সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: ২০২৫ সালের শেষটায় একাধিক চমক দেখা গিয়েছিল মহাকাশে। আর নতুন বছরের শুরুতেও নানা বিস্ময়কর ঘটনা ঘটবে বিশাল মহাশূন্যে। শুধু তাই নয়। জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, ২০২৬ সাল গোটা বছরজুড়েই আকাশে অনেক কিছুর ঘটনার সাক্ষী থাকতে পারবেন মহাকাশপ্রেমীরা। আগামী ৩ জানুয়ারি থেকেই তা শুরু হবে। ৩ তারিখ, শনিবার সন্ধ্যাকাশে উদয় হবে উজ্জ্বলতর, বড় চাঁদ। জ্যোতির্বিজ্ঞানের ভাষায় যার পোশাকি নাম 'উলফ মুন'। জানা যাচ্ছে, বছরের প্রথম 'সুপারমুন' এটিই। খালি চোখেই দেখা যাবে পৃথিবীর একমাত্র উপগ্রহ।
কেমন হতে চলেছে 'উলফ মুন'? ৩ জানুয়ারি রাত ১০টার পর সবচেয়ে ভালো চন্দ্র দর্শন হবে বলে জানা গিয়েছে। আসলে এই সময় পৃথিবীর সবচেয়ে কাছে চলে আসে চাঁদ। তাই তাকে সাধারণের চেয়ে অন্তত ৩০ গুণ বেশি উজ্জ্বল এবং ১৪ শতাংশ বড় দেখায়। তাকে বলা হয় 'সুপারমুন'। এরই একটা বিশেষ ধরন 'উলফ মুন'। গল্পকথা অনুযায়ী, প্রাচীনকালে এমন চাঁদ দেখে নাকি জঙ্গলঘেরা পাহাড়টিলায় নেকড়ের দল জমায়েত হয়ে চন্দ্রমুখী হয়ে ডাকতে থাকে। এত বড় চাঁদের বৃত্তে তাদের ছায়া অপূর্ব দৃশ্য রচনা করে। পরবর্তীকালে জানা যায়, খিদে বা অন্য কোনও জৈবিক কারণে নয়, নেকড়েরা নিজেদের ক্ষমতা জাহির করতে, এলাকার দখল রাখতে এবং আরও জোটবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়ে ওই ডাক ডাকে। তারপর থেকে এই সুপারমুনটির নাম হয় 'উলফ মুন'।
আগামী ৩ জানুয়ারি অবশ্য শুধু 'উলফ মুন' নয়। রাতের আকাশে ভালোভাবে চোখ রাখলে দেখা যাবে 'গুরুগ্রহ' বৃহস্পতিকেও। জ্যোতির্বিজ্ঞানীদের হিসেব অনুযায়ী, ওইদিন চাঁদের পাশেই দৃশ্যমান হবে সৌরজগতের বৃহত্তম গ্রহটি। আসলে সূর্য, চাঁদের সাপেক্ষে এই বিশেষ দিনে পৃথিবীর বিশেষ অবস্থানের কারণেই পৃথিবীর আকাশে এত বৈচিত্র্য দেখা যাবে।
৪ জানুয়ারি আকাশে দেখা যাবে উল্কাবৃষ্টি।
এ তো গেল ৩ জানুয়ারি মহাকাশে চমকের পালা। পরদিন অর্থাৎ ৪ জানুয়ারি উল্কাবৃষ্টি হতে চলেছে। রাতের আকাশ থেকে মাঝারি পরিমাণে উল্কাপাত হবে পৃথিবীতে। প্রতি ঘণ্টায় প্রায় ১০ টি 'তারাখসা' দেখা যেতে পারে বলে পূর্বাভাস দিয়েছেন জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা।
