একসময়ের মোবাইল দুনিয়ার অবিসংবাদিত সম্রাট নোকিয়া এখন অস্তিত্ব রক্ষার লড়াইয়ে। খরচ কমাতে এবং ব্যবসায়িক কাঠামোয় আমূল পরিবর্তন আনতে এবার বড়সড় ছাঁটাইয়ের পথে হাঁটছে ফিনল্যান্ডের এই টেলিকম সংস্থা। বিশ্বজুড়ে প্রায় ১৪ হাজার কর্মী কাজ হারাতে পারেন বলে খবর। এই সিদ্ধান্তের বড় প্রভাব পড়তে চলেছে ভারতেও।
বিশ্বজুড়ে মন্দার আবহে আমাজন, গুগল, মাইক্রোসফটের মতো টেক জায়ান্টরা আগেই কর্মী ছাঁটাই করেছে। সেই তালিকায় এবার নাম লেখাল নোকিয়া। সংস্থার পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ২০২৫ সালের চতুর্থ ত্রৈমাসিকে ভারতে তাদের নিট বিক্রয় প্রায় ১৫ শতাংশ কমেছে। গত বছর যেখানে বিক্রির অঙ্ক ছিল ৪৬৩ মিলিয়ন ইউরো, এবার তা নেমে দাঁড়িয়েছে ৩৯৩ মিলিয়ন ইউরোতে। লাভের গুড় কমতেই কর্মী ছাঁটার দাওয়াই দিচ্ছে সংস্থা।
ভারতে নোকিয়ার বর্তমান কর্মী সংখ্যা প্রায় ১৭ হাজার। বিশ্বজুড়ে মোট কর্মীবাহিনীর প্রায় ২০ শতাংশ ছেঁটে ফেলার পরিকল্পনা রয়েছে তাদের। সূত্রের খবর, ভারতের বিভিন্ন বিভাগ থেকে কয়েক হাজার কর্মীকে বিদায় জানানো হতে পারে। বিশেষ করে ক্লাউড, নেটওয়ার্ক সার্ভিস এবং মোবাইল নেটওয়ার্ক বিভাগের সংযুক্তিকরণের ফলে অনেক পদ এখন অপ্রয়োজনীয় হয়ে পড়েছে। সেই বাড়তি পদগুলিই মূলত বিলুপ্ত করা হচ্ছে।
ছাঁটাই প্রক্রিয়ার মাঝেই ভারতে নেতৃত্বের রদবদল ঘটিয়েছে ফিনিশ সংস্থাটি। ১ এপ্রিল ২০২৬ থেকে ভারতের কান্ট্রি বিজনেস লিডার হিসেবে দায়িত্ব নিচ্ছেন সমর মিত্তল। কান্ট্রি ম্যানেজার হচ্ছেন বিভা মেহরা। বিদায় নিয়েছেন প্রাক্তন প্রধান তরুণ ছাবড়া। নতুন কাঠামোয় ব্যবসার রাশ আরও শক্ত করার চেষ্টা চলছে। এই রদবদল সাধারণ কর্মীদের কপালে চিন্তার ভাঁজ আরও চওড়া করেছে।
গত আট বছরে নোকিয়ার বিশ্বব্যাপী কর্মীবাহিনী লক্ষ্যণীয়ভাবে কমেছে। ২০১৮ সালে যেখানে কর্মীর সংখ্যা ছিল ১ লক্ষ ৩ হাজার, বর্তমানে তা কমে দাঁড়িয়েছে ৭৪ হাজারে। ভারত ছাড়াও গ্রিস, ইতালি, জার্মানি এবং ফ্রান্সেও অন্তত ১৪০০ কর্মীকে ছাঁটাই করার প্রস্তুতি নিচ্ছে সংস্থা। নোকিয়ার প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী এরিকসনও গত বছর ৫ হাজার কর্মী ছাঁটাই করেছিল। সব মিলিয়ে বিশ্ব টেলিকম বাজারে এখন ঘোর দুর্দিন।
