shono
Advertisement
Iran

পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধে ধ্বংস ৭ মার্কিন বিমান, কোন রণকৌশলে আমেরিকার পাঁজর ভাঙছে ইরান!

পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধে নেমে এখনও ৭টি বিমান খুইয়েছে আমেরিকা। যুদ্ধে ইরানের রণকৌশল দেখে বিস্মিত সমর বিশেষজ্ঞরাও।
Published By: Amit Kumar DasPosted: 07:40 PM Apr 04, 2026Updated: 09:06 PM Apr 04, 2026

২ এপ্রিল ১৯ মিনিটের ভাষণে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছিলেন, তাঁদের হামলায় ধ্বংস হয়ে গিয়েছে ইরানের বায়ুসেনা। তবে সেই ঘোষণার ২৪ ঘণ্টার মধ্যে আমেরিকার ২ যুদ্ধবিমান ধ্বংস করে ইরান বুঝিয়ে দিল, বিষয়টা এতটাও সহজ নয়। বরং ভবিষ্যতে আমেরিকাকে নাকানি-চোবানি খাওয়াতে পুরোদমে প্রস্তুত তারা। শুধু তাই নয় রিপোর্ট বলছে, পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধে নেমে এখনও ৭টি বিমান খুইয়েছে আমেরিকা। যুদ্ধে ইরানের রণকৌশল দেখে বিস্মিত সমর বিশেষজ্ঞরাও।

Advertisement

শুক্রবার ২ যুদ্ধবিমান ধ্বংস করে আমেরিকার পাঁজরে আঘাত হেনেছে ইরানের। হিসেব বলছে, ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধে নেমে এখনও পর্যন্ত খাতায়-কলমে ৭টি বিমান খুয়েছে আমেরিকা। যার শুরুটা হয়েছিল ২ মার্চ কুয়েতে। ভুল বোঝাবুঝির জেরে কুয়েতের হামলায় ধ্বংস হয় ৩টি এফ-১৫ যুদ্ধবিমান। এরপর ১২ মার্চ ইরাকে ধ্বংস হয় কেসি-১৩৫ ট্যাঙ্কার। মৃত্যু হয় বিমানে থাকা ৬ সদস্যের। ২৭ মার্চ সৌদির প্রিন্স সুলেমন এয়ারবেসে দুর্ঘটনায় ধ্বংস হয় একটি ই-৩ সেন্ট্রি বিমান। সর্বশেষ এই তালিকায় যুক্ত হল একটি এফ-১৫ই যুদ্ধবিমান ও একটি এ-১০ যুদ্ধবিমান। বিমান ভেঙে পড়ার ঘটনায় এখনও নিখোঁজ এক পাইলট। তাঁর সন্ধানেও গিয়েছিল ২ ব্ল্যাক হক কপ্টার। ইরানি সেনার ভয়ংকর মার খেয়ে ফিরে আসতে হয়েছে তাদের। শোনা যাচ্ছে, ইরানে নাকি ভেঙে পড়েছে একটি কপ্টার।

২ মার্চ কুয়েতে ধ্বংস হয় ৩টি এফ-১৫ যুদ্ধবিমান। এরপর ১২ মার্চ ইরাকে ধ্বংস হয় কেসি-১৩৫ ট্যাঙ্কার। মৃত্যু হয় বিমানে থাকা ৬ সদস্যের।

কিন্তু কোন রণকৌশলে আমেরিকাকে জব্দ করে চলেছে ইরানের সেনাবাহিনী। ওয়াকিবহাল মহলের মতে আসলে ইরানের রণকৌশল ধরতে যথেষ্ট বেগ পেতে হচ্ছে পেন্টাগনকে। আসলে ইরান জানে সরাসরি যুদ্ধে আমেরিকার সঙ্গে এঁটে ওঠা সম্ভব নয়, তাই ন্যূনতম অস্ত্রে মারণ আঘাত হানার উপরেই জোর দিয়েছে তারা এবং হামলা চলছে অতর্কিতে। ৩৫ দিন ধরে চলা যুদ্ধে ইরানে ব্যাপক আঘাত হানার পরও, এখনও পর্যন্ত ইরানের রণনীতি আমেরিকার বোধের বাইরে। শেষ যে দুই অত্যাধুনিক মার্কিন যুদ্ধবিমান ইরান ধ্বংস করেছে তাও সাধারণ 'মাজিদ সিস্টেমে'র মাধ্যমে।

জানা যাচ্ছে, আমেরিকা বা রাশিয়ার মতো বিরাট অত্যাধুনিক আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা নয় মাজিদ। এটি ট্রাকে বসানো ভ্রাম্যমান সাধারণ একটি প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা। দেখতে সামান্য হলেও কাজ যে অসামান্য তা ইতিমধ্যেই প্রমাণিত। মাজিদের কাজ হল আকাশ থেকে আসা যে কোনও রকম হুমকি শনাক্ত করে তাকে গুলি করে নামানো। মাজিদ এমন এক অস্ত্র যা ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্রকে মাঝ আকাশে ধ্বংস করতে সক্ষম। এটি রাডার নির্ভর নয়, মাজিদ কাজ করে ইনফ্রারেড গাইডেন্স সিস্টেমের ওপর। অর্থাৎ ক্ষেপণাস্ত্র বা যুদ্ধবিমানের প্রচণ্ড তাপ ট্র্যাক করতে পারে এই প্রযুক্তি। ফলে স্টিলথ (যাকে রাডারে খুঁজে পাওয়া যায় না) লক্ষ্যবস্তুতেও নির্ভুলভাবে আঘাত হানতে সক্ষম।

মাজিদের ইনফ্রারেড সেন্সরগুলোর পাল্লা ১৫ কিলোমিটার পর্যন্ত। তবে এর সঙ্গে যুক্ত হয় কাশিফ-৯৯ ফেজড-অ্যারে সিস্টেম। যা এর ট্র্যাকিং ক্ষমতাকে ৩০ কিমি পর্যন্ত বাড়িয়ে দেয়। মাজিদ ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণের পর আর কোনও পদক্ষেপের প্রয়োজন হয় না। স্বয়ংক্রিয়ভাবে এই ক্ষেপণাস্ত্র লক্ষ্যবস্তুকে শনাক্ত করে এবং মারণ আঘাত হানে। ট্রাকে বহনযোগ্য হওয়ায় সহজে একস্থান থেকে অন্য স্থানে নিয়ে যাওয়া যায়। ফলে যুদ্ধক্ষেত্রে শত্রুর জন্য এই ক্ষেপণাস্ত্র এক বিভীষিকা। নিচু দিয়ে উড়ে যাওয়া যে কোনও বিমান এর সহজ নিশানা। ইরানের এই আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ড্রোন, হেলিকপ্টার, নিচু দিয়ে উড়ে আসা বিমান এবং ক্রুজ মিসাইলের বিরুদ্ধে অত্যন্ত কার্যকর।

Sangbad Pratidin News App

খবরের টাটকা আপডেট পেতে ডাউনলোড করুন সংবাদ প্রতিদিন অ্যাপ

হাইলাইটস

Highlights Heading
Advertisement