সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: নিকোলাস মাদুরোকে উৎখাতের পরিকল্পনা পাঁচ বছর আগেই হয়ে গিয়েছিল। তার জন্য মাসের পর মাস ধরে মহড়াও চলেছে। শেষমেশ বড়দিনের ঠিক আগে ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্টকে অপহরণের জন্য পুরোপুরি প্রস্তুত হয় মার্কিন সেনা। কিন্তু শেষ মুহূর্তে বাতিল হয় সেই সিদ্ধান্ত। অবশেষে শুক্রবার স্থানীয় সময় রাত পৌনে ১১টায় সবুজ সংকেত দেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এর পরেই রাত ২টো নাগাদ অন্তত ২০টি মার্কিন সেনাঘাঁটি থেকে হেলিকপ্টার এবং যুদ্ধবিমান রওনা দেয় কারাকাসের উদ্দেশে। সব মিলিয়ে ঘণ্টা দুয়েকের অপারেশন। মাত্র আধ ঘণ্টায় প্রেসিডেন্টের বাসভবনের শোওযার ঘরে ঢুকে সস্ত্রীক মাদুরোকে তুলে নিউ ইয়র্কে নিয়ে আসে মার্কিন সেনা।
কিন্তু কেন বড়দিনের আগে কার্যকর করা গেল না মাদুরোকে অপহরণের এই অভিযান 'অপারেশন অ্যাবসোলিউট রিজলভ'? শনিবার সাংবাদিক বৈঠকে তারই জবাব দিয়েছেন আমেরিকার জয়েন্ট চিফস চেয়ারম্যান জেনারেল ড্যান কেইন। তিনি জানান, বছরের এই সময়ে ভেনেজুয়েলার আবহাওয়া খারাপ থাকে। যখন তখন আবহাওয়া বদলায়। আর এমনিতেই ভেনেজুয়েলা পাহাড়-পর্বত, সমুদ্রে ঘেরা। তাই ঝুঁকি নেওয়া যাচ্ছিল না। বড়দিনের আগে সমস্ত প্রস্তুতি সেরেও তা বাতিল করতে হয়। ড্যানের কথায়, "তার পর থেকে আমরা এত দিন অপেক্ষাই করছিলাম। যে মুহূর্তে আবহাওয়া ঠিক হয়েছে, আকাশ পরিষ্কার হয়েছে, সেই মুহূর্তে আমরা অপারেশন বাস্তবায়িত করার সিদ্ধান্ত নিই।"
মার্কিন গোয়েন্দাদের সূত্র জানিয়েছে, গোটা অপারেশনের জন্য অনেক দিন আগেই অল্প কয়েকজনকে নিয়ে একটি ছোট দল তৈরি করেছিল সিআইএ। তাঁদের কাজ ছিল মাদুরোর ডেরার খবর সংগ্রহ। ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্টের ঘনিষ্ঠদের সঙ্গে মিশে গিয়ে মাদুরোর প্রতিটি পদক্ষেপ জেনে নিয়েছিল তাঁরা। মাদুরোর নিরাপত্তা, জীবনযাপন, খাওয়া দাওয়ার সব তথ্য পাঠানো হয় সিআইএ দপ্তরে। সেই সব তথ্য খতিয়ে দেখে মাদুরোর সেফ হাউসে ঢোকার ব্লুপ্রিন্ট তৈরি করে ফেলে মার্কিন ডেল্টা ফোর্স। দুর্ভেদ্য সেই সেফ হাউসের নিরাপত্তাকে তছনছ করতে আমেরিকায় বানানো হয় সেফ হাউসের প্রতিকৃতি। সেখানে মাদুরো কোথায় থাকেন, সেই ঘরে কীভাবে ঢুকতে হবে, সেখানে তাঁকে বন্দি করার পর কোন পথে বেরিয়ে আসতে হবে সবটাই ছিল নিখুঁতভাবে সাজানো। শুক্রবার রাতে অপারেশন ‘অ্যাবসলুট রিজলভ’-এর ছাড়পত্র মিলতেই মাঠে নেমে পড়ে ডেল্টা বাহিনী। প্রথম ধাপে পুরো কারাকাসকে অন্ধকার করে দেওয়া হয়। প্রস্তুত হয়ে যায় ১৫০টি সামরিক বিমান। যার মধ্যে ছিল এফ-১৮, এফ-২২, এফ-৩৫, ইএ-১৮, ই-২ এবং বি-১ বম্বার।
