সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: সামরিক অভিযান তো করাই যায়! সেই বিকল্প তো রয়েইছে। কিন্তু তার আগে টাকার প্রলোভন দেখিয়ে গ্রিনল্যান্ড (Greenland) দখলের কথা ভাবছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। বিশ্বের বৃহত্তম দ্বীপের সকল বাসিন্দাকে এক লাখ ডলার করে দেওয়া যায় কি না, তা নিয়ে আলোচনাও চলছে হোয়াইট হাউসে। যদিও গ্রিনল্যান্ডের 'অভিভাবক' ডেনমার্ক স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, তারা গ্রিনল্যান্ড বিক্রি করতে চায় না!
জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থে গ্রিনল্যান্ড দখল প্রয়োজন বলে দাবি করেছেন ট্রাম্প। মার্কিন সংবাদমাধ্যমের রিপোর্ট অনুযায়ী, মার্কিন প্রেসিডেন্টের সেই মন্তব্যের পর থেকেই বিষয়টি নিয়ে আলোচনা চলছে ওয়াশিংটনে। কী ভাবে গ্রিনল্যান্ড অধিগ্রহণ করা যায়, কী কী বিকল্প রয়েছে, তা পর্যালোচনা করে দেখছেন মার্কিন আধিকারিকেরা। আগামী সপ্তাহেই বিষয়টি নিয়ে ডেনমার্ক প্রশাসনের সঙ্গে বৈঠকে বসতে পারেন মার্কিন বিদেশ সচিব মার্কো রুবিও। সেই বৈঠকের আগে গ্রিনল্যান্ডকে টাকার টোপ দেওয়া যায় কি না, সেই দিকটি নিয়ে ভাবনাচিন্তা চলছে।
হোয়াইট হাউসের একটি সূত্র মার্কিন সংবাদমাধ্যমে দাবি করেছে, গ্রিনল্যান্ডের এখন সব মিলিয়ে ৫৭ হাজার মানুষের বাস। তাঁদের প্রত্যেককে ১০ হাজার থেকে ১ লাখ ডলার করে দেওয়া যায় কি না, তা নিয়ে আলোচনা করছেন মার্কিন আধিকারিকেরা। তাঁদের বক্তব্য, যদি গ্রিনল্যান্ডের প্রত্যেক নাগরিককে ১ লাখ ডলার করেও দেওয়া যায়, সে ক্ষেত্রে সব মিলিয়ে আমেরিকার খরচ হতে পারে ৬০০ কোটি ডলার। গ্রিনল্যান্ড অধিগ্রহণের জন্য এই অঙ্ক খরচ করা সম্ভব বলেই মনে করছেন মার্কিন আধিকারিকেরা।
আমেরিকার দাবি, মেরুপ্রদেশে চিন-রাশিয়ার প্রভাব ক্রমশই বাড়ছে। এতে আমেরিকার জাতীয় নিরাপত্তা বিঘ্নিত হতে পারে। সেই কারণেই গ্রিনল্যান্ড অধিগ্রহণ করা প্রয়োজন বলে জানিয়েছেন ট্রাম্প। প্রয়োজনে সেখানে সেনাও নামানো হতে পারে বলে বিবৃতি দিয়েছে হোয়াইট হাউস। গ্রিনল্যান্ডের ‘অভিভাবক’ ডেনমার্কও পালটা জবাব দিয়েছে। তারা স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, গ্রিনল্যান্ড তাদের নিয়ন্ত্রণেই থাকবে। রুবিও-র সঙ্গে বৈঠকের আগে ডেনমার্কের প্রতিরক্ষা মন্ত্রকও বলেছে, ১৯৫২ সালের সামরিক আইন মেনে গ্রিনল্যান্ডেরও প্রতিরক্ষার অধিকার রয়েছে। তাই কোনও দেশ আক্রমণ করলে ডেনমার্কের সেনা কারও আদেশের অপেক্ষা করবে না। তারা আগে গুলি চালাবে। তার পর জিজ্ঞাসাবাদ-আলোচনা। ঘটনাচক্রে, তার পরেই গ্রিনল্যান্ডকে টাকার টোপ দেওয়া নিয়ে হোয়াইট হাউসে ভাবনাচিন্তার বিষয়টি প্রকাশ্যে এল।
ডেনমার্কের মূল ভূখণ্ড থেকে প্রায় ৩০০০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত গ্রিনল্যান্ড প্রায় ৩০০ বছর ধরে কোপেনহাগেন (ডেনমার্কের রাজধানী)-এর নিয়ন্ত্রণে। নিজস্ব অভ্যন্তরীণ বিষয়গুলি পরিচালনা ও উন্নয়ন সংক্রান্ত দায়িত্ব দ্বীপটির স্বায়ত্তশাসিত কর্তৃপক্ষ দেখেন। আর বিদেশ এবং প্রতিরক্ষানীতি সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত নেয় ডেনমার্ক সরকার। প্রতিরক্ষার স্বার্থে তারা আমেরিকার নেতৃত্বাধীন সামরিক জোট ন্যাটোয় নাম লিখিয়েছিল। কিন্তু অন্য কোনও বিদেশি শক্তির পরিবর্তে জোটের শরিক আমেরিকাই এখন তার ‘প্রতিপক্ষ’। এতে ন্যাটোর অস্তিত্বই প্রশ্নের মুখে পড়বে বলে মনে করছেন অনেকে।
আমেরিকার সঙ্গেও ডেনমার্কের সম্পর্ক বরাবর ভালো। সে কথা স্মরণ করিয়ে ডেনমার্কের প্রধানমন্ত্রী মেট ফ্রেডরিকসেন বলেছেন, “আমেরিকার কাছে আমার আর্জি, ঘনিষ্ঠ সঙ্গীকে হুমকি দেওয়া বন্ধ করুন।” একই সঙ্গে খোঁচা দিয়ে তিনি বলেন, “যে দেশ বা যে দেশের মানুষ বলছেন, আমরা বিক্রি হব না, তাঁদেরও হুমকি দেওয়া বন্ধ করুন।” মার্কিন প্রেসিডেন্ট গ্রিনল্যান্ড দখল করার কথা বলায় ফাঁপড়ে পড়েছে ন্যাটো গোষ্ঠীভুক্ত ইউরোপের দেশগুলি। ন্যাটো যেহেতু আমেরিকা নিয়ন্ত্রণ করে, তাই তারা ট্রাম্পের দাবিকে সমর্থন জানাবে না কি ডেনমার্কের পাশে দাঁড়াবে, তা নিয়ে সংশয় তৈরি হয়েছে। অনেকের মত, রুশ হানা থেকে নিজেদের বাঁচাতে, প্রতিরক্ষার স্বার্থে ন্যাটোতে নাম লিখিয়েছিল ডেনমার্ক। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতিতে রাশিয়া নয়, ডেনমার্কের ঘাড়ে নিঃশ্বাস ফেলছে বন্ধু আমেরিকাই। এর প্রভাব সুদূরপ্রসারী। এ ভাবে চলতে থাকলে হয়তো ন্যাটো জোটই ভেঙে যাবে। এতে ইউরোপের স্থিতাবস্থা বিঘ্নিত হতে পারে বলেই আশঙ্কা।
