সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: আল কায়েদা প্রধান ওসামা বিন লাদেনকে হত্যা অভিযানে সক্রিয় ভূমিকা ছিল পেন্টাগনের ‘নাইট স্টকারস’ হেলিকপ্টার ইউনিটের। গত শুক্রবার গভীর রাতে ভেনেজুয়েলায় রাজধানী কারাকাসে মার্কিন ডেল্টা বাহিনীর সঙ্গে ছিল ‘নাইট স্টকার্স’ইউনিটের বিশেষ প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত সদস্যরাও। সেই কারণেই দুঃসাহসিক তো বটেই একেবারে নিখুঁত অভিযানে ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে আটক করা সম্ভব হয়েছে। যার পর চওড়া হাসিতে ট্রাম্পের ঘোষণা দেন, ‘অপারেশন সাকসেসফুল’। কীভাবে কাজ করে ‘নাইট স্টকার্স’? এমন নামকরণের কারণ কী?
শনিবার ভোররাতে ভেনেজুয়েলার রাজধানী কারাকাসে অভিযান চালিয়ে মাদুরোকে অপহরণ করে আমেরিকায় নিয়ে আসে মার্কিন সেনা। এই অপারেশনের নেতৃত্ব দেয় আমেরিকার ‘ফার্স্ট স্পেশাল ফোর্সেস অপারেশনাল ডিটাচমেন্ট-ডেল্টা’। যা ডেল্টা নামেই পরিচিত। সঙ্গী ছিল ‘নাইট স্টকার্স’। রাতের অভিযানে বিশেষ পারদর্শীতার জন্যই এমন নামকরণ। ১৯৮১ সালে তৈরি হয় এই বাহিনী। যাদের পোশাকি নাম ১৬০ স্পেশাল অপারেশনস এভিয়েশন রেজিমেন্ট। যদিও ‘নাইট স্টকার্স’ হেলিকপ্টার ইউনিট নামেই এই বাহিনী অধিক পরিচিত।
রাতের অন্ধকারে আকাশপথে দক্ষতার কারণেই ‘নাইট স্টকার্স'কে ব্যবহার করেছে ডেল্টা। যেহেতু আমেরিকার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ অভিযানে আকাশপথে সাহায্য করাই এই বাহিনীর মূল কাজ। যদিও আনুষ্ঠানিক ভাবে ওয়াশিংটন বা পেন্টাগন থেকে ডেল্টা বা ‘নাইট স্টকার্স'-এর নাম উল্লেখ করা হয়নি। তবে যেভাবে রাতের অন্ধকারে অভিযান চালানো হয়েছে, তার সঙ্গে ‘নাইট স্টকার্স’-এর মিল রয়েছে।
প্রসঙ্গত, পাঁচ মাস আগে নিকোলাস মাদুরোর গ্রেপ্তারিতে পুরস্কার বৃদ্ধির ঘোষণা করেছিল আমেরিকা। সেই সময় ডোনাল্ড ট্রাম্পকে কার্যত চ্যালেঞ্জ ছুড়ে মাদুরো বলেছিলেন, “আসুন না, তুলে নিয়ে যান দেখি!” শুক্রবার গভীর রাতে (স্থানীয় সময় অনুযায়ী) অভিযান চালিয়ে ঠিক তা-ই করলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। শোওয়ার ঘর থেকে মাদুরো এবং স্ত্রীকে অপহরণ এবং বন্দি করে নিয়ে গেলেন আমেরিকায়! হেলায় এই কাজ করল ডেল্টা ও ‘নাইট স্টকার্স’-এর যৌথ অভিযান।
