অর্ণব আইচ: সাতসকালে আহিরিটোলা ঘাটে সন্দেহজনক ট্রলি ঘিরে তীব্র শোরগোল। ট্রলির মধ্যে থেকে এক মহিলার মুণ্ডহীন, তিন টুকরো দেহ উদ্ধার হয়েছে। মঙ্গলবার সকালে তা লোপাটের সময়ে হাতেনাতে ধরা পড়ে ২ মহিলা। তাঁরা সম্পর্কে মা-মেয়ে বলে জানা গিয়েছে। আপাতত পুলিশ তাদের আটক করেছে। যে ট্যাক্সিতে করে ট্রলিটি আনা হয়েছিল, তার চালকও পুলিশের জালে। তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করে দেহ লোপাটের পরিকল্পনার কথা জানতে পেরেছেন তদন্তকারীরা। আর তাতেই স্পষ্ট, যথেষ্ট পরিকল্পনা করা হলে তা ডাহা ফেল!

ধৃতদের কাছ থেকে উদ্ধার হয়েছে ট্রেনের টিকিট। তা কাজিপাড়া থেকে শিয়ালদহ পর্যন্ত। জানা যাচ্ছে, খুনের পর মহিলার দেহ টুকরো করে ট্রলিতে ভরার পর কলকাতার কোনও ঘাটে তা ফেলে দেওয়ার পরিকল্পনা করা হয়েছিল। সেইমতো মঙ্গলবার সকালে ওই ট্রলি নিয়ে বারাসতের কাজিপাড়া থেকে শিয়ালদহগামী ট্রেনে ওঠে দুই মহিলা। এরপর শিয়ালদহে নেমে একটি ট্যাক্সি ভাড়া করে জানায়, বেড়াতে এসেছে। কলকাতা ঘুরে বেড়াতে চায় তারা। প্রথমে ট্যাক্সি নিয়ে তারা যায় প্রিন্সেপ ঘাটে। কিন্তু সেখানে অনেক লোকজন, ভিড় দেখে ট্রলি ফেলার সাহস পায়নি ধৃতরা।
এরপর ট্যাক্সি নিয়েই তারা নানা ঘাটে ঘুরে বেড়ায়। আহিরিটোলা ঘাটে অপেক্ষাকৃত কম ভিড় দেখে সেখানে ট্যাক্সি থেকে দেহ-সহ ট্রলি নামিয়ে গঙ্গায় ফেলতে যাওয়ার পথেই বিপত্তি। ঘাটে উপস্থিত মানুষজন ওই ট্রলি থেকে গন্ধ পান, তাতেই বাড়ে সন্দেহ। তাদের জিজ্ঞাসা করে জানা যায়, কুকুরের দেহ রয়েছে ট্রলিতে। কিন্তু তা বিশ্বাস না করে পুলিশকে খবর দেন উপস্থিত লোকজন। পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছতে পর্দাফাঁস হয়ে যায়। তবে ধৃতরা কারা, কোথাকার বাসিন্দা, কী উদ্দেশে খুন, এসব জানার চেষ্টা করছেন তদন্তকারীরা। মৃত মহিলার পরিচয়ও এখনও অজ্ঞাত।