সময়ের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে ছুটছে প্রযুক্তিও! বর্তমান সময়ে বড় চ্যালেঞ্জ আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স অর্থাৎ কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা। বিশ্বের তাবড় সংস্থাগুলি এআই’তে বিপুল অঙ্কের বিনিয়োগ করছে। ফলে ক্রমশ কমছে কর্মসংস্থান। বাড়ছে কর্মী ছাঁটাই। প্রশ্ন উঠেছে, তাহলে কি এআই টপকে যাবে মানুষকে? এলন মাস্ক (Elon Musk) জানিয়ে দিচ্ছেন, বিষয়টা আর দূরে নেই। সব কিছু ঠিক থাকলে এই বছরের শেষেই সেটা ঘটে যেতে পারে! এবং আগামী পাঁচ বছরে সমগ্র মানবজাতিকে সম্মিলিতভাবে ছাড়িয়ে যাবে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা।
সম্প্রতি এলন মাস্ক ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের বার্ষিক সভায় উপস্থিত হয়েছিলেন। আর সেখানেই সকলকে সতর্ক করে মাস্ক বলেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, রোবোটিক্সের মতো প্রযুক্তি এমন গতিতে এগিয়ে চলেছে যা সভ্যতা, অর্থনীতি এবং দৈনন্দিন জীবনে আমূল পরিবর্তন এনে দিতে পারে দ্রুতই। তাঁকে বলতে শোনা গিয়েছে, ''আগামী দশ বছরে কী ঘটবে তা আমি জানি না। কিন্তু কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার অগ্রগতির হার দেখে আমার মনে হচ্ছে, এই বছরের শেষ নাগাদই বা বড়জোর আগামী বছরের মধ্যে আমরা এমন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা পেয়ে যাব যা যে কোনও মানুষের চেয়ে বেশি বুদ্ধিমান!” সেই সঙ্গেই তিনি দাবি করেন, ২০৩০ বা ২০৩১ সালের মধ্যে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা সমষ্টিগতভাবে সমগ্র মানবজাতির চেয়েও বেশি বুদ্ধিমান হয়ে উঠবে।
মাস্ক বলছেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, রোবোটিক্সের মতো প্রযুক্তি এমন গতিতে এগিয়ে চলেছে যা সভ্যতা, অর্থনীতি এবং দৈনন্দিন জীবনে আমূল পরিবর্তন এনে দিতে পারে দ্রুতই।
সম্প্রতি এই বিষয়ে মুখ খুলেছিলেন এক গুগল কর্তা। গুগল ডিপমাইন্ডের যুগ্ম প্রতিষ্ঠাতা ও মুখ্য এজিআই বিজ্ঞানী শেন লেগের মতে, AI System ইতিমধ্যেই বিভিন্ন ক্ষেত্রে মানুষকে টপকাতে শুরু করেছে। যার মধ্যে রয়েছে ভাষার ব্যবহার ও সাধারণ জ্ঞান। এবং আগামী কয়েক বছরে যুক্তিপ্রয়োগ, চাক্ষুষ উপলব্ধি কিংবা ধারাবাহিক শিক্ষা-সহ তাদের দুর্বলতাগুলি কাটিয়ে উঠবে এআই।
প্রসঙ্গত, ফেসবুক, গুগল, মাইক্রোসফটের মতো জায়েন্ট তথ্যপ্রযুক্তি সংস্থায় বহু মানুষের কাজ কার্যত এআইকে ব্যবহার করেই সেরে ফেলছে সংস্থাগুলি। ফলে কাজের সংখ্যা ক্রমশ কমে যাচ্ছে। কাজের ক্ষেত্রে অনেকেই আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স অর্থাৎ কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাকে বিজ্ঞানের ‘অভিশাপ’ বলছেন। এবার মাস্কের বক্তব্যে আরও জোরালো হল সভ্যতার আগামিদিনে এআই-এর বাড়বাড়ন্তের দিকটা।
