সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: গণবিক্ষোভে উত্তাল ইরানে দেশবাসীকে পালটা হুংকার তেহরানের ইসলামি শাসকদের। শনিবার চলতি অশান্তির অধ্যায় দ্বিতীয় সপ্তাহে পড়ল। ক্ষমতাসীন শাসকের বিরুদ্ধে মূল্যবৃদ্ধি, মুদ্রার দামের পতন রোধে ব্যর্থতার অভিযোগের পাশাপাশি মতপ্রকাশের স্বাধীনতা চেয়ে দেশের একের পর এক শহরে আছড়ে পড়ছে আমজনতার অসন্তোষ। মোকাবিলায় চলছে প্রবল দমনপীড়ন। যার বলি হয়েছেন অনেক মানুষ। উত্তপ্ত ইরানে মৃতের সংখ্যা বেড়ে হল ১১৬।
এই পরিস্থিতিতে ইরানের অ্যাটর্নি জেনারেল মহম্মদ মোবাহেদি আজাদের হুঁশিয়ারি, এবার কেউ বিক্ষোভে শামিল হলেই তাঁকে 'ঈশ্বরের শত্রু' তকমা দিয়ে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হবে। এমনকী 'দাঙ্গাকারীদের' সাহায্য করলেও একই শাস্তি মিলবে বলে হুংকার দিয়েছেন তিনি। দেশজুড়ে ইন্টারনেট, টেলিফোন পরিষেবা বন্ধ থাকায় বাইরের দুনিয়া থেকে বিচ্ছিন্ন ইরান। তার মধ্যেই নানা সূত্রে প্রকাশ্যে আসা খবরে ভয়াবহ পরিস্থিতির ছবি স্পষ্ট হচ্ছে। এখনও পর্যন্ত সেদেশের পুলিশের হাতে আটক হয়েছেন ২৩০০-রও বেশি আন্দোলনকারী। তবে ইরানের সরকারি টেলিভিশনে অবশ্য ফলাও করে দেশের নিরাপত্তা বাহিনীর ক্ষয়ক্ষতির খবর প্রচার করা হচ্ছে। ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতোল্লা আলি খামেনেই আমেরিকার হুঁশিয়ারি উড়িয়ে বিক্ষোভ গুঁড়িয়ে দিতে বলছেন।
অ্যাটর্নি জেনারেলের বিবৃতিতে স্পষ্ট নির্দেশ, যাঁরা রাষ্ট্রের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করে অরাজগতা ছড়াচ্ছেন, দেশের উপর বিদেশি আধিপত্য চাইছেন, বিচারকরা যেন দেরি না করে তাঁদের বিরুদ্ধে অভিযোগ ঘোষণা করে বিচারের ভিত তৈরি করে রাখেন। কোনওরকম শৈথিল্য, দরদ, প্রশ্রয় চলবে না। তার মধ্যেই বিক্ষোভকারীদের পাশে থাকার বার্তা দিয়ে মার্কিন বিদেশসচিব মার্কো রুবিও। তিনি তাঁর এক্স হ্যান্ডলে লেখেন, 'ইরানের সাহসী জনতাকে সমর্থন করে আমেরিকা। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে নিয়ে ছেলেখেলা করবেন না। উনি যখন কিছু করবেন বলেন, তখন সেটা করেই ছাড়েন।'
