সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: পিৎজায় লুকিয়ে যুদ্ধের সংকেত! অতীতের মতো ভেনেজুয়েলা অভিযানের রাতেও পেন্টাগনের শহরে নজরে পড়ল বিশেষ তৎপরতা। অন্যান্য দিনের তুলনায় ৩ জানুয়ারির মধ্যরাতে বিপুল সংখ্যায় অর্ডার আসতে থাকে ভার্জিনিয়ার আর্লিংটন শহরের পিৎজার দোকানগুলিতে। ঘটনা সাধারণ হলেও, একে একে দুই করতে বিশেষ অসুবিধা হয়নি শহরবাসীর। 'পেন্টাগন পিৎজা থিয়োরি'র পুরনো অঙ্কে অনেকেই আশঙ্কা করছিলেন বিশ্বে ফের বড় কিছু ঘটতে চলেছে। পরদিন সকালেই খবর আসে ভেনেজুয়েলায় হামলা চালিয়েছে মার্কিন সেনা।
সহজ ভাষায় বলতে গেলে 'পেন্টাগন পিৎজা থিয়োরি' হল আমেরিকার সামরিক অভিযানের ফেলে যাওয়া এক পদচিহ্ন। যা সেই শীতযুদ্ধের সময় থেকে আজও সক্রিয়। ভেনেজুয়েলা হামলার (USA attacks Venezuela) সময়েও তাতে কোনও ছেদ পড়েনি। এক্স হ্যান্ডেলে 'পেন্টাগন পিৎজা রিপোর্ট' নামে একটি অ্যাকাউন্টের রিপোর্ট অনুযায়ী, ৩ জানুয়ারি রাত ২টো বেজে ৪ মিনিটে পেন্টাগনের নিকটবর্তী 'Pizzato Pizza' নামের রেস্তোরাঁয় হঠাৎ করেই অর্ডারের ঢেউ নামে। পরবর্তী ৯০ মিনিটে অর্থাৎ ৩টে ৪৪ মিনিট নাগাদ কার্যত খালি হয়ে যায় দোকানের সমস্ত খাবার। এটা সরকারি রিপোর্ট না হলেও, জানা যায় তত্ত্বের সূত্রপাত শীত যুদ্ধের সময়ে। সোভিয়েত বিশ্লেষকরা লক্ষ্য করেছেন যখনই আমেরিকা কোনও বড় পদক্ষেপ নেয়, তখনই সিআইএ এবং পেন্টাগনের কাছের পিৎজা দোকান গুলিতে বিক্রি বেড়ে যায় ব্যাপকভাবে।
আসলে সামরিক অভিযানের সময়ে সিআইএ ও পেন্টাগনের আধিকারিকদের ছুটি বাতিল করে মার্কিন সরকার। সারারাত ধরে চলে কাজ। খোদ প্রেসিডেন্টও হোয়াইট হাউসে বসে সমস্ত কিছুর উপর নজরদারি চালিয়ে যান। রাতভর কাজ চলার কারণে সেখানকার কর্মীরা রাতের খাবারের জন্য আশেপাশের দোকানে পিৎজা অর্ডার করেন। যার জেরে মধ্যরাতে পিৎজা বিক্রির ধুম লেগে যায় দোকানগুলিতে। পেন্টাগন থেকে আসতে থাকে শয়ে শয়ে খাবারের অর্ডার।
শুধু ভেনেজুয়েলা অভিযান নয়, এর আগে ইরানের পরমাণু ঘাঁটিতে মার্কিন বি-২ বোমারু বিমানের হামলার সময়েও একইভাবে মধ্যরাতে পেন্টাগনের শহরে পিৎজা বিক্রির ধুম লেগেছিল। তার ঘণ্টাখানেক পরেই আসে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিজয়বার্তা। ভেনেজুয়েলার ক্ষেত্রেও তার ব্যতিক্রম হয়নি।
