সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: নিকোলাস মাদুরোর অনুপস্থিতিতে ভেনেজুয়েলার নেতারা সঠিক সিদ্ধান্ত নিলে আমেরিকা তাঁদের সঙ্গে কাজ করতে প্রস্তুত। না হলে কী করতে হবে, তা আমেরিকা জানে বলে হুঁশিয়ারি দিলেন মার্কিন বিদেশ সচিব মার্কো রুবিও।
মাদুরোকে আমেরিকা অপহরণ করে বন্দি করার পরেই ভেনেজুয়েলার সুপ্রিম কোর্ট সে দেশের দায়িত্ব তুলে দিয়েছেন ভাইস প্রেসিডেন্ট ডেলসি রড্রিগেজের হাতে। ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট হিসাবে দায়িত্ব পেয়ে আমেরিকাকে কড়া বার্তাও দিয়েছেন ডেলসি। বলেছেন, "আমরা কখনও কারও দাসত্ব করব না। কোনও সাম্রাজ্যের উপনিবেশ আর আমরা হব না। আমরা ভেনেজ়ুয়েলাকে রক্ষা করতে প্রস্তুত।" ঠিক তার পরেই ভেনেজুয়েলাকে আবার হুঁশিয়ারি দিল ওয়াশিংটন।
সংবাদমাধ্যমে দেওয়া সাক্ষাৎকালে রুবিও বলেন, "এখন ওঁরা (ভেনেজুয়েলার নেতারা) যা করবে, সে দিকে আমাদের নজর থাকবে। ওঁরা কী করে, সেটা আমরা দেখতে থাকব। আমি শুধু এটুকু জানি, ওঁরা যদি সঠিক সিদ্ধান্ত না নেন, তা হলে আমেরিকার আরও অনেক উপায় রয়েছে।" যদিও ঠিক কোন উপায়ের কথা রুবিও বলেছেন, তা স্পষ্ট নয়। তিনি নিজে তা স্পষ্ট করেননি। তবে অনেকের মত, ভেনেজুয়েলার উপর কিছু নিষেধাজ্ঞা চাপানোর কথাই বলতে চেয়েছেন রুবিও।
শুক্রবার গভীর রাতে ভেনেজুয়েলায় মাত্র দু'ঘণ্টার অভিযানে প্রেসিডেন্ট বাসভবনের শোওয়ার ঘর থেকে সস্ত্রীক মাদুরোকে তুলে নিয়ে গিয়ে বন্দি করেছে ডোনাল্ড ট্রাম্পের সেনা। আন্তর্জাতিক রাজনীতির ইতিহাসে এই ঘটনা নজিরবিহীন না হলেও, সাম্প্রতিক পরিস্থিতিতে এমন অভিযান অকল্পনীয় বলেই মনে করছেন অনেকে। গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে রাশিয়া, চিন, ভারত, ইরান এবং কিউবা। দক্ষিণ আমেরিকার বিভিন্ন দেশও তটস্থ। সীমান্তে সেনা মোতায়েন করেছে কলম্বিয়া। আবার আর্জেন্টিনার মতো দেশ ভেনেজুয়েলায় মার্কিন হানাকে সমর্থন করেছে।
বর্তমান পরিস্থিতিতে ভেনেজুয়েলার ভবিষ্যৎ কী হতে চলেছে, তা নিয়ে জল্পনা শুরু হয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প জানিয়েছেন, সুষ্ঠু ভাবে ক্ষমতার হস্তান্তর না হওয়া পর্যন্ত ভেনেজুয়েলা চালাবে আমেরিকাই। প্রয়োজনে সেনাও পাঠাতে পারে। যদিও ভেনেজুয়েলার সুপ্রিম কোর্টে মাদুরোর অনুপস্থিতিতে সে দেশের দায়িত্ব তুলে দিয়েছেন ভাইস প্রেসিডেন্ট ডেলসি রড্রিগেসের হাতে। ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট হিসাবে দায়িত্ব পেয়ে আমেরিকাকে কড়া বার্তাও দিয়েছেন ডেলসি। বলেছেন, "আমরা কখনও কারও দাসত্ব করব না। কোনও সাম্রাজ্যের উপনিবেশ আর আমরা হব না। আমরা ভেনেজ়ুয়েলাকে রক্ষা করতে প্রস্তুত।" এই পরিস্থিতিতে দীর্ঘস্থায়ী সংঘাতের আশঙ্কা করছেন অনেকে। ভেনেজুয়েলায় মার্কিন হানায় যে স্থিতাবস্থা নষ্ট হয়েছে, তা দীর্ঘদিন ধরে অব্যাহত থাকবে বলেই মনে করা হচ্ছে।
