Advertisement
সলমনের ছবির টিজার নিয়ে ফের ভারত-চিন 'সংঘাত', কী হয়েছিল গালওয়ানে? বিতর্কই বা কেন?
টিজার প্রকাশ্যে আসতেই বিতর্কে সলমনের 'ব্যাটল অফ গালওয়ান'।
২৭ ডিসেম্বর, সদ্য জন্মদিনে ভারতীয় সেনাজওয়ানের জয়গান গেয়ে বহু প্রতীক্ষিত দেশাত্মবোধক ছবির টিজার প্রকাশ্যে এনেছিলেন সলমন। আর সেই ঝলকই উসকে দিয়েছে বিতর্ক। কেন এই সিনেমা ঘিরে এত হইচই?
আসলে বাস্তবের গালওয়ান সংঘাতে ভারতীয় সেনার কাছে প্রবল ‘মার খেয়েছিল’ চিনা সেনাবাহিনী। এবার সিনেমার পর্দায় ভারতীয় সুপারস্টারের হাতে সেই ‘লাল ফৌজ’ নিধন দেখে ফুঁসে উঠেছে বেজিং।
চিনের দাবি, "বিকৃত তথ্যের সিনেমা দেখিয়ে ভারত জাতীয়তাবাদের উসকানি দিচ্ছে এবং চিনা সামরিক বাহিনীকে কলঙ্কিত করার চেষ্টা করছে।" শুধু তাই নয়, চিনা সংবাদমাধ্যমে ‘ব্যাটেল অফ গালওয়ান’কে ভারতের জাতীয়বাদ উসকানির ‘অস্ত্র’ বলে কটাক্ষ করা হয়েছে।
ওই সংবাদপত্রের প্রতিবেদনে সলমনের সিনেমার বিরুদ্ধে তথ্য বিকৃত, এমনকী অতিরঞ্জিত করার অভিযোগও আনা হয়েছে। সেই প্রেক্ষিতেই প্রাসঙ্গিক প্রশ্ন, কুড়ি সালে গালওয়ান উপত্যকায় ঠিক কী ঘটেছিল? ২০২০ সালের জুন মাসে কোর কম্যান্ডার বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়, দু'দেশই সীমান্ত সংলগ্ন এলাকা থেকে বাহিনী কয়েক কিলোমিটার পিছিয়ে নেবে। কিন্তু কথা রাখেনি চিন। পরে সেনা সূত্রে জানা যায়, সেখান থেকে অনতিদূরে অস্থায়ী শিবির বানিয়ে ফেলেছে চিনা সেনারা।
সতর্ক করা সত্ত্বেও দিন কয়েক বাদে ভারতীয় সেনাবাহিনির একটি টিম গিয়ে দেখে ওই শিবির সরানো হয়নি। তখনই সংঘাত বাঁধে দু'দেশের জওয়ানদের মধ্যে। সংঘর্ষের জেরে কুড়ি জন ভারতীয় জওয়ানের মৃত্যুর খবর জানায় সরকার। কিন্তু বেজিংয়ের তরফে আজ পর্যন্ত হতাহতের সংখ্যা পরিষ্কার করে জানানো হয়নি। প্রথমটায় অস্বীকার করলেও পরে চারজনের মৃত্যুর খবর দেয় চিন।
এই ঘটনার ২ বছর বাদে অস্ট্রেলিয়ার এক সংবাদমাধ্যম দাবি করে, ভারতীয় জওয়ানের তাড়া খেয়ে ভয়ে পালানোর সময়ে নদীতে ভেসে যায় প্রায় ৩৮ জন চিনা সেনা। যদিও সে তথ্য কোনওদিন সামনে আনেনি বেজিং। অস্ট্রেলিয়ার ওই প্রতিবেদনে গালওয়ান সংক্রান্ত চিনের দেওয়া অধিকাংশ তথ্যও অসত্য বলে দাবি করা হয়। এবার সলমন খানের ছবি ‘ব্যাটেল অফ গালওয়ান’-এর টিজারে সেই স্মৃতি উসকানোতেই কি ভয় পেল বেজিং? নাকি লাল ফৌজের সম্মান রক্ষার্থে বলিউড সিনেমায় 'জুজু' দেখছে তারা?
যদিও ‘ব্যাটেল অফ গালওয়ান’-এর দিকে আঙুল তোলায় স্বৈরাচারী চিনকে পালটা দিতে ছাড়েনি ভারত। 'শৈল্পিক স্বাধীনতা’র মন্ত্র আওড়ে সংশ্লিষ্ট ইস্যুতে জিনপিংয়ের দেশকে কড়া বার্তা দেওয়া হয়েছে। সরকারের সূত্র মারফৎ স্পষ্ট করে জানানো হয়েছে, “আমরা শৈল্পিক স্বাধীনতায় বিশ্বাসী। ভারত এমন একটি দেশ যেখানে মত প্রকাশের স্বাধীনতা রয়েছে এবং সিনেম্যাটিক অভিব্যক্তি এর অবিচ্ছেদ্য এক অংশ। আর এই শৈল্পিক স্বাধীনতা অনুযায়ী ভারতীয় পরিচালকরা নিজেদের মতো করে সিনেমা বানাতে পারেন। সেই স্বাধীনতা তাঁদের রয়েছে। যারা এই সিনেমাটি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে, তারা বিষয়টি নিয়ে ভারতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের সাথে যোগাযোগ করতে পারেন। আর ‘ব্যাটেল অফ গালওয়ান’ ছবির ক্ষেত্রে সরকারের কোনও ভূমিকা নেই।” (ছবি- সংগৃহীত)
Published By: Sandipta BhanjaPosted: 07:04 PM Jan 02, 2026Updated: 07:04 PM Jan 02, 2026
Sangbad Pratidin News App
খবরের টাটকা আপডেট পেতে ডাউনলোড করুন সংবাদ প্রতিদিন অ্যাপ
