Advertisement
শিব-গৌরীর বিয়ের স্থান, ৫০০০ বছর ধরে জ্বলছে অগ্নিকুণ্ড! আপনার প্রেমও অমর হোক এই মন্দিরেই
আধুনিক সম্পর্কের টানাপোড়েনের মাঝে আজও অমলিন উত্তরাখণ্ডের ত্রিযুগীনারায়ণ মন্দির। শিব ও পার্বতীর বিবাহের পুণ্যভূমি হিসেবে পরিচিত এই স্থান এখনকার প্রজন্মের কাছে নিছক পর্যটন নয়, বরং এক আত্মিক বন্ধনের নাম। পাহাড়ের নির্জনতায় পাঁচ হাজার বছরের পুরনো এক পবিত্র অগ্নিকুণ্ডকে সাক্ষী রেখে এখানে শুরু হয় একেকটি রূপকথার মতো দাম্পত্য।
আধুনিক সম্পর্কের টানাপোড়েনের মাঝে আজও অমলিন উত্তরাখণ্ডের ত্রিযুগীনারায়ণ মন্দির। শিব ও পার্বতীর বিবাহের পুণ্যভূমি হিসেবে পরিচিত এই স্থান এখনকার প্রজন্মের কাছে নিছক পর্যটন নয়, বরং এক আত্মিক বন্ধনের নাম। পাহাড়ের নির্জনতায় পাঁচ হাজার বছরের পুরনো এক পবিত্র অগ্নিকুণ্ডকে সাক্ষী রেখে এখানে শুরু হয় একেকটি রূপকথার মতো দাম্পত্য।
হিমালয় কন্যা পার্বতী কঠোর তপস্যায় তুষ্ট করেছিলেন মহাদেবকে। লোকবিশ্বাস অনুযায়ী, রুদ্রপ্রয়াগের এই নিভৃত কোণেই তাঁদের চার হাত এক হয়েছিল। আধুনিক প্রেমিক-প্রেমিকাদের কাছে এই স্থানটি তাই কেবল এক প্রাচীন মন্দির নয়, বরং এক শাশ্বত অঙ্গীকারের প্রতীক। হিমালয়ের কোলে দাঁড়িয়ে থাকা এই দেবালয় আজও আমাদের মনে করিয়ে দেয়— প্রকৃত প্রেমের পথ কঠিন হলেও তা শেষ পর্যন্ত জয়ী হয়।
এই মন্দিরের প্রাণকেন্দ্র হল ‘অখণ্ড ধুনী’ বা চিরন্তন অগ্নিকুণ্ড। শিব-পার্বতীর বিয়ের সময় যে আগুন জ্বলেছিল, তা গত পাঁচ হাজার বছর ধরে অমলিন। আজকের ক্ষণস্থায়ী সম্পর্কের যুগে এই অবিরাম জ্বলতে থাকা শিখা স্থায়িত্বের শিক্ষা দেয়। এই আগুনের ভস্ম কপালে ধারণ করে দম্পতিরা শপথ নেন, তাঁদের ভালোবাসাও যেন এই অগ্নিকুণ্ডের মতোই চিরকাল অম্লান এবং পবিত্র থাকে।
মন্দির চত্বরে ব্রহ্ম, বিষ্ণু, রুদ্র ও সরস্বতী নামের চারটি কুণ্ড রয়েছে। পুরাণে বর্ণিত আছে, দেবতারা এখানে স্নান করে বিয়ের আয়োজনে অংশ নিয়েছিলেন। বর্তমান সময়েও বহু দম্পতি সম্পর্কের শুচিতা বজায় রাখতে এই কুণ্ডের জল মাথায় ছড়িয়ে আশীর্বাদ নেন। প্রেমের যাত্রাপথে নিজেদের মনকে শুদ্ধ করতে এবং একে অপরের প্রতি নিবেদিতপ্রাণ হতে এই কুণ্ডগুলোর গুরুত্ব অপরিসীম।
ভিড়ভাট্টা এবং শহরের যান্ত্রিকতা থেকে দূরে ত্রিযুগীনারায়ণ গ্রামটি এক গভীর প্রশান্তি দেয়। সোনপ্রয়াগ থেকে পাহাড়ের বাঁক নিয়ে যখন কোনও যুগল এই মন্দিরে পৌঁছান, সেই যাত্রাপথটিই তাঁদের সম্পর্কের এক স্মরণীয় অধ্যায় হয়ে ওঠে। মেঘের আনাগোনা আর পাইন বনের ঘ্রাণে এখানে ভালোবাসা খুঁজে পায় নতুন মাত্রা। নিরালা প্রকৃতির মাঝে একে অপরের সান্নিধ্য উপভোগের শ্রেষ্ঠ স্থান এটি।
