সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: ভেনেজুয়েলায় (Venezuela) হামলায় অজ্ঞাত এক 'রহস্যময় অস্ত্র' ব্যবহার করেছিল মার্কিন সেনা। এমনটাই দাবি প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোর নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা এক সেনাকর্মীর। নিউ ইয়র্ক পোস্টের একটি প্রতিবেদন অনুযায়ী, মাত্র ২০ জন মার্কিন সেনার হামলায় আশ্চর্য ভাবে নাস্তানাবুদ হয়েছিল প্রেসিডেন্টের সশস্ত্র পাহারাদাররা। তাঁদের নাক থেকে রক্ত ঝরছিল, কারও কারও রক্তবমিও শুরু হয়েছিল।
গত ৩ জুলাই গভীর রাতে ভেনেজুয়েলার রাজধানী কারাকাসে হামলা চালায় মার্কিন (USA) সেনা। মাত্র আধ ঘণ্টার অপারেশনে প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে অপহরণ করা হয়। ওই হামলার বিষয়ে নিউ ইয়র্ক পোস্টের সাক্ষাৎকারে মাদুরোর এক নিরাপত্তারক্ষী জানান, সামরিক অভিযান হওয়ার আগে পর্যন্ত কিছুই টের পাওয়া যায়নি। হঠাৎ ভেনেজুয়ালার রেডার অকেজো হয়ে গিয়েছিল। প্রাথমিক ভাবে দু'টি ড্রোনকে দেখা যায় আকাশে। তখনও পরিস্থিতির গুরুত্ব আন্দাজ করতে পারেননি প্রেসিডেন্টের নিরাপত্তারক্ষীরা।
যদিও কয়েক মুহূর্ত পরেই একঝাঁক ড্রোন দেখা যায় প্রেসিডেন্টের সেফ হাউসের কাছে। মাদুরোর নিরাপত্তারক্ষী জানান, ওই ড্রোনের পাশাপাশি ৮-৯টি হেলিকপ্টার দেখা যায় আকাশে। এর পরেই প্রেসিডেন্ট হাউসের দিকে ঝাঁকে ঝাঁকে গুলি করে উড়ে আসে। 'মনে হচ্ছিল মিনিটে ৩০০ রাউন্ড গুলি ধেয়ে আসছে! একে একে লুটিয়ে পড়েন আমাদের সেনারা।" এরপর একটি বোমা বিস্ফোরণের শব্দ হয়। সেই শব্দের তীব্রতায় মাথা ফেটে যাওয়ার মতো অনুভব হয়েছিল মাদুরোর পাহারাদারদের। সাক্ষাৎকারে মাদুরের নিরাপত্তারক্ষী দাবি করেন, বিস্ফোরণের পরেই ভেনেজুয়েলার সেনাদের নাক থেকে রক্ত ঝরতে শুরু করেছিল। কারও কারও রক্তবমি শুরু হয়। মৃত্যুর কোলে লুটিয়ে পড়েন সকলে।
নিউ ইয়র্ক পোস্টকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে মাদুরোর নিরাপত্তারক্ষী দাবি করেছেন, বোমার শব্দের পরে যেভাবে রক্তবমি শুরু হয়েছিল প্রেসিডেন্টের সেফ হাউসের দায়িত্ব থাকা নিরাপত্তারক্ষীদের, তাতে মনে হয়েছে কারাকাসে রহস্যময় কোনও বোমা ফেলেছিল মার্কিন সেনা। যা তারা ইতিপূর্বে ব্যবহার করেনি। যদিও এই বিষয়ে এখনও পর্যন্ত কোনও প্রতিক্রিয়া দেয়নি হোয়াইট হাউস।
