সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: মোল্লাতন্ত্রের বিরুদ্ধে আরও জোরদার প্রতিবাদে শামিল ইরান (Iran Protest)। গত ১০ দিন ধরে প্রতিবাদে নেমেছেন ইরানের আমজনতা। এবার আরও বড়সড় আন্দোলনের ডাক দিয়েছেন ইরানের শেষ রাজবংশের উত্তরসূরি রেজা পাহলভি। নির্বাসিত যুবরাজের ডাকে আরও শক্তিশালী হবে ইরানের আন্দোলন, সেই আশঙ্কায় দেশজুড়ে ইন্টারনেট পরিষেবা বন্ধ করে দিয়েছে আয়াতোল্লা খামেনেই-এর প্রশাসন।
বর্তমানে আমেরিকায় রয়েছেন পাহলভি। বৃহস্পতি এবং শুক্রবার ইরানের স্থানীয় সময় রাত আটটার সময়ে আমজনতাকে পথে নেমে প্রতিবাদ করার আহ্বান জানান তিনি। সেই ডাকে সাড়া দিয়ে হাজারে হাজারে মানুষ পথে নামেন। 'স্বৈরাচারী নিপাত যাক', 'ইসলামিক রিপাবলিক নিপাত যাক' স্লোগান দিতে থাকেন প্রতিবাদীরা। তাঁদের মতে, এটাই শেষ যুদ্ধ। এবার দেশে ফিরবেন পাহালভি। রাজধানী তেহরান থেকে শুরু করে ইরানের ছোট গ্রামগুলিতেও পৌঁছে গিয়েছে আন্দোলনের ঝাঁজ। সেভাবে নেতা না থাকলেও পথে নেমে খামেনেইয়ের পতন চাইছেন আমজনতা।
পাহালভির ডাকে আমজনতা পথে নামতেই দমননীতি নিয়েছে ইরানের প্রশাসন। দেশজুড়ে বন্ধ হয়েছে ইন্টারনেট। দেশের বাইরে ফোন করাও নিষিদ্ধ। এহেন পরিস্থিতিতে ডোনাল্ড ট্রাম্পের কাছে সাহায্য চেয়েছেন পাহালভি। ইউরোপের অন্যান্য দেশগুলির কাছেও আবেদন জানিয়েছেন যেন তারা ট্রাম্পের সঙ্গে সহযোগিতা করেন। এহেন পরিস্থিতিতে খামেনেইকে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ট্রাম্প। স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, ইরানে যদি একজন প্রতিবাদীরও মৃত্যু হয় তাহলে পালটা মার দেবে আমেরিকাও।
গত দেড় সপ্তাহ ধরে বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়ুয়া থেকে শুরু করে আমজনতা-ইরানের সকলের মুখে একটাই স্লোগান, স্বৈরাচারীর পতন হোক। তাঁদের দাবি, শাহ বংশের হাতে আবারও ফিরে যাক ইরানের শাসন। পরিস্থিতি হাতের বাইরে চলে যাচ্ছে বুঝে সর্বশক্তি দিয়ে বিক্ষোভ থামানোর পথে হেঁটেছে খামেনেই প্রশাসন। আমেরিকার ‘হিউম্যান রাইটস অ্যাকটিভিস্ট নিউজ এজেন্সির’ রিপোর্ট অনুযায়ী, গত একসপ্তাহে ইরান পুলিশের হামলায় অন্তত ৩৫ জনের মৃত্যু হয়েছে, গ্রেপ্তার করা হয়েছে ১২০০ জনকে।
