মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বারবার দাবি করেছেন ইরানের সামরিক শক্তি এবং অস্ত্রভাণ্ডার প্রায় ধ্বংস করে দিয়েছে আমেরিকা। কোমড় ভেঙে গিয়েছে তেহরানের। কিন্তু ট্রাম্পের এই দাবি এবার খারিজ করে দিল খোদ একটি মার্কিন রিপোর্ট। সেখানে সাফ বলা হয়েছে, ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ভাণ্ডার এখনও অক্ষত রয়েছে।
বৃহস্পতিবার ৭৫ তম দিনে পড়েছে আমেরিকা-ইরান সংঘাত। এদিনই আমেরিকার এই গোপন রিপোর্টটি প্রকাশ্যে আসে। সেখানে দাবি করা হয়েছে, নতুন করে যাতে সংঘাত সৃষ্টি না হয়, তার জন্য স্থায়ী যুদ্ধবিরতি নিয়ে দু’পক্ষের আলোচনা চলছে। শুধু তা-ই নয়, ইরান তার বেশিরভাগ ক্ষেপণাস্ত্র ভাণ্ডারগুলির উপর পুনরায় নিয়ন্ত্রণ ফিরে পেয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে বিভিন্ন ক্ষেপণাস্ত্র কেন্দ্র, ভূগর্ভস্থ সংরক্ষণাগার ইত্যাদি। সেগুলি এখনও অক্ষতই রয়েছে। তবে হরমুজ প্রণালী বরাবর কয়েকটি অস্ত্রভাণ্ডার সম্পূর্ণ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে খবর।
রিপোর্টে বলা হয়েছে, হরমুজের কাছে প্রায় ৩০টি অস্ত্রভাণ্ডার এখন সক্রিয়। সেগুলিতে বিপুল পরিমাণ ক্ষেপণাস্ত্র মজুত রয়েছে। রিপোর্টটি প্রকাশ্যে আসার পরই উদ্বিগ্ন বিশেষজ্ঞদের একাংশ। তাঁদের দাবি, কৌশলগতভাবে বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ জলপথের কাছে এত বেশি সংখ্যক অস্ত্রভাণ্ডার থাকলে, তা পণ্যবাহী জাহাজগুলির নিরাপত্তা বিঘ্নিত হতে পারে। রিপোর্টটিতে আরও দাবি করা হয়েছে, ইরানের কাছে এখনও অস্থায়ী ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ ব্যবস্থাও অক্ষত রয়েছে।
রিপোর্ট অনুযায়ী, ৭০ শতাংশ অস্থায়ী ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ ব্যবস্থা সচল রেখেছে ইরান। সংঘাত শুরুর আগে যে পরিমাণ ক্ষেপণাস্ত্র মজুত ছিল, তার খুব বেশি হেরফের হয়নি। তেহরানের অস্ত্রভাণ্ডারে দূর পাল্লার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের পাশাপাশি স্বল্প দূরত্বের ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্রও রয়েছে, যা স্থল ও সমুদ্র - উভয় ক্ষেত্রে নিজের লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে সক্ষম।অন্যদিকে, উপগ্রহ চিত্রে দেখা গিয়েছে, দেশের প্রায় ৯০ শতাংশ ভূগর্ভস্থ ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটিগুলির অধিকার পুনরায় ফিরে পেয়েছে ইরান। তবে সবকটির কার্যক্ষমতা এক নয় বলে সূত্রের খবর।