আজকাল দামি হোটেল বা চোখধাঁধানো ডেস্টিনেশন ওয়েডিং-এর চেয়েও অনেকে গুরুত্ব দিচ্ছেন ঐতিহ্যের আধ্যাত্মিকতাকে। আড়ম্বরের চেয়েও যেখানে ভক্তি আর শুদ্ধতা বেশি, সেখানেই ভিড় জমাচ্ছে নয়া প্রজন্ম। বরফশৃঙ্গকে সাক্ষী রেখে প্রাচীন মন্ত্রোচ্চারণের মাধ্যমে বিয়ে করা এখন অনেকের কাছেই স্বপ্নের মতো। লোকদেখানো আতিশয্য নয়, বরং আত্মার মিলনেই এখানে বেশি জোর দেন নবদম্পতিরা।
আরতি সিং বা নিকিতা শর্মার মতো অভিনেত্রীরা তাঁদের জীবনের সেরা মুহূর্তটির জন্য এই নির্জন মন্দিরকে বেছে নিয়েছিলেন। সাধারণ মানুষের মধ্যেও দারুণ উৎসাহ বেড়েছে। তাঁদের এই ছিমছাম বিয়ের ছবি দেখে অনুপ্রাণিত হচ্ছেন অনেক যুগল। তারকাদের এই উপস্থিতি বুঝিয়ে দেয় যে, সত্যিকারের সুখ আসলে বড় কোনও আনুষ্ঠিকতায় নয়, বরং পাহাড়ের কোলে এক চিলতে পবিত্র অগ্নিকে ঘিরেই লুকিয়ে রয়েছে।
প্রেমের কোনও ঋতু হয় না ঠিকই, তবে ত্রিযুগীনারায়ণে ভ্রমণের জন্য এপ্রিল থেকে জুন এবং সেপ্টেম্বর থেকে নভেম্বর মাসই আদর্শ। পাহাড় তখন রঙিন সাজে সেজে ওঠে, যা বিয়ের ছবির জন্য অপূর্ব এক ব্যাকড্রপ এনে দেয়। প্রবল তুষারপাত বা বৃষ্টির ভয় এই সময় থাকে না। তাই, নতুন সূচনা করা অনেক বেশি আরামদায়ক। ঝকঝকে রোদে হিমালয়ের সৌন্দর্য তখন দ্বিগুণ হয়ে ধরা দেয়।
যেকোনও সম্পর্কের শুরুর যাত্রাটি মনোরম হওয়া প্রয়োজন। দেরাদুন বিমানবন্দর বা ঋষিকেশ স্টেশন থেকে ত্রিযুগীনারায়ণ পর্যন্ত পথটি যেন এক স্বপ্নিল সফর। সোনপ্রয়াগ থেকে ছোট গাড়িতে পাহাড়ি চড়াই-উতরাই পেরিয়ে মন্দিরে পৌঁছনোর মজাই আলাদা। যৌথ জীবনের শুরুতে একসাথে এই রোমাঞ্চকর পথ অতিক্রম করা যুগলদের কাছে এক দারুণ অভিজ্ঞতা হিসেবে স্মৃতিতে থেকে যায়।
সম্পর্ক মানেই বড় অঙ্কের খরচ নয়। এখানে নামমাত্র ব্যয়েও শিব-পার্বতীর আশীর্বাদ নিয়ে শুরু করা যায় ঘরকন্যা। ৩৫ থেকে ৪০ হাজার টাকার মধ্যেই পুরোহিত এবং পুজোর আচার সেরে নেওয়া যায়। যারা পরিবার নিয়ে মেতে উঠতে চান, তাঁদের জন্য সাশ্রয়ী প্যাকেজও রয়েছে। অর্থের চেয়ে যেখানে অনুভূতির মূল্য বেশি, সেখানেই তো প্রকৃত ভালোবাসার জয়গান গাওয়া সহজ।
ত্রিযুগীনারায়ণ মন্দিরে বিয়ে কেবল ধর্মীয় প্রথা নয়, এটি সামাজিকভাবেও স্বীকৃত। মন্দির কর্তৃপক্ষের দেওয়া শংসাপত্র পরবর্তীতে আইনি রেজিস্ট্রেশনে সাহায্য করে। আইনি বয়স মেনে এবং প্রয়োজনীয় নথিপত্র সাথে রেখে দায়বদ্ধতার এই সফর শুরু করা যায়। এটি কেবল ধর্মীয় আচার নয়, বরং একে অপরের প্রতি আইনি ও সামাজিক দায়িত্ব পালনেরও এক বড় অঙ্গীকার।
Published By: Buddhadeb HalderPosted: 07:54 PM Mar 23, 2026Updated: 07:58 PM Mar 23, 2026
Sangbad Pratidin News App
খবরের টাটকা আপডেট পেতে ডাউনলোড করুন সংবাদ প্রতিদিন অ্যাপ
