সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: ভেনেজুয়েলায় মার্কিন অভিযানের কড়া নিন্দা করলেন নিউ ইয়র্কের মেয়র জোহরান মামদানি (Zohran Mamdani)। গোটা ঘটনাটিকে তিনি ‘যুদ্ধাপরাধ’ বলে অভিহিত করেছেন। এরপরই তিনি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ফোন করেন। সূত্রের খবর, ফোনালাপে মামদানি সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, ওয়াশিংটনের এই আগ্রাসনকে তিনি সমর্থন করেন না। একইসঙ্গে ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোর (Nicolas Maduro) ‘অপহরণের’ও তীব্র বিরোধিতা করেছেন তিনি।
সমাজমাধ্যমে একটি পোস্টে ভারতীয় বংশোদ্ভূত মামদানি লেখেন, ‘একতরফাভাবে একটি সার্বভৌম দেশের উপর এহেন আক্রমণ যুদ্ধাপরাধ। শুধু তাই নয়, এটি ফেডারেল ও আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন।’ তিনি আরও লেখেন, ‘শাসনব্যবস্থা পরিবর্তনের এই নির্লজ্জ প্রচেষ্টা সরাসরি নিউ ইয়র্কবাসীদের উপর প্রভাব ফেলে, যাঁদের মধ্যে রয়েছেন হাজার হাজার ভেনেজুয়েলার নাগরিক। তাঁরা এই শহরকে নিজের বাড়ি বলেন। প্রত্যেক নিউ ইয়র্কবাসীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা আমার কর্তব্য। আমরা গোটা পরিস্থিতির নজর রাখছি।’
দীর্ঘদিন ধরেই আমেরিকা-ভেনেজুয়েলার মধ্যে সামরিক উত্তেজনা চলছিল। আশঙ্কা সত্যি করে শনিবার ভোররাতে ভেনেজুয়েলার রাজধানী কারাকাস-সহ মিরান্ডা, আরাগুয়া এবং লা গুয়াইরা অঞ্চলে গোলাবর্ষণ করে মার্কিন সেনা। চালানো হয় বিমান হামলা। অন্ধকারে ঢেকে যায় ভেনেজুয়েলা। এরপরই মাদুরো এবং তাঁর স্ত্রীকে বন্দি করে আমেরিকায় নিজে যায় মার্কিন সেনা। বর্তমানে তাঁদের রাখা হয়েছে নিউ ইয়র্কের ডিটেনশন সেন্টারে। জানা গিয়েছে, মাদুরোর বিরুদ্ধে মাদক সন্ত্রাস, কোকেন আমদানি ও মারণাস্ত্র রাখার মতো বিস্ফোরক অভিযোগ তুলে মামলা দায়ের হয়েছে মার্কিন আদালতে। সেই সবকিছু বিচারের জন্যই তাঁদের আমেরিকায় নিয়ে আসা হয়েছে।
এই পরিস্থিতিতে ভেনেজুয়েলার ভাইস প্রেসিডেন্ট ডেলসি রডরিগেজকেই দেশের অন্তবর্তী প্রেসিডেন্ট হিসাবে বেছে নিয়েছে ভেনেজুয়েলার সুপ্রিম কোর্ট। আদালত জানিয়েছে, এখন থেকে দেশের প্রশাসনিক প্রধান এবং সামগ্রিক প্রতিরক্ষার দায়িত্বে থাকবেন রডরিগেজ। কুর্সিতে বসেই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে কড়া বার্তা দিয়েছেন তিনি। ভেনেজুয়েলায় মার্কিন অভিযানের কড়া নিন্দা করেন ডেলসি বলেন, “ভেনেজুয়েলা কোনওদিন কোনও সাম্রাজ্যের উপনিবেশ হবে না। কারও দাসত্ব করবে না। মাদুরোই আমাদের একমাত্র নেতা। অবিলম্বে তাঁকে এবং তাঁর স্ত্রীকে মুক্তি দিতে হবে।”
