গরমে নাভিশ্বাস ওঠার জোগাড়। বাড়ি ফিরে একটু জিরোতে না পারলে কি হয়? কিন্তু শীততাপ নিয়ন্ত্রিত ঘরে থাকার সৌভাগ্য সকলের হয় না। মধ্যবিত্তের পকেটের টানে অনেকেই এখন ঝুঁকছেন সেকেন্ড হ্যান্ড বা রিফার্বিশড এসির দিকে। সস্তায় এসি কিনে ব্যবহারে আপত্তি নেই কারও। তবে, অসাবধান হলেই কিন্তু বিপদ! সেকেন্ড হ্যান্ড এসি ব্যবহারের আগে কোন কোন বিষয়ে নজর দেবেন? বিশদে জেনে রাখুন।
প্রতীকী ছবি
কেন বিপজ্জনক পুরনো এসি?
পুরনো এসির যন্ত্রাংশগুলো সময়ের সঙ্গে সঙ্গে ক্ষয়ে যায়। বিশেষ করে কম্প্রেসর যদি দুর্বল হয়ে পড়ে, তবে তা অত্যধিক গরম হতে শুরু করে। এ ছাড়া ভুল পদ্ধতিতে গ্যাস রিফিল করা বা নিম্নমানের রেফ্রিজারেন্ট ব্যবহার করলে এসির অভ্যন্তরীণ চাপ মারাত্মক বেড়ে যায়। যার শেষ পরিণতি হতে পারে বিস্ফোরণ।
আরেকটি বড় ঝুঁকি হল বৈদ্যুতিক গোলযোগ। পুরনো এসির ভেতরের তার অনেক সময় আলগা হয়ে থাকে। নিম্নমানের প্লাগ বা এক্সটেনশন কর্ড ব্যবহার করলে শর্ট সার্কিট হওয়ার সম্ভাবনা কয়েক গুণ বেড়ে যায়। এছাড়াও নোংরা ফিল্টার আর কপার কয়েলে জমে থাকা ধুলোবালি মেশিনের ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি করে, যা থেকে অগ্নিকাণ্ড ঘটতে পারে।
প্রতীকী ছবি
বিপদের আগাম সঙ্কেত
১) ইউনিট থেকে পোড়া গন্ধ বেরোলে।
২) অস্বাভাবিক বা জোরালো শব্দ হলে।
৩) ঘন ঘন এমসিবি (MCB) ট্রিপ করলে বা স্পার্ক দেখা দিলে।
৪) ঘর ঠান্ডা না হয়ে এসির বডি খুব গরম হয়ে পড়লে।
৫) গ্যাস লিকের হিসহিস শব্দ বা অদ্ভুত গন্ধ নাকে এলে।
সুরক্ষার চাবিকাঠি
বিপদ এড়াতে প্রথমেই দরকার দক্ষ টেকনিশিয়ান দিয়ে নিয়মিত সার্ভিসিং। সস্তার মিস্ত্রি না ডেকে জেনুইন পার্টস ব্যবহারের ওপর জোর দিন। ভোল্টেজের ওঠানামা সামলাতে ভালো মানের স্ট্যাবিলাইজার ব্যবহার করা জরুরি।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হল এসি-কে বিশ্রাম দেওয়া। প্রচণ্ড গরমে টানা ১৫-২০ ঘণ্টা এসি চালালে তা ওভারহিট হবেই। যন্ত্রটিকেও খানিক জিরিয়ে নিতে দিন। প্রতি মাসে ফিল্টার পরিষ্কার করুন এবং বৈদ্যুতিক সংযোগগুলো মাঝে মাঝে পরীক্ষা করিয়ে নিন। মনে রাখবেন, সামান্য ক’টা টাকা বাঁচাতে গিয়ে নিজের এবং পরিবারের জীবন ঝুঁকিতে ফেলা বুদ্ধিমত্তার কাজ নয়। সতর্ক থাকুন, শীতল থাকুন।
