছে। নদী ভাঙনে ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়তে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে। বাড়ছে ক্ষোভ। ভাঙন রোধে সেচ দপ্তরের ভুমিকা নিয়ে প্রশ্ন স্থানীয় মানুষজনের। পরিস্থিতির খবর পেয়েই রবিবার সকালে কুমারগ্রামের সঙ্কোশ চা বাগান এলাকায় সঙ্কোশ নদীর ভাঙন দেখতে যান রাজ্য সভার সাংসদ প্রকাশ চিক বরাইক। ভাঙন পরিস্থিতি খতিয়ে দেখার পাশাপাশি পরিস্থিতি নিয়ে সরকারি আধিকারিকদের সঙ্গেও কথা বলেন।
এই প্রসঙ্গে তৃণমূল সাংসদ আরও জানিয়েছেন, ''শনিবার রাত থেকেই আমি এখানে আছি। আধিকারিকদের সঙ্গে কথা হয়েছে। এই এলাকায় ভাঙন রোধে দ্রুত কাজ করা হবে।'' খুব শীঘ্রই বাজেট তৈরি করে তা করা হবে বলেও আশ্বাস। অন্যদিকে, আলিপুরদুয়ার জেলা পরিষদের সহকারী সভাধিপতি মনোরঞ্জন দে জানিয়েছেন, ''ভাঙ্গন রোধে বিভিন্ন এলাকায় কাজ চলছে। বেশ কিছু প্রক্রিয়া আছে। খুব শীঘ্রই আরও কাজ করা হবে।'' মনোরঞ্জন দে'র কথায়, প্রাকৃতিক দুর্যোগ সামলানোটা চ্যালেঞ্জ। এরপরেও মুখ্যমন্ত্রী মমতা নির্দেশে সমস্ত কাজ করা হচ্ছে।
যদিও স্থানীয় বাসিন্দা তথা পরিবেশপ্রেমী ল্যারি বোসের অভিযোগ, ''ভাঙনের ব্যাপক ক্ষতির মুখ পড়তে হয় মানুষকে। পাকাপাকিভাবে বোল্ডার ফেলে কাজ করলে ভাঙ্গন ঠেকানো সম্ভব হবে।'' তাঁর অভিযোগ, মাটি-বালির বস্তা ফেলে ভাঙন ঠেকানোর চেষ্টা হয়। কিন্তু তা ফের ভেঙে যায়। এই অবস্থায় পাকাপাকি সমাধানে দাবি জানিয়েছেন।
Published By: Kousik SinhaPosted: 03:23 PM Aug 24, 2025Updated: 03:23 PM Aug 24, 2025
Sangbad Pratidin News App
খবরের টাটকা আপডেট পেতে ডাউনলোড করুন সংবাদ প্রতিদিন অ্যাপ
